অটোমোবাইল ডেস্ক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
মোটরসাইকেল কেবল একটি বাহন নয়, এটি একটি যান্ত্রিক সমন্বয় যার সচলতা নির্ভর করে নিয়মিত ব্যবহারের ওপর। অনেক সময় অসুস্থতা, ঢাকার বাইরে অবস্থান বা বৃষ্টির কারণে দীর্ঘসময় বাইক গ্যারেজে পড়ে থাকে। তবে প্রশ্ন হলো, ঠিক কতদিন অব্যবহৃত অবস্থায় থাকলে একটি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন বা অন্যান্য যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে?
ইঞ্জিন ও মেকানিক্যাল স্বাস্থ্যের সময়সীমা
সাধারণত একটি মোটরসাইকেল ১০ থেকে ১৫ দিন একটানা না চালালে বড় কোনো সমস্যা হয় না। তবে সময়টি যদি ৩০ দিন বা এক মাস অতিক্রম করে, তবে ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেল কতদিন পরপর ওয়াশ করা উচিত
ব্যাটারি ড্রেইন হওয়া: মোটরসাইকেল বন্ধ থাকলেও এর সিকিউরিটি অ্যালার্ম বা ডিজিটাল কনসোল ব্যাটারি থেকে সামান্য শক্তি খরচ করে। ফলে ২-৩ সপ্তাহ না চালালে ব্যাটারি ডিসচার্জ হয়ে সেলফ স্টার্ট নেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে।
ফুয়েল সিস্টেমের সমস্যা: বর্তমানে অনেক বাইকে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। এক মাসের বেশি তেল ট্যাঙ্কে জমে থাকলে তা আঠালো বা আস্তরণ তৈরি করতে পারে (Gummy residue), যা কার্বুরেটর বা ফুয়েল ইনজেক্টর ব্লক করে দেয়।
ইঞ্জিন অয়েলের গুণমান হ্রাস: দীর্ঘদিন ইঞ্জিন না চললে লুব্রিকেন্ট বা ইঞ্জিন অয়েল নিচের দিকে থিতিয়ে পড়ে। এতে সিলিন্ডার এবং পিস্টনের ওপরের অংশে তেলের আস্তরণ শুকিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর হঠাৎ স্টার্ট দিলে ঘর্ষণের ফলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।

টায়ারের বিকৃতি: এক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে টায়ারের নির্দিষ্ট একটি অংশের ওপর পুরো বাইকের চাপ পড়ে। একে ‘ফ্ল্যাট স্পট’ বলা হয়, যা টায়ারের স্থায়িত্ব কমিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলে ভুলেও ১০০ বা ২০০ টাকার তেল ভরবেন না
জং বা মরিচা: আদ্রতা বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বাইক ফেলে রাখলে চেইন, ব্রেক ডিস্ক এবং ইঞ্জিনের বাইরের অংশে মরিচা ধরতে পারে।
১. সাপ্তাহিক স্টার্ট: যদি চালানো সম্ভব না হয়, তবে সপ্তাহে অন্তত দুবার ৫-১০ মিনিটের জন্য ইঞ্জিন স্টার্ট দিয়ে রাখুন। এতে ব্যাটারি চার্জ হবে এবং ইঞ্জিনে তেল সঞ্চালিত হবে।
২. মেইন স্ট্যান্ড ব্যবহার: দীর্ঘদিনের জন্য রাখলে অবশ্যই ডাবল স্ট্যান্ড বা মেইন স্ট্যান্ড ব্যবহার করুন যাতে টায়ারের ওপর চাপ কম পড়ে।
৩. ফুয়েল স্ট্যাবিলাইজার: যদি এক মাসের বেশি সময় বাইক না চালানোর পরিকল্পনা থাকে, তবে ফুয়েল ট্যাঙ্কে স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করতে পারেন অথবা ট্যাঙ্ক খালি করে রাখতে পারেন।
৪. ব্যাটারি ডিসকানেক্ট: দীর্ঘ ছুটিতে গেলে ব্যাটারির নেগেটিভ টার্মিনালটি খুলে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
এজেড