Dhaka Mail Logo

কৃষি ও পরিবেশ

সার্ক অঞ্চলে টেকসই উন্নয়নে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চা সম্প্রসারণের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে টেকসই কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষি-প্রতিবেশগত (অ্যাগ্রোইকোলজি) চর্চা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন সার্কভুক্ত দেশগুলোর নীতিনির্ধারক, গবেষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কৃষি পদ্ধতির বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি) আয়োজিত ‌‘দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক পরামর্শ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। সভায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, গবেষক এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরের সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, ভূমির অবক্ষয় এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এই বাস্তবতায় জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চা কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং কৃষির সহনশীলতা বাড়ানোর একটি কার্যকর ও টেকসই পথ।

অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পর্ব শেষে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং সভার সমন্বয়কারী ড. রাজা উল্লাহ খান সভার উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার সম্প্রসারণ টেকসই খাদ্য উৎপাদন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানুষের জীবিকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময় আরও জোরদার করবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে ভারতের কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি ও খাদ্যব্যবস্থা বিষয়ক প্রধান বিশেষজ্ঞ অংশুমান দাস। তিনি বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি কেবল কিছু কৃষি প্রযুক্তির সমষ্টি নয়, বরং এটি একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি। এই পদ্ধতি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে, বাহ্যিক উপকরণের ওপর নির্ভরশীলতা কমায় এবং জলবায়ুজনিত অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষম খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তিনি মূলধারার কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচিতে কৃষি-প্রতিবেশগত নীতিমালা অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জও তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের (এআরডি ও এসডিএফ) পরিচালক তানভীর আহমদ তরফদার বলেন, কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতির বিস্তার ত্বরান্বিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা, নীতিগত সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সার্ক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

SAARC

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেপালের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এবং সার্ক কৃষি কেন্দ্রের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন সাবনাম শিবাকোটি জাতীয় কৃষিনীতি ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে কৃষি-প্রতিবেশগত পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী উদ্যোগ, কৃষককেন্দ্রিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান বিনিময় জোরদার করতে হবে।

বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই কৃষি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি-প্রতিবেশগত চর্চার প্রসারে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং কার্যকর নীতিগত সমর্থন আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এএইচ/এফএ