অটোমোবাইল ডেস্ক
২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
মাত্র চুয়াল্লিশ হাজার রুপির কিস্তিতে ঘরে নিয়ে আসুন নতুন বিএমডব্লিউ গাড়ি। ভারতে সদ্য লঞ্চ হওয়া বিএমডব্লিউ এক্সওয়ান এলডব্লিউবি মডেলের দাম দেশটির বাজারে ৪৯ লাখ ৯০ হাজার রুপি। পাশাপাশি এতে রয়েছে ১৫৬ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী ইঞ্জিন, বাড়তি পেছনের পায়ের জায়গা, লেভেল টু এডিএএস, আটটি এয়ারব্যাগ এবং একাধিক অত্যাধুনিক সুবিধা।
বিএমডব্লিউ ইন্ডিয়া তাদের এই নতুন এন্ট্রি-লেভেল এসইউভি বাজারে এনেছে, যা মূলত স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একটি লম্বা এবং পেট্রোলচালিত সংস্করণ। গাড়িটির এক্স-শোরুম দাম ধার্য করা হয়েছে ৪৯ লাখ ৯০ হাজার রুপি। এটি শুধুমাত্র এস ড্রাইভ পনেরো এলআই এই একটি ভ্যারিয়েন্টেই পাওয়া যাবে এবং এম স্পোর্ট স্টাইলিং প্যাকেজটি এতে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে থাকছে। ভারতে অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিনযুক্ত বিএমডব্লিউ-র সবচেয়ে সস্তা লং-হুইলবেস মডেল এটি। এর পাশাপাশি এই ব্র্যান্ডের তালিকায় বৈদ্যুতিক আইএক্সওয়ান এলডব্লিউবি মডেলটিও রয়েছে।

গ্রাহকদের সুবিধার জন্য কোম্পানি একটি স্মার্ট ফাইন্যান্স প্ল্যান দিচ্ছে, যার মাসিক কিস্তি শুরু হচ্ছে মাত্র ৪৪ হাজার ৪৪৪ রুপি থেকে। এই বিশেষ অফারটি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ। এই স্কিমের আওতায় ক্রেতারা চার বছর পর ষাট শতাংশ নিশ্চিত বাইব্যাক মূল্যের সুবিধা পেতে পারেন। বিএমডব্লিউ ইন্ডিয়া ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে নতুন গাড়ি কেনার ঋণের সুদের হার প্রায় ৯.৯০ শতাংশ থেকে শুরু হয় এবং গ্রাহকের প্রোফাইল অনুযায়ী তা ১০.৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৮৪ মাস পর্যন্ত। সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ গাড়ির এক্স-শোরুম দামের ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, যার অর্থ ক্রেতাকে অন্তত ১৫ শতাংশ অর্থ অগ্রিম বা ডাউন পেমেন্ট হিসেবে দিতে হবে।
গাড়ির আকার ও ডিজাইন
স্ট্যান্ডার্ড এক্সওয়ান মডেলের তুলনায় নতুন এই এলডব্লিউবি সংস্করণটি মোট ১১৬ মিলিমিটার লম্বা। এর মধ্যে ১০৮ মিলিমিটার সরাসরি হুইলবেসে যোগ করা হয়েছে, যার ফলে পেছনের সিটে হাঁটু রাখার জন্য অতিরিক্ত ১০৯ মিলিমিটার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে। গাড়িটি লম্বা করা হলেও এর অনুপাত ভারসাম্যপূর্ণ রাখা হয়েছে। এর ডিজাইনে কিডনি গ্রিল, সুইপ্ট-ব্যাক হেডল্যাম্প, এম স্পোর্ট বাম্পার এবং ১৮ ইঞ্চির অ্যালয় হুইল রাখা হয়েছে। তবে দৃশ্যত এর উইন্ডো সারাউন্ড ক্রোম ফিনিশে দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মডেলের ব্ল্যাকড-আউট ট্রিটমেন্ট থেকে আলাদা।
ইঞ্জিন ও শক্তি
এই গাড়িতে রয়েছে ১.৫ লিটারের তিন-সিলিন্ডার টার্বো-পেট্রোল ইঞ্জিন, যা ১৫৬ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ২৩০ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে ৭-স্পিড ডুয়াল-ক্লাচ অটোমেটিক ট্রান্সমিশন। স্ট্যান্ডার্ড মডেলের তুলনায় এই সংস্করণে ২২ হর্সপাওয়ার বেশি শক্তি পাওয়া যায়। ফলে অতিরিক্ত দৈর্ঘ্য ও ওজন থাকা সত্ত্বেও এই সংস্করণটি বেশ শক্তিশালী।

কেবিন ও আধুনিক প্রযুক্তি
গাড়ির ভেতরে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো বড় বাঁকানো ড্যাশবোর্ড ডিসপ্লে। এর মাধ্যমে চালক ও ইনফোটেইনমেন্ট প্যানেল একসঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সুরক্ষার দিক থেকে এতে রয়েছে লেভেল টু এডিএএস, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় জরুরি ব্রেকিং এবং লেন-অ্যাসিস্ট সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে আটটি এয়ারব্যাগ রাখা হয়েছে। এছাড়া ফিজিক্যাল চাবি ছাড়াও স্মার্টফোনের মাধ্যমে গাড়ি লক, আনলক ও স্টার্ট করার জন্য ডিজিটাল কি এবং ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢালু রাস্তায় গাড়ি পার্ক করার সঠিক নিয়ম কী? ৯৯% ড্রাইভার যে ভুল করেন
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও রঙের বিকল্প
গাড়ির কেবিনে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য রয়েছে প্যানোরামিক সানরুফ, ডুয়াল-জোন ক্লাইমেট কন্ট্রোল, পাওয়ারড টেলগেট এবং মেমরি ফাংশনসহ পাওয়ারড সামনের সিট। রঙের ক্ষেত্রে মিনারেল হোয়াইট, স্কাইস্ক্র্যাপার গ্রে, কার্বন ব্ল্যাক এবং নাইট ডিস্ক ব্লু-সহ বিভিন্ন অপশন মিলবে। এছাড়াও ক্রেতারা শ্যাডো প্যাকেজ বেছে নিয়ে গাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় ও স্টেলথি লুক দিতে পারবেন।
এজেড