Dhaka Mail Logo

অটোমোবাইল

বিএমডব্লিউ জেড৪ এর আদলে স্পোর্টস কার আনল বোভেনসিপেন

অটোমোবাইল ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ এএম

জার্মানির বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোভেনসিপেন বিএমডব্লিউ জেড৪ এম৪০আই মডেলকে ভিত্তি করে একটি নতুন স্পোর্টস রোডস্টার উন্মোচন করেছে। 'স্পাইডার' নামের এই দুই সিটের সীমিত সংস্করণের গাড়িটি সম্পূর্ণ হাতে তৈরি করা হবে এবং বিশ্ববাজারে এর মাত্র ৯৯টি ইউনিট তৈরি করা হবে। জাগাটো এবং ০৫ জিটি মডেলের পর এটি এই প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় প্রোডাকশন মডেল। গাড়িটির অর্ডার নেওয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের শেষের দিকে প্রথম চালানের ডেলিভারি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাতন্ত্র্য ডিজাইনে নজরকাড়া লুক

বোভেনসিপেন স্পাইডার মূলত বিএমডব্লিউ জেড৪ এর মূল রোডস্টার অনুপাতগুলো ধরে রেখেই তৈরি করা হয়েছে। এর সামনে রয়েছে লম্বা বনেট, পেছনের দিকে সরে থাকা কেবিন এবং ছোট ওভারহ্যাং। বিখ্যাত ডিজাইনার ফ্র্যাঙ্ক স্টিফেনসনের সঙ্গে যৌথভাবে গাড়িটির বাহ্যিক ডিজাইন করা হয়েছে। এর সামনে রয়েছে গ্লস-ব্ল্যাক ফ্রন্ট স্প্লিটার এবং দুই পাশে টুইন টিপ ডিজাইন। এছাড়া সামনের ফেন্ডারে ভেন্ট, নতুন সাইড স্কার্ট, পেছনে ডিফিউজার, ইন্টিগ্রেটেড রিয়ার স্পয়লার এবং ২০ ইঞ্চির ফরজড অ্যালয় হুইল গাড়িটিকে ভিন্ন লুক দিয়েছে।

সীমিত উৎপাদন ও রঙের বৈচিত্র্য

গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৪,৩৩৪ মিলিমিটার, প্রস্থ ১,৮৬৪ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১,৩০৪ মিলিমিটার। এর কার্ব ওজন ১,৫৮৫ কেজি। সীমিত উৎপাদনের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে মাত্র ৯৯টি গাড়ি তৈরি করা হবে। এমনকি প্রতিটি রঙের গাড়ির সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি স্যাফায়ার ব্ল্যাক, ২৫টি সানরেমো গ্রিন, ২০টি স্কাইস্ক্র্যাপার গ্রে, ৯টি থান্ডারনাইট এবং ৫টি ফ্রোজেন গ্রে ২ রঙে বাজারে আসবে।

bovenesipen-spider-bmw-z4-based-435-hp-limited-production-sports-car1

বিলাসবহুল কেবিন ও ব্যক্তিগতকরণের সুযোগ

কেবিনের নকশায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা না হলেও সিটের আপহোলস্ট্রি, ট্রিম এবং কাস্টমাইজেশনে নতুনত্ব আনা হয়েছে। দুই সিটের এই কেবিনে ব্যবহার করা হয়েছে ভার্নাসকা লেদার আপহোলস্ট্রি, আলকান্টারা সিট প্যানেল এবং লাভালিনা লেদার স্টিয়ারিং হুইল। স্ট্যান্ডার্ড ফিচারের মধ্যে রয়েছে হিটেড স্টিয়ারিং হুইল, কমফোর্ট অ্যাক্সেস এবং হারমান কার্ডন সারাউন্ড-সাউন্ড সিস্টেম। এছাড়া গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী হেডরেস্টে ব্যক্তিগত এমবসিং এবং এমব্রয়ডারির সুযোগ থাকছে। প্রতিটি গাড়িতে আলাদা সিরিয়াল নম্বরযুক্ত প্রোডাকশন প্ল্যাক এবং ২৮১ লিটারের বুট স্পেস রয়েছে।

আরও পড়ুন: মারুতি ব্যালেনো বনাম সুইফট: কোন প্রাইভেট কার কেনা লাভজনক?

শক্তিশালী ইঞ্জিন ও দুর্দান্ত গতি

গাড়িটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর শক্তিশালী ইঞ্জিন। এতে রয়েছে ৩.০ লিটারের টার্বোচার্জড ইনলাইন-সিক্স বি৫৮ পেট্রোল ইঞ্জিন। এটি সর্বোচ্চ ৪৩৫ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ৫৮০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। তুলনামূলকভাবে স্ট্যান্ডার্ড জেড৪ এম৪০আই থেকে এটি ৯৫ হর্সপাওয়ার এবং ৮০ নিউটন মিটার বেশি টর্ক দেয়। এর পাওয়ার পেছনের চাকায় সরবরাহ করতে আট-স্পিড জেডএফ অটোমেটিক গিয়ারবক্স ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটি মাত্র ৪.২ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার হলেও ঐচ্ছিক পারফরম্যান্স প্যাকেজ নিলে তা বাড়িয়ে প্রতি ঘণ্টায় ২৯৫ কিলোমিটার করা সম্ভব।

এজেড