images

অটোমোবাইল

পুরনো মোটরসাইকেল কেনার আগে যে ৫ যান্ত্রিক ত্রুটি অবশ্যই পরীক্ষা করবেন

অটোমোবাইল ডেস্ক

৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম

বাজেট স্বল্পতা বা শখের বাইকটি কম দামে পেতে অনেকেই সেকেন্ড হ্যান্ড বা পুরনো মোটরসাইকেল কেনার দিকে ঝোঁকেন। কিন্তু বাইরে থেকে চকচকে দেখালেও পুরনো বাইকের ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে নানা যান্ত্রিক জটিলতা। একজন অভিজ্ঞ মেকানিকের দৃষ্টিতে, ব্যবহৃত বাইক কেনার সময় কেবল বাহ্যিক রূপ নয়, বরং এর 'মেকানিক্যাল হেলথ' যাচাই করা সবচেয়ে জরুরি। পুরনো মোটরসাইকেল কেনার আগে যে পাঁচটি বড় যান্ত্রিক ত্রুটি আপনার অবশ্যই পরীক্ষা করা উচিত, তা নিচে আলোচনা করা হলো।

১. ইঞ্জিনের শব্দ ও ধোঁয়া পরীক্ষা

বাইকটি স্টার্ট দেওয়ার পর ইঞ্জিনের শব্দ মনোযোগ দিয়ে শুনুন। যদি স্বাভাবিক শব্দের বাইরে কোনো ধাতব ঘর্ষণ বা 'টিক-টিক' শব্দ হয়, তবে বুঝবেন পিস্টন বা কানেক্টিং রডে সমস্যা থাকতে পারে। এছাড়া সাইলেন্সার দিয়ে বের হওয়া ধোঁয়ার দিকে নজর দিন। সাদা ধোঁয়া বের হওয়ার অর্থ হলো ইঞ্জিন অয়েলে সমস্যা বা ইঞ্জিন ওভারহলিংয়ের সময় হয়েছে। ইঞ্জিন ব্লকের আশেপাশে কোনো তেল চুঁইয়ে পড়ছে কি না (Oil Leakage), তাও ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন।

newsbike-dm-asad-20220202154723

২. চ্যাসিস ও ফ্রেমের ভারসাম্য

দুর্ঘটনায় পড়া বাইক মেরামত করে নতুনের মতো সাজিয়ে রাখা সম্ভব, কিন্তু এর ফ্রেম বা চ্যাসিস একবার বেঁকে গেলে তা আগের অবস্থায় ফেরানো কঠিন। বাইকটি সোজা করে দাঁড় করিয়ে লক্ষ্য করুন সামনের ও পেছনের চাকা একই রেখায় আছে কি না। চলন্ত অবস্থায় হ্যান্ডেল ছেড়ে দিলে যদি বাইক একদিকে টেনে নেয়, তবে বুঝবেন চ্যাসিস বা ফোর্ক (Fork) বাঁকা আছে। এমন বাইক কেনা থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৩. টায়ার ও ব্রেকিং সিস্টেমের অবস্থা

সেকেন্ড হ্যান্ড বাইকের টায়ারের থ্রেড বা বিট কতটা আছে তা পরীক্ষা করুন। টায়ার ফেটে গেলে বা অতিরিক্ত ঘর্ষণ হলে তা দ্রুত পরিবর্তনের খরচ আপনার ওপর পড়বে। পাশাপাশি ডিস্ক ব্রেকের প্লেটটি হাত দিয়ে পরীক্ষা করুন; যদি প্লেটে গভীর দাগ বা ঢেউ খেলানো ভাব থাকে, তবে বুঝবেন ব্রেক প্যাড সময়মতো পরিবর্তন করা হয়নি এবং এটি ব্রেকিংয়ের ক্ষমতা কমিয়ে দেবে।

আরও পড়ুন: মোটরসাইকেল না কি স্কুটার বেশি মাইলেজ দেয়?

৪. ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম ও ব্যাটারি

আধুনিক বাইকগুলো এখন সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ইউনিটের (ECU) ওপর নির্ভরশীল। তাই বাইকের সেলফ স্টার্ট ঠিকমতো কাজ করছে কি না, ইন্ডিকেটর ও হেডলাইটের আলো পর্যাপ্ত কি না এবং মিটারে কোনো ‘এরর’ মেসেজ দেখাচ্ছে কি না তা যাচাই করুন। ব্যাটারির টার্মিনালে জং ধরেছে কি না বা ব্যাটারি দুর্বল হয়ে পড়েছে কি না—একজন মেকানিক দিয়ে ভোল্টেজ চেক করিয়ে নেওয়া ভালো।

পুরনো-রয়েল-এনফিল্ড-থাকলে-বড়-সুখবর

৫. ড্রাইভ চেইন ও গিয়ারবক্স

চেইন স্প্রকেট বা ড্রাইভ চেইনটি অতিরিক্ত ঢিলেঢালা বা জং ধরা কি না দেখুন। গিয়ার পরিবর্তনের সময় যদি খুব শক্ত মনে হয় বা গিয়ার আটকে যায়, তবে ক্লাচ প্লেট বা গিয়ারবক্সে বড় ত্রুটি থাকতে পারে। ড্রাইভ চেইনটি যদি দাঁতগুলো ক্ষয়ে ধারালো হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে এটি অচিরেই পরিবর্তন করতে হবে।

এজেড