ঢাকা মেইল ডেস্ক
০২ মে ২০২৬, ০১:০০ এএম
রাজধানীর মিরপুরের ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান মাদরাসা দারুর রাশাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এডুকেশন সেন্টারের উদ্যোগে সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় মাদরাসার পাঠাগারে এই সাহিত্য সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মাদরাসা দারুর রাশাদের প্রিন্সিপাল এবং সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর খলিফা মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান।
প্রধান আলোচক ছিলেন মাদরাসা দারুর রাশাদের শিক্ষা সচিব এবং দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র সহসম্পাদক মাওলানা লিয়াকত আলী। আরও আলোচনা করেন পয়ামে ইনসানিয়ত বাংলাদেশের আমির মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী; ঢাকা মেইলের প্রধান বার্তা সম্পাদক জহির উদ্দিন বাবর, শীলন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাসউদুল কাদির, লেখক ও কবি মিযানুর রহমান জামীল। উপস্থাপন করেন লেখক-অনুবাদক ও মাদরাসা দারুর রাশাদের শিক্ষক মাওলানা এনামুল করীম ইমাম।
মাদরাসা দারুর রাশাদের সাহিত্য সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ, আর-রাশাদ সাহিত্য কাফেলার দায়িত্বশীলবৃন্দ এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক লেখক ও সাহিত্যানুরাগী এই সাহিত্য সভায় অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুহাম্মাদ সালমান বলেন, এক সময় এদেশে ইসলামি ধারার লেখালেখির চর্চা ছিল না বললেই চলে। আমার পীর ও মুর্শিদ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. বাংলাদেশ সফরে এসে এদেশের আলেম সমাজকে কলম হাতে তুলে নেওয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন। পরবর্তী সময়ে মাশাআল্লাহ আলেমদের একটি বড় অংশ লেখালেখিতে এসেছেন। তবে আমাদের কাজগুলো ব্যক্তিগত পর্যায়ে হচ্ছে। সম্মিলিতভাবে আমাদের ভাবনা কম। শিল্প-সাহিত্যে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ সময় সবাইকে যুগচাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে লেখালেখি করার তাগিদ দেন চিন্তাবিদ এই আলেম।
প্রবীণ লেখক-গবেষক মাওলানা লিয়াকত আলী তাঁর বক্তব্যে বলেন, লেখালেখি চর্চায় সাহিত্য সভাগুলো বড় ভূমিকা রাখে। তবে এসব সাহিত্য সভা কীভাবে আরও ফলপ্রসূ করা যায় সে ব্যাপারে সবাইকে ভাবতে হবে। শুধু লেখার জন্য লেখা নয়, লেখা যেন সাহিত্য মানে উত্তীর্ণ হয় সে দিকে জোর দিতে হবে। সাধারণ মানুষ নিছক ইলমি লেখা পড়তে চায় না। এজন্য লেখায় যেন প্রসাদগুণ থাকে সে চেষ্টা করতে তিনি নবীন লেখকদের প্রতি আহ্বান জানান।
জহির উদ্দিন বাবর বলেন, আজ থেকে ২০ বছর আগে যে আঙ্গিকে ও চিন্তাধারায় আমরা লেখালেখি করতাম সেটা থেকে আমাদের এখন বেরিয়ে আসতে হবে। ইতোমধ্যে দুনিয়া অনেকদূর এগিয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমরা আপডেট হতে না পারলে লেখালেখি তার কার্যকারিতা হারাবে। চর্বিত চর্বন থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। নতুন নতুন চিন্তা জাতিকে উপহার দিতে হবে এবং পাঠকের সময়োপযোগী খোরাক সরবরাহ করতে হবে।
জেবি