অটোমোবাইল ডেস্ক
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
গতিশীল গাড়ি বা বাইককে থামাতে হাইড্রোলিক ব্রেক বর্তমানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। এই সিস্টেমের মূল বিশেষত্ব হলো, এটি চালকের সামান্য শারীরিক বলকে তরল পদার্থের চাপের মাধ্যমে বহুগুণ বাড়িয়ে চাকাকে থামিয়ে দেয়।
মূল ভিত্তি: প্যাসকেলের সূত্র
প্যাসকেলের সূত্র অনুযায়ী, একটি আবদ্ধ পাত্রে থাকা তরল পদার্থের ওপর বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগ করলে সেই চাপ তরলের সব দিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয়। হাইড্রোলিক ব্রেকে ব্রেক ফ্লুইড (তেল) ব্যবহার করে এই চাপকে লিভার থেকে চাকায় পাঠানো হয়।

প্রধান অংশসমূহ
একটি কার্যকর হাইড্রোলিক ডিস্ক ব্রেক সিস্টেমে সাধারণত নিচের অংশগুলো থাকে-
মাস্টার সিলিন্ডার: যেখানে ব্রেক ফ্লুইড জমা থাকে এবং চাপ তৈরি হয়।
ব্রেক লাইন বা পাইপ: যার মধ্য দিয়ে তেল প্রবাহিত হয়।
ক্যালিপার: এটি চাকার ডিস্কের ওপর বসানো থাকে, যার ভেতরে পিস্টন থাকে।
ব্রেক প্যাড: ক্যালিপারের ভেতরে থাকা ঘর্ষণ সৃষ্টিকারী অংশ।
রোটর বা ডিস্ক: যা সরাসরি চাকার সাথে ঘোরে।

যেভাবে কাজ করে: ধাপসমূহ
১. চাপ প্রয়োগ: চালক যখন ব্রেক পেডেল (গাড়িতে) বা ব্রেক লিভার (বাইকে) চাপ দেন, তখন সেটি মাস্টার সিলিন্ডারের ভেতরে থাকা একটি পিস্টনকে ধাক্কা দেয়।
২. চাপ সঞ্চালন: মাস্টার সিলিন্ডারের পিস্টনটি ব্রেক ফ্লুইডের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করে। এই চাপ ব্রেক পাইপের মাধ্যমে চাকার কাছে থাকা ক্যালিপারে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন: ABS: অ্যান্টি লক ব্রেকিং সিস্টেম যেভাবে কাজ করে
৩. ক্যালিপারের সক্রিয়তা: ক্যালিপারের ভেতরে থাকা ছোট পিস্টনগুলো তেলের চাপে বাইরের দিকে বেরিয়ে আসে। এই পিস্টনগুলো ব্রেক প্যাডকে দুই দিক থেকে জোরে চেপে ধরে।
৪. ঘর্ষণ ও বিরতি: ব্রেক প্যাডগুলো যখন দ্রুত ঘূর্ণায়মান ডিস্ক বা রোটরকে চেপে ধরে, তখন সেখানে প্রচণ্ড ঘর্ষণ (Friction) তৈরি হয়। এই ঘর্ষণের ফলে চাকার গতিশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং গাড়ি থেমে যায়।

ড্রাম ব্রেক বনাম ডিস্ক ব্রেক
গাড়ির পেছনে অনেক সময় ড্রাম ব্রেক থাকে, যা একইভাবে হাইড্রোলিক চাপে কাজ করে। তবে ডিস্ক ব্রেক বাইরের বাতাসের সংস্পর্শে থাকায় দ্রুত ঠান্ডা হতে পারে, যা বারবার ব্রেক করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর।
আধুনিক অটোমোবাইলে হাইড্রোলিক সিস্টেম কেবল ব্রেকিং নয়, বরং নিরাপত্তার জন্য এভিএস (ABS) বা ইবিডি (EBD)-এর মতো প্রযুক্তির সাথে একীভূত হয়ে কাজ করছে।
এজেড