মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মারুতি ব্যালেনো বনাম সুইফট: কোন প্রাইভেট কার কেনা লাভজনক?

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

শেয়ার করুন:

মারুতি ব্যালেনো বনাম সুইফট: বেশি টাকা দিয়ে ব্যালেনো কেনা কি লাভজনক?
মারুতি ব্যালেনো বনাম সুইফট: কোন প্রাইভেট কার কেনা লাভজনক?

মারুতি সুজুকি ব্যালেনোর ফেসলিফট বাজারে আসতেই গাড়িটির চেহারা, ফিচার, ইঞ্জিন এবং নিরাপত্তায় একাধিক আপডেট এসেছে। অন্যদিকে, একই সংস্থার সুইফট তুলনামূলক কম দামের একটি জনপ্রিয় হ্যাচব্যাক। ফলে দুই গাড়ির দামের মধ্যে ব্যবধান কম থাকায় অনেক ক্রেতার কাছেই প্রশ্ন উঠছে, ব্যালেনোর জন্য বাড়তি টাকা খরচ করা কতটা যুক্তিযুক্ত? দুই গাড়ির দাম, আকার, ফিচার, নিরাপত্তা এবং ইঞ্জিনের দিক থেকে তুলনা করলে বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়।

দুই গাড়ির বেস মডেলের দামের পার্থক্য মাত্র ১৫ হাজার রুপি। তবে টপ ভ্যারিয়েন্টে ব্যালেনো সুইফটের তুলনায় প্রায় ১.১০ লাখ রুপি বেশি দামি। অর্থাৎ বাজেট যদি সীমিত হয়, সুইফট যথেষ্ট আকর্ষণীয়। কিন্তু বেশি ফিচার চাইলে ব্যালেনোর বাড়তি দাম কিছুটা যুক্তিযুক্ত হয়ে ওঠে। আকার ও পরিমাপের দিক থেকেও ব্যালেনো সবদিক থেকেই সুইফটের তুলনায় বড়। এতে ১৩০ মিমি বেশি দৈর্ঘ্য এবং ৭০ মিমি বেশি হুইলবেস রয়েছে, যা কেবিনের ভিতরে বেশি জায়গা এবং লেগরুম দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সুইফটের ছোট আকার ঘনবসতিপূর্ণ শহরে গাড়ি চালানো এবং পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে পারে।

রঙের বিকল্পের দিক থেকে সুইফট বেশি বৈচিত্র্যময়। ব্যালেনোতে ৭টি একরঙা শেড থাকলেও কোনো ডুয়াল-টোন রঙের বিকল্প নেই। পক্ষান্তরে, সুইফটে সিজিলিং রেড, নেক্সা ব্লু, লাস্টার ব্লুসহ একাধিক নজরকাড়া রঙ এবং ডুয়াল-টোন বিকল্প পাওয়া যায়। তবে বাইরের ফিচারে ব্যালেনো অনেকটাই এগিয়ে। দুই গাড়িতেই এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প ও অ্যালয় হুইল থাকলেও, ব্যালেনোতে অতিরিক্ত হিসেবে রয়েছে ১৬ ইঞ্চি ডুয়াল-টোন অ্যালয় হুইল, ক্রোম প্লেটেড দরজার হাতল, শার্ক-ফিন অ্যান্টেনা, রিয়ার স্পয়লার, ফেন্ডার ক্রোম গার্নিশ এবং ইউভি-কাট গ্লাস।

ভেতরের ফিচারে দুই গাড়িতেই ৯ ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, ওয়্যারলেস অ্যানড্রয়েড অটো ও অ্যাপল কারপ্লে, ওয়্যারলেস চার্জার এবং অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোলের মতো সুবিধা রয়েছে। তবে ব্যালেনোর বাড়তি ফিচারগুলোর মধ্যে রয়েছে হেড-আপ ডিসপ্লে, সামনে ভেন্টিলেটেড সিট, লেদারেট সিট, অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল, ক্ল্যারিয়ন প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম এবং সক্রিয় কুলিংসহ ওয়্যারলেস চার্জার। যেখানে সুইফটে ফ্যাব্রিক সিট এবং সাধারণ ক্রুজ কন্ট্রোলের সুবিধা নেই। ফলে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা এবং প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে ব্যালেনো বেশ এগিয়ে।

maruti-baleno-vs-swift-price-features-safety-comparison-2026

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ব্যালেনো এগিয়ে রয়েছে। দুই গাড়িতেই ৬টি এয়ারব্যাগ, এবিএসসহ ইবিডি, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি প্রোগ্রাম এবং হিল হোল্ড অ্যাসিস্টের মতো সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তবে ব্যালেনোতে অতিরিক্তভাবে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, টায়ার প্রেসার মনিটরিং সিস্টেম এবং লেভেল-২ অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেমের মতো উন্নত প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ব্যালেনো ভারত এনক্যাপ পরীক্ষায় ৪-স্টার নিরাপত্তা রেটিং পেলেও ভারতীয় স্পেসিফিকেশনের সুইফট এখনও এই পরীক্ষায় মূল্যায়িত হয়নি।

ইঞ্জিনের দিক থেকে বিচার করলে দুই গাড়িতেই ১.২ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যালেনোর সর্বোচ্চ শক্তি ৮৩ পিএস এবং টর্ক ১১২.৪ এনএম, যা সুইফটের ৮২ পিএস শক্তি এবং ১১১১.৭ এনএম টর্কের খুব কাছাকাছি। গিয়ারবক্সের ক্ষেত্রেও উভয় গাড়িতে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল এবং ৫-স্পিড এএমটি অপশন রয়েছে।

আরও পড়ুন: এই এসইউভি গাড়ি দামে সস্তা হলেও, মাইলেজ দেয় বেশি

সবমিলিয়ে, মারুতি সুইফট তাদের জন্য বেশি যুক্তিযুক্ত, যারা কম বাজেটে একটি কমপ্যাক্ট এবং সহজে চালানো যায় এমন হ্যাচব্যাক চান। শহরের ব্যবহার ও দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য সুইফট যথেষ্ট। 

অন্যদিকে, মারুতি ব্যালেনো বাড়তি খরচের বিনিময়ে বেশি জায়গা, উন্নত কেবিন, প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম, হেড-আপ ডিসপ্লে, ভেন্টিলেটেড সিট এবং উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি প্রদান করে। তাই শুধুমাত্র ইঞ্জিন বা শহরের সাধারণ ব্যবহারের কথা ভাবলে সুইফটই যথেষ্ট, তবে অধিক জায়গা, প্রিমিয়াম ফিচার ও উন্নত নিরাপত্তার জন্য ব্যালেনোতে বাড়তি টাকা খরচ করা যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর