অটোমোবাইল ডেস্ক
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম
মোটরসাইকেল চালানো যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি সঠিক নিয়ন্ত্রণ না জানলে এটি যেকোনো সময় বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। একজন বাইকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হলো তার বাইকের ব্রেকিং সিস্টেমের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা। অনেকেই মনে করেন কেবল ব্রেক লিভার চাপ দিলেই বাইক থেমে যাবে, কিন্তু ভুল পদ্ধতিতে ব্রেক করার কারণে প্রতিবছর দেশে অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটে। তাই নিরাপদ পথচলার জন্য মোটরসাইকেল ব্রেক করার সঠিক নিয়ম জানা প্রতিটি চালকের জন্য বাধ্যতামূলক।
১. সামনের ও পেছনের ব্রেকের সমন্বয়
মোটরসাইকেলের সামনের চাকার ব্রেক (Front Brake) পেছনের ব্রেকের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আদর্শ নিয়ম হলো সামনের এবং পেছনের ব্রেক একসাথে ব্যবহার করা। সাধারণত ৭০:৩০ অনুপাতে ব্রেক করাকে সবচেয়ে কার্যকর মনে করা হয়। অর্থাৎ ব্রেকিং শক্তির ৭০ শতাংশ সামনের চাকা এবং ৩০ শতাংশ পেছনের চাকায় প্রয়োগ করতে হবে। এতে বাইক স্কিড না করে দ্রুত স্থির হয়।

২. প্রগ্রেসিভ ব্রেকিং পদ্ধতি
হুট করে বা সজোরে ব্রেক চাপ দেওয়া (Panic Braking) অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর ফলে চাকা লক হয়ে বাইক উল্টে যেতে পারে। সঠিক নিয়ম হলো 'প্রগ্রেসিভ ব্রেকিং'। প্রথমে হালকাভাবে ব্রেক চেপে ধরে ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানো। এতে বাইকের সাসপেনশন সেটেল হওয়ার সময় পায় এবং টায়ারের গ্রিপ রাস্তার সাথে মজবুত হয়।
৩. ইঞ্জিন ব্রেকিংয়ের ব্যবহার
কেবল যান্ত্রিক ব্রেকের ওপর নির্ভর না করে 'ইঞ্জিন ব্রেকিং' ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। উচ্চ গতিতে থাকা অবস্থায় থ্রটল ছেড়ে দিয়ে ধীরে ধীরে গিয়ার কমিয়ে (Downshift) বাইকের গতি কমানোর প্রক্রিয়াকে ইঞ্জিন ব্রেকিং বলে। এটি যান্ত্রিক ব্রেকের ওপর চাপ কমায় এবং পাহাড়ি ঢাল বা পিচ্ছিল রাস্তায় বাইককে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

৪. ক্লাচ ব্যবহারের সঠিক সময়
অনেকেই ব্রেক করার শুরুতেই ক্লাচ চেপে ধরেন, যা একটি ভুল ধারণা। ক্লাচ চেপে ধরলে ইঞ্জিন থেকে চাকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে বাইকটি 'ফ্রি রোলিং' শুরু করে এবং গতি আরও বেড়ে যেতে পারে। সঠিক নিয়ম হলো, গতি একদম কমে আসা বা বাইক থামার ঠিক আগ মুহূর্তে ক্লাচ ধরা, যাতে ইঞ্জিন বন্ধ না হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলে হার্ড ব্রেক করলে কী হয়?
৫. কর্নারিং বা বাঁক নেওয়ার সময় সতর্কতা
বাইক যখন বাঁক নেয় (Cornering), তখন ব্রেক করা এড়িয়ে চলা উচিত। বাঁক নেওয়ার আগেই গতি কমিয়ে নেওয়া নিরাপদ। একান্তই প্রয়োজন হলে খুব হালকাভাবে পেছনের ব্রেক ব্যবহার করা যেতে পারে। বাঁক নেওয়া অবস্থায় সামনের ব্রেক কড়াভাবে চাপলে বাইক মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৬. পিচ্ছিল ও ভেজা রাস্তায় সতর্কতা
বৃষ্টির দিনে বা বালুযুক্ত রাস্তায় ব্রেকিংয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাবধানতা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে পেছনের ব্রেক তুলনামূলক বেশি ব্যবহার করা নিরাপদ এবং সামনের ব্রেক ব্যবহারের সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়। এছাড়া এবিএস (ABS) প্রযুক্তির বাইক হলে এটি চাকা লক হওয়া রোধ করে নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
মোটরসাইকেল ব্রেক করার সঠিক নিয়ম জানা থাকলে কেবল নিজের জীবন নয়, বরং পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়। মনে রাখবেন, গতির চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। নিয়মিত ব্রেকিং প্র্যাকটিস এবং বাইকের ব্রেক শু ও টায়ার কন্ডিশন পরীক্ষা করা একজন সচেতন বাইকারের পরিচয়।
এজেড