অটোমোবাইল ডেস্ক
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
সবুজে ঘেরা পাহাড় আর মেঘের ছোঁয়া পেতে ইদানীং তরুণ প্রজন্মের কাছে মোটরসাইকেল ট্যুর একটি দারুণ ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি কিংবা খাগড়াছড়ির সর্পিল পথ পেরিয়ে অনেকেই এখন দেশের সর্বোচ্চ যান চলাচলের পথ কেওকারাডং পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছেন। তবে পাহাড়ের এই মুগ্ধতা যে কোনো সময় বিপদে রূপ নিতে পারে যদি রাইডার সঠিক প্রস্তুতি এবং পাহাড়ি রাস্তার নিয়ম না জানেন। উঁচু-নিচু ঢাল আর তীব্র বাঁকের পাহাড়ে রাইড করার জন্য সাহস ও দক্ষতার পাশাপাশি প্রয়োজন বিশেষ কিছু সতর্কতা।
বাইকের যান্ত্রিক প্রস্তুতি ও ব্রেকিং সিস্টেম
পাহাড়ে যাওয়ার আগে বাইকের কন্ডিশন পরীক্ষা করা প্রথম ও প্রধান কাজ। বিশেষ করে ব্রেক প্যাড, টায়ার থ্রেড এবং ক্লাচ ক্যাবল অবশ্যই নতুন বা ভালো অবস্থায় থাকতে হবে। কেওকারাডংয়ের মতো রুক্ষ এবং পাথুরে পথে চলতে গেলে বাইকের গ্রিপ খুব গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ে নামার সময় কখনোই শুধু ব্রেকের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়, বরং 'ইঞ্জিন ব্রেকিং' ব্যবহার করতে হবে। নিচু গিয়ারে বাইক নামালে ইঞ্জিনের নিজস্ব শক্তি বাইকের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে ব্রেক ফেইল হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

কর্নারিং এবং গিয়ার সিলেকশনের নিয়ম
পাহাড়ি রাস্তার বাঁকগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ অপর পাশ থেকে আসা গাড়ি আগে থেকে দেখা যায় না। তাই প্রতিটি বাঁকের আগে অবশ্যই হর্ন বাজানো বাধ্যতামূলক। বাঁক নেওয়ার সময় বাইক খুব বেশি হেলানো (লিনিং) ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কারণ পাহাড়ে অনেক সময় রাস্তা ভেজা বা বালু থাকতে পারে। চড়াই বা খাড়া ঢাল ওঠার সময় আগে থেকেই গিয়ার কমিয়ে রাখতে হবে যাতে মাঝপথে ইঞ্জিনের টর্ক কমে না যায়। যথাযথ গিয়ার নির্বাচন না করলে খাড়া পাহাড়ে বাইক পেছনের দিকে গড়িয়ে যাওয়ার বড় আশঙ্কা থাকে।
আরও পড়ুন: কম সিসির বাইক নিয়ে কি পাহাড়ে যাওয়া সম্ভব?
গ্রুপ রাইডিং ও সিগন্যালিংয়ের গুরুত্ব
সাধারণত পাহাড়ে দলবদ্ধভাবে রাইড করা সবচেয়ে নিরাপদ। রাইডিং গ্রুপে একজন দক্ষ লিডার এবং একজন সুইপার (সবার পেছনে থাকা অভিজ্ঞ রাইডার) থাকা জরুরি। এক রাইডার থেকে অন্য রাইডারের মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে যাতে সামনের জন হঠাৎ ব্রেক করলে সংঘর্ষ না ঘটে। কুয়াশা বা মেঘের মধ্যে দৃশ্যমানতা কমে গেলে অবশ্যই হেডলাইট ও হ্যাজার্ড লাইট ব্যবহার করতে হবে। পাহাড়ের রাস্তায় ওভারটেকিং করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাই নির্দিষ্ট লেন বজায় রেখে ধৈর্যের সাথে রাইড করা উচিত।

শারীরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম
পাহাড়ি পথে দীর্ঘ সময় বাইক চালানো বেশ ক্লান্তিকর, যা মনোযোগ নষ্ট করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত বিরতি নেওয়া এবং শরীর হাইড্রেটেড রাখা প্রয়োজন। নিরাপত্তা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভালো মানের ফুল-ফেস হেলমেট, নি-গার্ড (Knee Guard) এবং এলবো-গার্ড ব্যবহার করা জীবনরক্ষাকারী হতে পারে। পাহাড়ে আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হয়, তাই সাথে রেইনকোট বা উইন্ডব্রেকার রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখতে হবে, পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের চেয়ে নিরাপদ রাইডিং এবং সুস্থভাবে ফিরে আসাই একজন সচেতন বাইকারের মূল লক্ষ্য।
এজেড