পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করে দেশব্যাপী পরিকল্পিতভাবে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো এবং সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদী নেতারা। তারা বলছেন, দেশে যেভাবে নির্বিচারে গাছ কাটা, পাহাড় ধ্বংস, নদী-খাল দখল এবং জলাভূমি ভরাট করা হচ্ছে, তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ ও অক্সিজেন সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গাছ নিধন বন্ধ ও ব্যাপক হারে বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নেই বলে জানাচ্ছেন পরিবেশবাদীরা।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘প্রাকৃতিক অক্সিজেন রক্ষা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েসের এক সমাবেশে বক্তারা এসব বলেন।
সমাবেশে পরিবেশবাদী নেতা ও স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়ন হতে পারে না। প্রতিটি গাছ কাটা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শ্বাস নেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া। নগর পরিকল্পনায় পরিবেশ ও বৃক্ষ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘গাছ শুধু পরিবেশের নয়, মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম ভিত্তি। উন্নয়নের নামে নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালু করতে হবে।’
জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলনের সদস্য সচিব রুস্তম আলী খোকন বলেন, ‘তরুণ সমাজকে পরিবেশ আন্দোলনে আরও সক্রিয় হতে হবে। পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন এখন জীবন রক্ষার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়ক মিহির বিশ্বাস বলেন, ‘নদী, খাল, জলাশয় এবং গাছ- সবই একই পরিবেশ ব্যবস্থার অংশ। এগুলো রক্ষা না করলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।’
সমাবেশে গ্রীন ভয়েসের কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সুমন সভাপতিত্ব করেন। সহ-সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, তরিকুল ইসলাম রাতুল, শাকিল কবির, ফাহমিদা নাজনীনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রীন ভয়েসের শাখা কমিটির সদস্যরা সমাবেশে অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি আশপাশের সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করার মাধ্যমে শেষ হয়।
এএম/ক.ম




