অটোমোবাইল ডেস্ক
০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
বিশ্ববাজারে জ্বালানির লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে অনেকেই এখন সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে সিএনজি গাড়িকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। প্রথম গাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে বাজেটের মধ্যে দুর্দান্ত মাইলেজ এবং উন্নত সুরক্ষাসম্পন্ন গাড়ি খোঁজাটা স্বাভাবিক। বর্তমান ভারতীয় বাজারে এমন ৫টি প্রিমিয়াম ও সাশ্রয়ী সিএনজি এসইউভি উপলব্ধ রয়েছে, যেগুলো আপনার সাধ ও সাধ্যের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটাতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে। যার ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির বাজারেও গাড়ি কেনার স্বপ্ন থমকে থাকে না। সাশ্রয়ী যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে দেশের অটোমোবাইল বাজারে হুন্দাই, টাটা এবং মারুতির মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর সেরা কিছু সিএনজি মডেল দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
আরও পড়ুন: ৭ সিটের মাল্টিপারপাস এই প্রাইভেট কারের দাম মাত্র ৫ লাখ!
তালিকায় প্রথম নামটি আসে মারুতি সুজুকি ফ্রনকস সিএনজি। দেশের অন্যতম বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মারুতি সুজুকির এই ক্রসওভার স্টাইলের এসইউভিটি দীর্ঘদিন ধরেই গ্রাহকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। গাড়িটিতে ১.২ লিটারের পেট্রোল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি পেট্রোল ও সিএনজি উভয় মাধ্যমেই চলতে সক্ষম। মারুতি সুজুকি ফ্রনকস সিএনজি প্রতি কেজি সিএনজিতে প্রায় ২৮.৫১ কিলোমিটার পর্যন্ত অসাধারণ মাইলেজ প্রদান করে। ভারতীয় বাজারে এই গাড়িটির প্রারম্ভিক মূল্য শুরু হয়েছে ৭ লাখ ৭৯ হাজার রুপি থেকে।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ব্র্যান্ড হুন্দাইয়ের এক্সটার হাই-সিএনজি ডুও। এই চমৎকার মিনি এসইউভিতে আধুনিক টুইন-সিলিন্ডার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে সিএনজি সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও গাড়ির বুট স্পেস বা ডিকিতে পর্যাপ্ত জায়গা বজায় থাকে। এর সিলিন্ডারটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ডিকির নিচে স্থাপন করা হয়েছে। হুন্দাই এক্সটার হাই-সিএনজি ডুও প্রতি কেজি সিএনজিতে প্রায় ২৭.১ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম। সম্প্রতি লঞ্চ হওয়া এই সিএনজি ভ্যারিয়েন্টটির দাম শুরু হচ্ছে ৬ লক্ষ ৯৯ হাজার রুপি থেকে। এছাড়া সুরক্ষার দিক থেকে এতে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ৬টি এয়ারব্যাগ এবং ড্যাশক্যামের মতো অত্যাধুনিক ফিচার রয়েছে।

নিরাপত্তার জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করা টাটা মোটরসের টাটা পাঞ্চ সিএনজি রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। গ্লোবাল এনক্যাপ ক্র্যাশ টেস্টে ৫-স্টার সেফটি রেটিং অর্জনকারী এই গাড়িটি পরিবার সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। সম্প্রতি বাজারে এসেছে এর নতুন ফেসলিফ্ট সংস্করণটি, যা আগের তুলনায় আরও বেশি আকর্ষণীয় ও আধুনিক রূপ পেয়েছে। ১.০ লিটার ইঞ্জিনযুক্ত এই গাড়িটি প্রতি কেজি সিএনজিতে প্রায় ২৬.৯৯ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে পারে। আকর্ষণীয় এই মডেলটির দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ৫ লক্ষ ৮০ হাজার রুপি থেকে।
চতুর্থ স্থানে থাকা মারুতি সুজুকি ভিটারা ব্রেলসা সিএনজি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও স্টাইলিশ মাঝারি আকৃতির এসইউভি। এই গাড়িতে ১.৫ লিটারের তুলনামূলক বড় ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা এই তালিকার অন্যান্য গাড়ির তুলনায় বেশ শক্তিশালী। পারফরম্যান্সের দিক থেকে এটি অনেক বড় এসইউভিকেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। মারুতি সুজুকি ব্রেজা সিএনজি প্রতি কেজি সিএনজিতে প্রায় ২৫.৫১ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ প্রদান করে। চমৎকার এই গাড়িটির প্রারম্ভিক মূল্য ১০ লক্ষ ১৮ হাজার রুপি থেকে শুরু হয়েছে।
তালিকায় পঞ্চম ও সর্বশেষ সংযোজন হলো নিসান ম্যাগনাইট সিএনজি। সম্প্রতি বাজারে আসা এই মডেলটি ভারতের অন্যতম সাশ্রয়ী এবং আকর্ষণীয় এসইউভিগুলোর একটি। সুরক্ষার মাপকাঠিতেও নিসান ম্যাগনাইট বেশ এগিয়ে রয়েছে, কারণ গ্লোবাল এনক্যাপের ক্র্যাশ টেস্টে এই গাড়িটি ৫-স্টার সেফটি রেটিং অর্জন করেছে। নিসান ম্যাগনাইট সিএনজির প্রারম্ভিক মূল্য ৭ লক্ষ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে। ১.০ লিটার ইঞ্জিনসমৃদ্ধ এই গাড়িটি প্রতি কেজি সিএনজিতে প্রায় ২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম। টাটার গাড়ির মতোই সুরক্ষার দিক থেকে এটি একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সিএনজি এসইউভি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে।
এজেড