অটোমোবাইল ডেস্ক
১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
পণ্য পরিবহনের মূল শক্তি বলা চলে মালবাহী ট্রাককে। প্রতিদিন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও ভারী মালামাল পৌঁছে দিতে এসব যান নিরবিচ্ছিন্নভাবে পথ চলছে। তবে বর্তমানে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং অতিরিক্ত খরচের কারণে ট্রাকের জ্বালানি সাশ্রয় বা মাইলেজের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিবহন ব্যবসায়ী ও চালক উভয়কেই প্রতিনিয়ত হিসাব কষতে হয় নির্দিষ্ট দূরত্ব পাড়ি দিতে ঠিক কত লিটার তেলের প্রয়োজন এবং এতে মোট খরচ কত হচ্ছে।

সাধারণত গাড়ির আকার, ধারণক্ষমতা এবং ইঞ্জিনের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে মাইলেজের তফাত দেখা যায়। বাজারে থাকা হালকা ও মাঝারি ধরনের ছোট ট্রাক, যেমন টাটা ৪০৭ বা আইশার ট্রাকে প্রতি লিটার ডিজেলে গড়ে ৭ থেকে ৯ কিলোমিটার পর্যন্ত পাড়ি দেওয়া সম্ভব। এই ধরনের ছোট ট্রাক যদি একটানা ৫০০ কিলোমিটার পথ চলে, তবে এতে প্রায় ৫৫ থেকে ৭০ লিটার ডিজেল ব্যয় হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা হিসেবে ধরলে এই দূরত্বের জন্য মোট জ্বালানি খরচ দাঁড়ায় ৭,৪২৫ টাকা থেকে ৯,৪৫০ টাকার মতো।

অন্যদিকে ১০ বা ১২ চাকার ভারী বাণিজ্যিক ট্রাকগুলোর ক্ষেত্রে তেলের খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ওজন বহনের কারণে এসব ট্রাকে ১ লিটার ডিজেলে প্রায় ৪.৫ থেকে ৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা যায়। সেই হিসেবে একটি ভারী ট্রাক ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় ৮৫ থেকে ১১০ লিটার তেল গ্রহণ করে। লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা ধরে হিসাব করলে এই দীর্ঘ ভ্রমণের পেছনে তেলের খরচ বাদেই লাগে প্রায় ১১,৪৭৫ টাকা থেকে ১৪,৮৫০ টাকা।
আরও পড়ুন: ট্রাকের পেছনে কেন লেখা থাকে 'Horn Ok Please’
_20261012_094351641.jpeg)
সবচেয়ে বেশি জ্বালানি খরচ হয় ৩০ থেকে ৪০ টন পণ্য বহনে সক্ষম মাল্টি-অ্যাক্সেল ট্রেলারে। অত্যধিক ওজনের কারণে এগুলো প্রতি লিটার ডিজেলে মাত্র ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। ৫০০ কিলোমিটার চলাচলের জন্য এমন ট্রেলারে প্রয়োজন হয় ১২৫ থেকে ১৬৫ লিটার ডিজেল, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬,৮৭৫ টাকা থেকে ২২,২৭৫ টাকা পর্যন্ত।

ট্রাকের এই অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের পেছনে মূল কারণ হিসেবে কাজ করে গাড়ির ধারণক্ষমতা ও লোডের পরিমাণ। ট্রাকে মালামালের চাপ যত বাড়ে, ইঞ্জিনের ওপর প্রভাবও তত বেশি পড়ে, ফলে মাইলেজ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। এছাড়া আঁকাবাঁকা ও খারাপ সড়ক, দীর্ঘ যানজট, সময়মতো গাড়ির ইঞ্জিন সার্ভিসিং না করা কিংবা টায়ারে সঠিক প্রেশার না থাকার কারণেও তেলের অপচয় বেশি হয়। সঠিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালানো এবং নিয়মিত দেখভাল করলে এই অপচয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এজেড