অটোমোবাইল ডেস্ক
০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
চার্জার ছাড়াই যদি আপনার স্কুটার শুধু রোদে দাঁড়িয়ে থেকেই নিজে নিজে চার্জ হতে শুরু করে, কেমন হয়? সান ফ্রান্সিসকোর স্টার্টআপ Otherlab এমনই একটি অভিনব Lightfoot সোলার ইলেকট্রিক স্কুটার নিয়ে এসেছে। এই স্কুটার সূর্যের আলো থেকে অতিরিক্ত রেঞ্জ পায়, ৮৮ কিমি পর্যন্ত চলতে পারে এবং একাধিক প্রিমিয়াম ফিচার নিয়ে আসে। জেনে নিন এর দাম, রেঞ্জ, প্রযুক্তি এবং কেন এটিকে বিশ্বের অন্যতম ব্যতিক্রমী ই-স্কুটার বলা হচ্ছে।
ইলেকট্রিক মোবিলিটির যুগে সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক স্টার্টআপ Otherlab তাদের অনন্য Lightfoot সোলার ইলেকট্রিক স্কুটার উন্মোচন করেছে। এটি এমন একটি স্কুটার, যা সৌরশক্তির সাহায্যে নিজে নিজেই চার্জ হতে পারে। পরিবেশবান্ধব যাতায়াতকে উৎসাহ দিতে তৈরি এই স্কুটারটি তার অভিনব প্রযুক্তির জন্য ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।

ডিজাইনের কথা বললে, Lightfoot-এর লুক অনেকটাই ভিন্টেজ Vespa এবং ক্লাসিক Volkswagen Microbus-এর থেকে অনুপ্রাণিত। এতে এয়ারক্রাফট-গ্রেড অ্যালুমিনিয়ামের চেসিস ব্যবহার করা হয়েছে, যা একে একই সঙ্গে মজবুত এবং হালকা করেছে। স্কুটারের দুই পাশে বড় বড় সোলার প্যানেল লাগানো রয়েছে, যা এটিকে আলাদা চেহারা দিয়েছে। এতে দুই জন বসার জন্য আরামদায়ক বেঞ্চ সিট এবং ৪৫ লিটারের সিল করা স্টোরেজ স্পেস রয়েছে।
দামের দিক থেকে Lightfoot প্রিমিয়াম শ্রেণির স্কুটার। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর দাম ৪,৯৯৫ মার্কিন ডলার। সাধারণ ইলেকট্রিক স্কুটারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হলেও, বিদ্যুৎ খরচে সাশ্রয়, প্লাগ-ইন ছাড়াই চার্জিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এটিকে প্রিমিয়াম ব্যবহারকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক বিকল্প হিসেবে ধরা হচ্ছে।

Lightfoot-কে খুবই সহজ এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব করে তৈরি করা হয়েছে। এতে গিয়ার বা ক্লাচ নেই, রয়েছে শুধু Twist-and-Go থ্রটল। চালকের সুবিধার জন্য রয়েছে ২.৮ ইঞ্চির ওয়াটারপ্রুফ টাচস্ক্রিন LCD ডিসপ্লে, যেখানে গতি, ব্যাটারির চার্জ এবং লাইটের স্ট্যাটাস দেখা যায়। এছাড়া রয়েছে ১২০ dBa ক্ষমতার হর্ন এবং জিনিসপত্র রাখার জন্য ওয়েদারপ্রুফ ও চুরি-প্রতিরোধী স্টোরেজ কম্পার্টমেন্ট।
চালকের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্কুটারে Tektro-এর হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক দেওয়া হয়েছে। খারাপ রাস্তায় আরামদায়ক যাত্রার জন্য সামনে ইনভার্টেড অয়েল-ড্যাম্পড সাসপেনশন এবং পেছনে কয়েল-ওভার-অয়েল অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশন রয়েছে। আরও ভালো গ্রিপের জন্য দেওয়া হয়েছে ১০ ইঞ্চির ডাই-কাস্ট অ্যালুমিনিয়াম হুইল এবং হেভি-ডিউটি টায়ার। আলোর জন্য রয়েছে ২,০০০ লুমেনের ফ্রন্ট লাইট এবং ব্রেক করলেই জ্বলে ওঠা অ্যাক্সিলেরোমিটার-অ্যাক্টিভেটেড রিয়ার লাইট।

সৌরশক্তি প্রযুক্তিই এই স্কুটারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। স্কুটারের দুইপাশে ১২০ ওয়াটের দুটি ইন্টিগ্রেটেড সোলার প্যানেল রয়েছে। স্কুটারটি রোদে পার্ক করা থাকলেই এটি নিজে থেকেই চার্জ হতে শুরু করে। তীব্র রোদে প্রতি এক ঘণ্টা পার্কিংয়ে প্রায় ৩ মাইল (৪.৮ কিমি) অতিরিক্ত রেঞ্জ পাওয়া যায়। ফলে সারাদিনে শুধুমাত্র সৌরশক্তির সাহায্যে প্রায় ১৮ মাইল (প্রায় ২৮ কিমি) অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: হোন্ডা মোটরসাইকেলের দাম কমল
পাওয়ার ও পারফরম্যান্সের জন্য Lightfoot-এ রয়েছে ১.১ kWh ক্ষমতার ৪৮-ভোল্ট লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি। অনবোর্ড চার্জারের সাহায্যে সাধারণ ১১০V সকেট থেকে মাত্র ৯০ মিনিটে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যায়। এর দুইটি চাকাতেই ৭৫০W-এর ডুয়াল ব্রাশলেস DC হাব মোটর রয়েছে, যা মিলিয়ে ৯০ Nm পিক টর্ক উৎপন্ন করে। ফলে ভারী ওজন বহন করা বা উঁচু রাস্তায় উঠতেও এটি সক্ষম।

রেঞ্জ ও সর্বোচ্চ গতি-র কথা বললে, শুধুমাত্র ব্যাটারিতে একবার সম্পূর্ণ চার্জে এই স্কুটার প্রায় ৩৭ মাইল (৬০ কিমি) চলতে পারে। আর সৌরশক্তির অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত হলে মোট রেঞ্জ বেড়ে প্রায় ৫৫ মাইল (৮৮ কিমি) হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৯.৯ মাইল (প্রায় ৩২ কিমি) রাখা হয়েছে। যদি ভবিষ্যতে এই স্কুটার ভারতে আসে, তাহলে বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী এটি চালাতে ড্রাইভিং লাইসেন্সেরও প্রয়োজন হবে না।
এজেড