অটোমোবাইল ডেস্ক
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে এখনই বড়সড় আগ্রাসী পদক্ষেপ করতে চাইছে না হোন্ডা মোটরসাইকেল অ্যান্ড স্কুটার ইন্ডিয়া (এইচএমএসআই)। বরং ব্যবহৃত ইলেকট্রিক স্কুটার ও মোটরসাইকেলের বাজার কোন দিকে এগোচ্ছে, গ্রাহকরা পুরনো ইভি কিনতে কতটা আগ্রহী এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ব্যাটারির অবস্থা কেমন থাকছে—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই বাজার সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে হোন্ডা।
সংস্থার প্রেসিডেন্ট, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুৎসুমু ওতানি জানিয়েছেন, ইলেকট্রিক টু-হুইলারের ক্ষেত্রে শুধু নতুন মডেল বাজারে আনলেই হবে না, গাড়ির পুনর্বিক্রয়মূল্য বা রিসেল ভ্যালু কীভাবে ধরে রাখা যায় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহৃত ইভির বাজার কতটা বিকশিত হচ্ছে তা বুঝেই ভবিষ্যতের কৌশল নির্ধারণ করতে চায় তারা।
কেন ব্যবহৃত ইভির বাজার নিয়ে চিন্তিত হোন্ডা
পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেল ও স্কুটারের ক্ষেত্রে বহু গ্রাহক ১০ বছর বা তারও বেশি সময় গাড়ি ব্যবহার করেন। কিন্তু ইলেকট্রিক টু-হুইলারের ক্ষেত্রে ব্যাটারির আয়ু, ভবিষ্যতে ব্যাটারি বদলানোর খরচ এবং পুরনো গাড়ির বিক্রয়মূল্য নিয়ে এখনও অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। হোন্ডার মতে, এই বিষয়গুলোর সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে ইলেকট্রিক গাড়ির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বাড়ানো কঠিন হতে পারে। বিশেষত, প্রথম প্রজন্মের ইলেকট্রিক টু-হুইলারগুলো এখন ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে প্রবেশ করতে শুরু করায় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আচরণ বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ওয়েবসাইট অটোকার প্রফেশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওতানি বলেন, গাড়ির পুনর্বিক্রয়মূল্য কীভাবে বজায় রাখা যায় এবং সময়ের সঙ্গে গাড়ির মূল্য কীভাবে ধরে রাখা সম্ভব তা বিশ্লেষণ করছে সংস্থা। তার কথায়, বিষয়টি শুধু নতুন মডেল বাজারে আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

তিন বছরের মধ্যে স্পষ্ট হবে বাজারের গতিপ্রকৃতি
হোন্ডার কাছে এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কয়েক বছর ব্যবহারের পর ইলেকট্রিক স্কুটার কিনতে গ্রাহকরা কতটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি পুরনো ইভির ব্যাটারি বদলানোর প্রয়োজনীয়তা, রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এবং পুনর্বিক্রয়মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে—সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওতানির মতে, আগামী তিন বছরের মধ্যে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক টু-হুইলারের বাজার সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ভারতের ইভি বাজারে হোন্ডা আরও আগ্রাসীভাবে এগোবে কি না তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। সংস্থাটির ধারণা, একটি কার্যকর সেকেন্ড-হ্যান্ড ইভি বাজার তৈরি হলে নতুন ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা বৃদ্ধিতেও সহায়তা মিলতে পারে।
স্মার্টফোনের মতো ব্যাটারি হেলথ সূচক
ইলেকট্রিক টু-হুইলারের ব্যাটারির অবস্থা কীভাবে নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা যাবে তা নিয়ে কাজ করছে হোন্ডা। বর্তমানে স্মার্টফোনে ব্যাটারির স্বাস্থ্য বা ব্যাটারি হেলথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে ইভির ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্ভরযোগ্য মূল্যায়ন পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার আগে ব্যাটারি কতটা কার্যকর রয়েছে, তার আয়ু কতটা অবশিষ্ট এবং ভবিষ্যতে সেটি বদলাতে হতে পারে কি না তা জানা ক্রেতাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোন্ডা মনে করছে, ব্যাটারির স্বাস্থ্য যাচাইয়ের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি হলে পুরনো ইভি কেনাবেচার ক্ষেত্রে আস্থা বাড়বে।
ইলেকট্রিক স্কুটারের পোর্টফোলিও বাড়াচ্ছে হোন্ডা
ব্যবহৃত ইভির বাজার নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি ভারতে নিজেদের ইলেকট্রিক টু-হুইলারের পরিসর বাড়ানোর কথাও ভাবছে হোন্ডা। সংস্থাটি অ্যাক্টিভা ই, কিউসি১ এবং কিউসি৩-এর মতো বৈদ্যুতিক মডেল বাজারে এনেছে। গত সেপ্টেম্বরে কিউসি৩ মডেলটি ১.৩৫ লক্ষ রুপি এক্স-শোরুম দামে লঞ্চ করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এর বিক্রি পাঁচটি শহরে সীমাবদ্ধ রাখা হলেও ভবিষ্যতে আরও ইলেকট্রিক পণ্য আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাটারি সোয়াপিং ও সাবস্ক্রিপশনে নজর
ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি বদল বা ব্যাটারি সোয়াপিং ব্যবস্থার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে হোন্ডা। বিশেষ করে ডেলিভারি কর্মী এবং অন্যান্য পেশাদার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে, কারণ চার্জ দেওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হলে তাদের কাজের সময় নষ্ট হয়।
আরও পড়ুন: পেট্রোল নাকি ইলেকট্রিক স্কুটার: খরচের হিসেবে কোনটি এগিয়ে?
অন্যদিকে ব্যক্তিগত গ্রাহকদের জন্য ব্যাটারি সাবস্ক্রিপশন একটি বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে। এই মডেলে ব্যাটারির মালিকানা সরাসরি গ্রাহকের হাতে না থেকে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কাছে থাকে। ফলে ব্যাটারি বদলানোর খরচ এবং ভবিষ্যতের পুনর্বিক্রয়মূল্য নিয়ে যাদের উদ্বেগ রয়েছে, তাদের কাছে এই ব্যবস্থা আকর্ষণীয় হতে পারে।
ইভি বাজারে প্রতিযোগিতার চিত্র
ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে হোন্ডার বর্তমান উপস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এখনও অনেকটাই কম। সম্প্রতি এক মাসের নিবন্ধনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাজারে টিভিএস, বাজাজ, এথার এবং হিরোর ভিডা ব্র্যান্ডের বড় আধিপত্য থাকলেও হোন্ডার বিক্রি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম ছিল।
এই পরিস্থিতিতে হোন্ডার সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে—একদিকে নতুন ইলেকট্রিক মডেলের মাধ্যমে বাজারে উপস্থিতি বাড়ানো, অন্যদিকে ব্যাটারির আয়ু, ব্যবহৃত গাড়ির মূল্য এবং দীর্ঘমেয়াদি মালিকানার খরচ নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগ কমানো। দ্রুত বাজার সম্প্রসারণের পরিবর্তে গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা বুঝে এগোতেই পছন্দ করছে এই অটোমেকার।
এজেড