নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম
বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইলেকট্রনিক (ই) বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পরিমাণ বেড়ে ৪৬ দশমিক ২ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছাতে পারে। তবে বর্তমানে উৎপন্ন ই-বর্জ্যের মাত্র ১০ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। বাকি অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থাপিত হওয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক জাতীয় জনসংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েসের উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনসের (এপিসি) সহযোগিতায় এ জনসংলাপের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভয়েসের উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরা ‘ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১’-এর কার্যকারিতা নিয়ে সংগঠনটির সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ, অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের বিস্তারের ফলে ভবিষ্যতে ই-বর্জ্যের পরিমাণ আরও বাড়বে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরাপদ পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা, গবেষণা জোরদার, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং সরকার, শিল্পখাত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক তরিত কান্তি বিশ্বাস বলেন, শুধু নীতিমালা প্রণয়ন বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম দিয়ে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। এ জন্য কার্যকর অবকাঠামো, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং টেকসই অর্থায়নের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জাতীয় গুরুত্বের বিষয়। দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্যাম্পেইন ও কর্মশালার আয়োজনের মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে, যাতে তারা দায়িত্বশীল আচরণ গড়ে তুলে টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।
আরও পড়ুন: ই-বর্জ্য অভিশাপ না আশীর্বাদ?
জনসংলাপে নাগরিক উদ্যোগ, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ, বিভিন্ন রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর ও টেকসই করতে সমন্বিত জাতীয় নীতির বাস্তবায়ন, শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সার্কুলার ইকোনমিভিত্তিক উদ্যোগ জোরদারের মাধ্যমে ই-বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এমআই