অটোমোবাইল ডেস্ক
২৫ জুন ২০২৬, ১০:০১ এএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী অন্যতম জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী লোকাল ট্রেন হলো চট্টগ্রাম মেইল। ১৯৯৩ সাল থেকে টানা তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত এই রুটে যাত্রী সেবা দিয়ে আসছে ট্রেনটি। কোড নম্বর ০১ এবং ০২ নিয়ে চলাচলকারী এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই। এমনকি সাধারণ ট্রেনগুলো ঈদের দিনে বন্ধ থাকলেও চট্টগ্রাম মেইল বিশেষ এই দিনেও তার চলাচল অব্যাহত রাখে। কম খরচে আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সাধারণ যাত্রীদের কাছে এই ট্রেনের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী যাত্রার সময়সূচি
চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনটি প্রতিদিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ২৯০০ সিরিজের লোকোমেটিভ নিয়ে যাত্রা করে এটি পরের দিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছায়।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে ট্রেনটির মোট সময় লাগে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৫০ মিনিট তথা প্রায় ৯ ঘণ্টার মতো। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে ট্রেনটি ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। কমলাপুর থেকে ছাড়ার পর ট্রেনটি রাত ১০টা ৫২ মিনিটে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, রাত ১১টা ০৫ মিনিটে ঢাকা বিমানবন্দর এবং রাত ১১টা ১৭ মিনিটে টঙ্গী স্টেশনে পৌঁছায়।

চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের যাত্রাবিরতি
মধ্যরাতের পর ট্রেনটির যাত্রাবিরতি শুরু হয় নরসিংদী স্টেশন থেকে রাত ১২টা ০৫ মিনিটে। এরপর পর্যায়ক্রমে রাত ১টা মিনিটে ভৈরব বাজার, রাত ১টা ০৭ মিনিটে আশুগঞ্জ এবং রাত ১টা ৩০ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে অবস্থান করে। ভোররাতে ট্রেনটি পৌঁছায় আখাউড়ায় ২টা ৪৫ মিনিটে। এরপর ভোর ৪টা ০৭ মিনিটে কুমিল্লা, ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে লাকসাম এবং সকাল ৫টা মিনিটে হাসানপুর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। সকালের দিকে ট্রেনটি ৫টা ৩০ মিনিটে ফেনী, ৬টা ২৮ মিনিটে সীতাকুণ্ড, ৬টা ৫৬ মিনিটে ভাটিয়ারি এবং সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে পাহাড়তলী স্টেশন হয়ে সবশেষে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে গিয়ে যাত্রা শেষ করে।
আরও পড়ুন: ঢাকা মেইল ট্রেনের সময়সূচি
উল্লেখ্য, এই ট্রেনটিই যখন আবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়, তখন এর নাম পরিবর্তিত হয়ে ঢাকা মেইল নামে চলাচল করে।
আসনের শ্রেণিভিত্তিক নতুন ভাড়ার তালিকা
বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে বিভিন্ন শ্রেণির আসনের জন্য আলাদা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রেনটিতে ভ্রমণের জন্য প্রথম শ্রেণির ভাড়া ১৭৫ টাকা এবং শোভন চেয়ারের ভাড়া ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ শোভন শ্রেণির টিকিট পাওয়া যাচ্ছে ১১০ টাকায় এবং সবচেয়ে কম খরচে ভ্রমণের জন্য সুলভ শ্রেণির ভাড়া রাখা হয়েছে মাত্র ৭০ টাকা। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই ভাড়া যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

টিকিট সংগ্রহ এবং যাত্রী পরিষেবা
চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম বেশ সহজ। দ্বিতীয় শ্রেণীর সাধারণ কিংবা অন্য যেকোনো সাধারণ আসনের টিকিট যাত্রার দিন ট্রেন ছাড়ার তিন ঘণ্টা আগে মেইল কাউন্টার থেকে সরাসরি সংগ্রহ করা যায়। অন্যদিকে যারা কেবিনে ভ্রমণ করতে চান, তারা যাত্রার দিন সকাল আটটা থেকে কাউন্টারে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ছোট ফরম পূরণ করে সহজেই কেবিন বুকিং সম্পন্ন করতে পারেন। দীর্ঘ ৩২ বছরের পুরনো এই ট্রেনটি বিলাসবহুল না হলেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী ভ্রমণের দারুণ সুযোগ তৈরি করে আসছে।
এজেড