Dhaka Mail Logo

কৃষি ও পরিবেশ

বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে: মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে দেশের মৎস্য উৎপাদন আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে রয়েছে। এ অবস্থান আরও এগিয়ে নিতে হবে।’

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শফি অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে পোনামাছ অবমুক্তকরণ ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য খাতের পরিধি অনেক বড় এবং এ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বিস্তৃত। একসময় মানুষ এ খাতকে তেমন গুরুত্ব দিত না। সময়ের সঙ্গে মানুষ মৎস্য খাতের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও সচেতন হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাত আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে মৎস্য খাতকে এগিয়ে নেওয়া এবং মৎস্যসম্পদ দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে মানুষকে মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল।

‘এর ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় মৎস্য পক্ষের সূচনা করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাছের উৎপাদন বাড়াতে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন।’

দেশের নদ-নদীর নাব্যতা ও দূষণ প্রসঙ্গে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘বর্তমানে অনেক নদীর নাব্যতা নষ্ট হয়েছে। নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করা এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রেও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণে সক্ষম হলে দেশের অর্থনীতিতে এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।’

মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশে মৎস্য খাতে উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মক্ষেত্র ও জীবন গঠনে শিক্ষার্থীরা এ খাতকে বেছে নিতে পারেন।

‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বর্তমানে মৎস্য খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। মৎস্য খাত সম্পর্কে জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে এর সম্ভাবনা ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে মৎস্য শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়াহিদা হক।  এতে অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওয়ায়দুল ইসলাম এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক।

এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।

এএইচ/এএম