অটোমোবাইল ডেস্ক
০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
শীতের আমেজ বাতাসে। এই সময় সকালে বাইক বা স্কুটার স্টার্ট করতে গিয়ে অনেকেই সমস্যায় পড়েন। অফিস, কলেজ কিংবা জরুরি কাজে বেরোনোর তাড়া রয়েছে, অথচ বারবার কিক মারার পরেও বা সেল্ফ স্টার্ট দেওয়ার পরেও বাইক চালু হচ্ছে না—এমন পরিস্থিতি বেশ বিরক্তিকর।
তাপমাত্রা অনেকটা কমে গেলে ইঞ্জিনের তাপমাত্রাও নেমে যায়। এর ফলে ইঞ্জিন অয়েল তুলনামূলক ঘন হয়ে পড়ে। তখন ইঞ্জিনের চলমান অংশগুলিতে তেল পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগে। পাশাপাশি ক্র্যাঙ্কশ্যাফ্ট ঘোরাতেও বেশি শক্তির প্রয়োজন হতে পারে।
কম তাপমাত্রায় পেট্রল বা ডিজেলের বাষ্পীভবনও কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে এয়ার-ফুয়েল মিশ্রণের দহন ঠিকমতো না হলে ইঞ্জিন স্টার্ট নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, বারবার সেল্ফ স্টার্ট দিলে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শীতের সকালে বাইক বা স্কুটার সহজে স্টার্ট করতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
১. চোক ব্যবহার করুন
কার্বুরেটরযুক্ত বাইকে ঠান্ডা ইঞ্জিন স্টার্ট করার সময় চোক কাজে আসতে পারে। চোক চালু করলে এয়ার-ফুয়েল মিশ্রণে জ্বালানির অনুপাত বেড়ে যায়, ফলে ঠান্ডা ইঞ্জিন স্টার্ট নেওয়া সহজ হয়। বাইক চালু হওয়ার পর ইঞ্জিন কিছুটা স্থিতিশীল হলে চোক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনুন।
তবে মনে রাখবেন, সব বাইকে চোক থাকে না। আধুনিক ফুয়েল-ইনজেকশন (FI) বাইকে সাধারণত ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা নিজেই ঠান্ডা ইঞ্জিনের জন্য জ্বালানির মিশ্রণ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই নিজের নির্দেশিকা মেনে চলুন।
২. সেলফের বদলে কিক ব্যবহার করতে পারেন
শীতের সকালে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কিছুটা কমে যেতে পারে। ফলে বারবার সেলফ স্টার্ট দিলে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আপনার বাইকে কিক স্টার্টের ব্যবস্থা থাকলে ইগনিশন চালু করে কিক ব্যবহার করতে পারেন। এতে সেল্ফ মোটরের ওপর নির্ভরতা কমবে। তবে কিক স্টার্ট থাকলেই যে সব ক্ষেত্রে বাইক চালু হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

৩. বারবার থ্রটল ঘোরাবেন না
অনেকেই বাইক স্টার্ট করার সময় বারবার অ্যাক্সিলারেটর বা থ্রটল ঘোরান। কিন্তু এতে সবসময় সুবিধা হয় না। বিশেষ করে কার্বুরেটরযুক্ত বাইকে অতিরিক্ত জ্বালানি ঢুকে গেলে ইঞ্জিন ফ্লাডিংয়ের সমস্যা হতে পারে। ফলে স্টার্ট নিতে আরও অসুবিধা হয়। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রয়োজন না হলে থ্রটল না ঘুরিয়েই ইঞ্জিন স্টার্ট করার চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুন: সেলফের পরিবর্তে কিক দিয়ে বাইক স্টার্ট করা কি ভালো?
৪. স্টার্ট হওয়ার পর কিছুক্ষণ সময় দিন
বাইক স্টার্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জোরে চালানো শুরু করবেন না। প্রথমে কিছুক্ষণ ইঞ্জিনকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দিন। এতে ইঞ্জিন অয়েল চলমান অংশগুলিতে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। তবে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখে ইঞ্জিন গরম করার প্রয়োজন নেই। কয়েক মুহূর্ত পর ধীরে ও মসৃণভাবে চালানো শুরু করুন।
৫. এই বিষয়গুলোও খেয়াল রাখুন
উপরের পদ্ধতিগুলো মেনে চলার পরেও বাইক স্টার্ট না হলে স্পার্ক প্লাগ, এয়ার ফিল্টার এবং ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা করানো উচিত। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ মেকানিকের সাহায্য নিন। শীতকালে বাইক শুকনো ও ঢাকা জায়গায় পার্ক করাও ভালো। এতে শিশির ও অতিরিক্ত ঠান্ডার সরাসরি প্রভাব কিছুটা কমানো যায়।
এজেড