অটোমোবাইল ডেস্ক
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
মোটরসাইকেলের পারফরম্যান্স ভালো রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। তবে অনেক চালকই বাইকে বড় কোনো সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত সার্ভিসিং করাতে চান না, যা আসলে একটি বড় ভুল। সঠিক সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ না করলে ইঞ্জিনের ওপর চাপ বাড়ে, মাইলেজ কমে যায় এবং রাইডিংয়ের অভিজ্ঞতাও খারাপ হতে থাকে।
মোটরসাইকেল কেন সার্ভিসিং জরুরি?
সঠিক সময়ে সার্ভিসিং করালে কেবল বাইকের পারফরম্যান্সই উন্নত হয় না, বরং এটি আপনাকে ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক খরচ থেকেও বাঁচায়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে বাইকের প্রতিটি যন্ত্রাংশ সচল থাকে এবং রাইড হয় আরামদায়ক।
কখন করাবেন মোটরসাইকেল সার্ভিসিং?
একটি নতুন বাইকের ক্ষেত্রে প্রথম সার্ভিসিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ৫০০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার বা ৩৫ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রথম সার্ভিসিং করানো উচিত।

পরবর্তী সার্ভিসিংয়ের জন্য নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে-
নিয়মিত ব্যবহারকারী: যারা প্রতিদিন বাইক চালান, তাদের প্রতি ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার অন্তর বা ২ থেকে ৩ মাস পর পর সার্ভিসিং করানো উচিত।
অল্প ব্যবহারকারী: যারা কম বাইক চালান, তারা অন্তত ৬ মাস পর পর সার্ভিসিং করিয়ে নেবেন।
সবচেয়ে ভালো উপায় হলো বাইকের সাথে দেওয়া সার্ভিস বুক বা ম্যানুয়াল অনুসরণ করা।

সার্ভিসিংয়ের মূল সুবিধাগুলো
সার্ভিসিং করার সময় মূলত ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন, চেইন লুব্রিকেশন, ব্রেক চেক, টায়ারের প্রেশার এবং এয়ার ফিল্টার পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে-
* জ্বালানি সাশ্রয় হয় (মাইলেজ বাড়ে)।
* হঠাৎ বাইক নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে।
* ইঞ্জিন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের আয়ু বৃদ্ধি পায়।

অবহেলার পরিণতি
সার্ভিসিংয়ে দেরি করলে পুরনো ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের ভেতরের পার্টসগুলোর ক্ষতি করতে শুরু করে। এতে যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষয়ে যায় এবং বাইকের শব্দে পরিবর্তন আসে। এমনকি ব্রেক বিকল হয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: শীতকালে মোটরসাইকেলে বেশি মাইলেজ পাওয়ার উপায়
তাই বাইকের আয়ু বাড়াতে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্ভিসিংকে খরচ হিসেবে না দেখে একটি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
এজেড