অটোমোবাইল ডেস্ক
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
বর্তমানে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম বাইকারদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, ভালো মানের বাইক হওয়া সত্ত্বেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও চালানোর অভ্যাসের অভাবে কাঙ্ক্ষিত মাইলেজ পাওয়া যায় না। তবে কিছু বৈজ্ঞানিক ও কৌশলগত পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার বাইকের মাইলেজ বর্তমানের তুলনায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। জেনে নিন সেই জাদুকরী কৌশলগুলো।
থ্রটল কন্ট্রোল ও স্মুথ রাইডিং
বাইকের মাইলেজ সবচেয়ে বেশি নির্ভর করে আপনি কীভাবে থ্রটল বা পিকআপ ঘোরাচ্ছেন তার ওপর। হুটহাট দ্রুত গতি বাড়ানো (Sudden Acceleration) এবং বারবার কড়া ব্রেক করা জ্বালানি অপচয়ের প্রধান কারণ। সবসময় চেষ্টা করুন ধীরে ধীরে গতি বাড়াতে এবং একটি নির্দিষ্ট গতিসীমায় (সাধারণত ৪০-৫০ কিমি/ঘণ্টা) বাইক চালাতে। একে বলা হয় 'ইকোনমি স্পিড', যা ইঞ্জিনের ওপর চাপ কমিয়ে মাইলেজ বাড়াতে সাহায্য করে।

সঠিক গিয়ার শিফটিংয়ের গুরুত্ব
অনেকেই অলসতার কারণে কম গতিতে উচ্চ গিয়ার (High Gear) বা বেশি গতিতে নিচু গিয়ারে বাইক চালান। এটি ইঞ্জিনের ফুয়েল কনজাম্পশন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ইঞ্জিনের শব্দের দিকে খেয়াল রাখুন এবং সঠিক আরপিএম (RPM)-এ গিয়ার শিফটিং করুন। মনে রাখবেন, উচ্চ গিয়ারে কম আরপিএম-এ বাইক চালালে জ্বালানি খরচ সবচেয়ে কম হয়।
কার্বুরেটর ও ফুয়েল ইনজেকশন (FI) সিস্টেমের যত্ন
আপনার বাইকটি যদি পুরোনো মডেলের হয় তবে এর কার্বুরেটরটি অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে টিউন করিয়ে নিন। আর আধুনিক এফআই (FI) ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে ফুয়েল ইনজেক্টর পরিষ্কার রাখা জরুরি। নোংরা ফুয়েল ফিল্টার বা কার্বুরেটরে ময়লা জমে থাকলে বাতাস ও তেলের মিশ্রণ সঠিক হয় না, ফলে ইঞ্জিন বেশি তেল শোষণ করে কিন্তু শক্তি কম উৎপন্ন করে।

ক্লাচ লিভারের সঠিক ব্যবহার
প্রয়োজন ছাড়া ক্লাচ লিভার চেপে ধরে বাইক চালাবেন না। একে বলা হয় 'হাফ ক্লাচিং'। এতে ইঞ্জিনের শক্তি চাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধা পায় এবং ঘর্ষণের ফলে প্রচুর জ্বালানি নষ্ট হয়। ক্লাচ কেবল গিয়ার পরিবর্তনের সময় বা বাইক থামানোর সময় ব্যবহার করুন। ক্লাচ কেবলটি যাতে খুব বেশি টাইট বা ঢিলে না থাকে সেদিকেও নজর রাখুন।
চাকার হাওয়া ও চেইনের লুব্রিকেশন
যান্ত্রিক কৌশলের বাইরেও কিছু বিষয় মাইলেজে প্রভাব ফেলে। চাকার হাওয়া কম থাকলে রাস্তার সাথে টায়ারের ঘর্ষণ বেড়ে যায়, ফলে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। সপ্তাহে অন্তত একবার টায়ার প্রেশার চেক করুন। পাশাপাশি বাইকের চেইন পরিষ্কার এবং লুব্রিকেটেড রাখলে ঘর্ষণজনিত অপচয় কমে মাইলেজ বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন: নতুন বাইক কিনেছেন? প্রথম ১০০০ কিমি যে ভুলগুলো করলেই ইঞ্জিনের সর্বনাশ!
মোটরসাইকেল শুধু একটি বাহন নয়, এটি একটি সূক্ষ্ম যন্ত্র। উপরের কৌশলগুলো নিয়মিত চর্চা করলে এবং প্রতি ১৫০০-২০০০ কিলোমিটার পরপর সার্ভিসিং করালে আপনার বাইক দেবে সর্বোচ্চ মাইলেজ। এতে আপনার মাসিক জ্বালানি খরচ যেমন কমবে, তেমনি বাইকের ইঞ্জিনও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
এজেড