মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

টেকসই কৃষি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে সার্কের আঞ্চলিক পরামর্শ সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

শেয়ার করুন:

টেকসই কৃষি ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে সার্কের আঞ্চলিক পরামর্শ সভা
‘দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষির নিবিড়তা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ’ শীর্ষক এই সভা। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার উপায় খুঁজতে তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক পরামর্শ সভা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভার্চুয়ালি ‘দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষির নিবিড়তা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ’ শীর্ষক এই সভা শুরু হয়।

সার্ক কৃষি কেন্দ্র আয়োজিত এ সভায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা অংশগ্রহণ করছেন। সভার মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে টেকসই কৃষি চর্চার জন্য সুপারিশ প্রণয়ন করা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষির নিবিড়তা বৃদ্ধি অপরিহার্য হলেও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি মাটির উর্বরতা রক্ষা, পরাগায়ন সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রতিবেশগত স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য তুলে ধরে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ক্রপস) ড. সিকান্দার খান তানভীর বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষিজমির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ বিবেচনায় কৃষির নিবিড়তা বৃদ্ধির পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন জরুরি।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞ এবং ইউএনডিপি ও এফএও-এর আন্তর্জাতিক পরামর্শক ড. পশুপতি চৌধুরী। তিনি কৃষির নিবিড়তা বৃদ্ধির ফলে প্রতিবেশ ব্যবস্থা, পরাগবাহক প্রাণী, মাটির জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক আবাসস্থলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেন। পাশাপাশি টেকসই কৃষি চর্চা, ফসলের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, ‘অভিন্ন কৃষি ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও জ্ঞান বিনিময় আরও জোরদার করতে হবে।’

প্রধান অতিথি ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরিপূরক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি গবেষণা সহযোগিতা, তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং টেকসই কৃষি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই আঞ্চলিক পরামর্শ সভা থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর