Dhaka Mail Logo

ককপিট

উড়ন্ত বিমানের যাত্রীদের অক্সিজেন লাগে না কেন?

এভিয়েশন ডেস্ক

০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

মাটি থেকে হাজার হাজার ফুট ওপরে বাতাসের চাপ এতই কম থাকে যে, সেখানে বুক ভরে শ্বাস নেওয়া তো দূরের কথা বেঁচে থাকাই অসম্ভব। অথচ মেঘের ওপর দিয়ে তীব্র গতিতে ছুটে চলা বিমানের ভেতরে যাত্রীরা বাড়তি অক্সিজেন ছাড়াই দিব্যি আড্ডা দিচ্ছেন, খাচ্ছেন কিংবা ঘুমিয়ে নিচ্ছেন! প্রকৃতির এই অমোঘ নিয়মকে ফাঁকি দিয়ে আকাশের বুকে কীভাবে ডানা মেলছে উড়োজাহাজ? আর কেনই বা উড়ন্ত বিমানের যাত্রীদের আলাদা করে কোনো অক্সিজেন লাগে না কখনো ভেবেছেন কি? চলুন জেনে নিই-

flight_attendent
বিমানে যাত্রীদের সেবায় বিমানবালা

এই রহস্যের মূলে রয়েছে বিমানের ভেতরের কৃত্রিম বাতাস। বিমান আকাশে উড্ডয়নের সঙ্গে সঙ্গে যান্ত্রিক উপায়ে যাত্রীদের জন্য কেবিনের ভেতরে বাড়তি বাতাস পাম্প করা হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ব্লিড এয়ার’। আর বিমানবালারা বলেন ‘কেবিন প্রেসারাইজড’।

আরও পড়ুন: ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় কাতারগামী বিমানের যাত্রীদের বিক্ষোভ 

এই প্রযুক্তির কারণেই আকাশে উড়লেও কেবিনের ভেতরে স্থলভাগের মতো স্বাভাবিক চাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা বজায় থাকে। ফলে কোনও অসুবিধা ছাড়াই যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে শ্বাস নিতে পারেন। এমনকি বিমান যখন মাটিতে নামতে শুরু করে, তখনো ধীরে ধীরে এই বাড়তি বাতাস বের করে ভেতরের ও বাইরের চাপ সমান রাখা হয়।

oxiyen_mask
যাত্রীদের অক্সিজেন মাস্ক পরার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বিমানবালা

তবে কোনো কারণে এই যান্ত্রিক ব্যবস্থাটি ব্যাহত হলে  তখনই অক্সিজেনের প্রশ্নটি সামনে আসে। মাঝআকাশে প্রচণ্ড ঝড়, দুর্যোগ বা বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণে কেবিনের ভেতরের এই কৃত্রিম বাতাসের চাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে। এমন আপৎকালীন পরিস্থিতিতেই মূলত যাত্রীদের বাঁচানোর জন্য মাথার ওপর থেকে হলুদ রঙের অক্সিজেন মাস্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে আসে।

আরও পড়ুন: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট স্থগিত

তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই অক্সিজেন মাস্ক সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। আর এই ১৫ মিনিটের মধ্যেই পাইলট উড়োজাহাজটিকে অনেক উঁচুপথ থেকে নামিয়ে একটি নিরাপদ ও কম উচ্চতায় নিয়ে আসেন। এই উচ্চতায় যাত্রীরা মাস্ক ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চারপাশের বাতাস থেকে অক্সিজেন নিতে পারেন।

aeroplane-wings
আকাশে উড্ডয়মান বিমান

জরুরি অবস্থায় কেবিনে অক্সিজেনের অভাব হলে মানুষের শরীরে ‘হাইপক্সিয়া’ দেখা দেয়। এর ফলে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে। এই ১৫ মিনিটের কৃত্রিম অক্সিজেন মূলত যাত্রীদের সেই বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে। তাই জরুরি সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে অক্সিজেন মাস্কটি সঠিক নিয়মে দ্রুত পরে নেওয়া উচিত।

PIC-Oxygen-Masks-1
বিমানে জরুরি অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে আসা অক্সিজেন মাস্ক

প্রথমে মাস্কটি দিয়ে মুখ ও নাক পুরোপুরি ঢেকে, পেছনের প্লাস্টিকের ফিতাটি মাথার সঙ্গে শক্ত করে আটকে নিতে হবে। নিজের মাস্ক ঠিকমতো পরার পর অন্যকে সাহায্য করা উচিত। যাদের হার্টের রোগ বা হাঁপানির সমস্যা আছে, নিরাপদ উচ্চতায় না নামা পর্যন্ত এই ১৫ মিনিট তাদের টানা মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।

তথ্যসূত্র: এবিপি


এএ