images

অটোমোবাইল

মোটরসাইকেল তেল বেশি 'খাচ্ছে' কি না যেভাবে বুঝবেন

অটোমোবাইল ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

​একটি মোটরসাইকেলের মাইলেজ কমে যাওয়া বা তেল বেশি খরচ হওয়া রাইডারদের জন্য বেশ দুশ্চিন্তার বিষয়। অনেক সময় ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাইকের ইঞ্জিন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি জ্বালানি পু‌ড়ি‌য়ে থাকে। আপনার প্রিয় বাহনটি তেল বেশি খরচ করছে কি না, তা নিচের লক্ষণগুলো থেকে বুঝে নিতে পারেন।

​১. হঠাৎ মাইলেজ কমে যাওয়া

​তেল বেশি খাওয়ার সবচেয়ে বড় এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো মাইলেজ কমে যাওয়া। আপনি যদি লক্ষ্য করেন যে, আগে এক লিটার তেলে যত কিলোমিটার পথ চলা যেত, এখন তার চেয়ে অনেক কম পথ যাওয়া যাচ্ছে, তবে বুঝতে হবে ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা আছে বা জ্বালানি অপচয় হচ্ছে।

​২. সাইলেন্সর দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হওয়া

​বাইকের সাইলেন্সর পাইপ দিয়ে যদি কালো ধোঁয়া বের হয়, তবে এটি জ্বালানি অতিরিক্ত ব্যবহারের একটি স্পষ্ট সংকেত। এর অর্থ হলো সিলিন্ডারের ভেতরে বাতাসের তুলনায় জ্বালানির মিশ্রণ অনেক বেশি (Rich Mixture), যা পুরোপুরি না পুড়েই ধোঁয়া আকারে বেরিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

যেভাবে মোটরসাইকেল চালালে তেল কম ‘খায়’

​৩. স্পার্ক প্লাগের রঙ পরিবর্তন

​ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বোঝার জন্য স্পার্ক প্লাগ একটি আয়নার মতো কাজ করে। স্পার্ক প্লাগটি খুলে দেখুন; যদি এর অগ্রভাগ কালো বা কালি পড়া থাকে, তবে বুঝবেন বাইক তেল বেশি খাচ্ছে। সাধারণত সুস্থ ইঞ্জিনের প্লাগের রঙ কিছুটা বাদামি বা সাদাটে হয়ে থাকে।

Cycle3

৪. ইঞ্জিনের অস্বাভাবিক শব্দ ও শক্তি হ্রাস

​যদি লক্ষ্য করেন যে ইঞ্জিন আগের মতো শক্তি (Pick-up) দিচ্ছে না এবং চালানোর সময় শব্দ কিছুটা ভারী বা কর্কশ মনে হচ্ছে, তবে এটি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় কার্বুরেটর বা ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেমে সমস্যা থাকলে এমনটি হয়।

​৫. গ্যারেজে তেলের গন্ধ পাওয়া

​বাইক পার্ক করে রাখার পর যদি আশেপাশে পেট্রোল বা তেলের তীব্র গন্ধ পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে কোথাও লিকেজ আছে। পাইপ ফেটে যাওয়া বা কার্বুরেটর ওভারফ্লো হওয়ার কারণে এভাবে সরাসরি তেল নষ্ট হতে পারে।

আরও পড়ুন

অকটেনের চেয়ে পেট্রোল কি বেশি মাইলেজ দেয়?

​করণীয় ও প্রতিকার

​বাইকের জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত কিছু কাজ করা জরুরি:

​এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখা: ফিল্টার জ্যাম থাকলে ইঞ্জিন পর্যাপ্ত বাতাস পায় না, ফলে তেল বেশি টানে।

Sycle2

​টায়ার প্রেশার ঠিক রাখা: চাকার হাওয়া কম থাকলে ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা মাইলেজ কমিয়ে দেয়।

​নিয়মিত সার্ভিসিং: সঠিক সময়ে ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন এবং চেইন লুব্রিকেন্ট করলে বাইক স্মুথ থাকে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হয়।

​ভালো মানের জ্বালানি: সবসময় বিশ্বস্ত পাম্প থেকে উন্নতমানের জ্বালানি সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন।

​সঠিক সময়ে এই লক্ষণগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিলে আপনার মোটরসাইকেলটি যেমন দীর্ঘস্থায়ী হবে, তেমনি পকেটের খরচও সাশ্রয় হবে।

এজেড