জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
ডুমুর গাছে ডুমুর ঝুলছে। গাছের উচ্চতা এক ফুটের খানিকটা বেশি। গাছটির বয়স ২০ বছর। মূলত এটি বনসাই গাছ৷ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে গিয়ে এ গাছের দেখা মিলল। জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান ডুমুরের এ গাছটি নিয়ে এসেছে।
‘বনসাই’ একটি প্রাচীন জাপানি শিল্প, যার মাধ্যমে বড় গাছকে ছোট পাত্রে সীমিত করে একটি ক্ষুদ্রাকৃতির পূর্ণাঙ্গ গাছের রূপ দেওয়া হয়। সঠিক মাত্রায় ডালপালা ছাঁটাই, শিকড় ট্রিম করা এবং তারের সাহায্যে আকৃতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই নান্দনিক গাছগুলো তৈরি করা হয়। বাংলাদেশে বট, পাকুড়, বকুল, তেঁতুল ও কামিনী ইত্যাদি গাছের বনসাই অত্যন্ত জনপ্রিয়।
বৃক্ষ মেলায় আরও দেখা গেছে নানা ধরনের ক্যাকটাস, ফল, ফুল, ওষুধি গাছ। তবে সেগুলোর বেশিরভাগ বিলুপ্ত প্রায়। ক্যাকটাস চারাগুলোর পাশে স্থান পেয়েছে ডুমুর, বট, খেজুর, জাম ও তেঁতুলের গাছ।
মেলার স্টলে দায়িত্বরত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের কর্মী শেখ ইব্রাহিম নয়ন বলছিলেন, এই গাছগুলোর বয়স অন্তত ২০ বছর। জল ডুমুরের বয়সও এমনই। আরও আছে বট, তমাল, জাম, তেতুল ইত্যাদি। এগুলো সবই বনসাই।
নয়ন বলছিলেন, এখানে (স্টলে) কিছু গাছ আছে যেগুলোর বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছর। বেশিরভাগ গাছের সর্বনিম্ন বয়স ২০ বছর। শুধু খেজুর গাছটির বয়স ১৫ বছরের কাছাকাছি। এটা বিদেশি খেজুর গাছ।
এছাড়াও বনসাই গাছ হিসেবে আনা হয়েছে বকুল ও অর্জুন গাছের বনসাই। স্টলে স্থান পাওয়া একটি অশোক বনসাই গাছের বয়স ৩৫ বছর।
এগুলোর পরিচর্যা নিয়ে নয়ন বলছিলেন, আমাদের গাছগুলো নিয়মিত পরিচর্চা করতে হয়। তা না হলে নষ্ট হয়ে যায়। মারা যায় গাছ। প্রতি বছর টব পরিবর্তন করতে হয়। মাটি পরিবর্তন করে আবার মাটি করতে হয় গাছগুলোতে। গাছের শেপ করতে হয়, কাটিং দিতে হয়। তা না হলে তো গাছটা সুন্দর হবে না। প্রতিটা গাছ কাটিং দিয়ে করে সুন্দর করে মাটি সেট করে আবার বসাতে হয়। মাটি চেঞ্জ করতে হয়।
জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ৩২ বছর ধরে কাজ করছেন মোহাম্মদ শাহ আলম। তিনি বলছিলেন, আমি আসার পর থেকে অশোক গাছটি দেখছি। এগুলো প্রতি সপ্তাহে পরিচর্যা করতে হয়। প্রতি মাসে টব ও মাটি পরিবর্তন করতে হয়। বড় টবে হবে না। শেকড় বড় হয়ে যাবে। ফলে টব ছোট দিতে হয়।
শাহ আলম বলেন, আমাদের এখানে সামনে বিচিত্র বনসাই আছে। যেগুলো বাংলাদেশে খুবই কম পাওয়া যায়। আমাদের এখানে বোটানিক্যাল গার্ডেনে মূলত যে গাছগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ থেকে সেগুলো আমরা সংরক্ষণ করে রাখি। যেন গাছগুলো বিলুপ্ত না হয়, এটাই আমাদের এখানে আছে। তবে এসব গাছ বিক্রি হয় না। এটা হচ্ছে দেখার জন্য।
আমাজান লিলির পাতায় শিশু বসে খেলতে পারে: স্টলের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল মেলায় তারা দুই হাজার প্রজাতির গাছ নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে আকর্ষণীয় হলো আমাজান লিলি। স্টলের সামনে ছোট গর্ত করে সেখানে সেই আমাজান লিলির পাতা পানির ওপর শোভা পাচ্ছে।
স্টলের কর্মী ইব্রাহিম বলছিলেন, এই আমাজান লিলি মূলত আমাজান থেকে আনা এক প্রকার শাপলার গাছ। এর একটি পাতা প্রায় ৫-১০ ফুট প্রশস্ত হয়ে থাকে৷ আর বড় হলে সেটির ওপর অনায়াসে দুই বছরের একটি শিশু বসে খেলতে পারে। তবে মেলায় ওঠানো পাতাটি ছোট। সেটি আরও বড় হবে।
এমআইকে/ক.ম