নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মে ২০২৬, ১০:৪২ এএম
জ্যৈষ্ঠের তপ্ত দুপুরে প্রকৃতিতে যখন রসালো ফলের সমারোহ, কৃষিজীবী ভাইবোনেরা তখন ব্যস্ত মাঠের ফসল ঘরে তোলা আর আগামীর প্রস্তুতি নিয়ে। জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রচণ্ড তাপদাহ আর আকস্মিক বৃষ্টিপাতকে মাথায় রেখে কৃষি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বিশেষ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের সম্পাদক কৃষিবিদ ফেরদৌসী বেগম।
বোরো ও আউশ ধানের পরিচর্যা
মাঠে বোরো ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই তা দ্রুত কেটে মাড়াই ও ঝাড়াই করে শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সময় ও শ্রম বাঁচাতে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আউশ ধানের চারা ১৫-২০ দিন বয়সের হলে দ্রুত মূল জমিতে রোপণ করতে হবে। জমি তৈরির শেষ সময়ে প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও জিপসাম সার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। রোপণের পর অন্তত ৩০-৪০ দিন জমি আগাছামুক্ত রাখা এবং ধানে দুধ আসা পর্যন্ত পর্যাপ্ত রসের ব্যবস্থা করা জরুরি।
আমন ধানের আগাম প্রস্তুতি
নিচু এলাকায় বোরো ধান কাটার আগেই বোনা আমনের বীজ ছিটিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে বন্যার পানি আসার আগেই চারা সতেজ হয়ে ওঠে। এছাড়া রোপা আমনের জন্য এখনই বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময়। সুস্থ চারা পেতে বীজতলায় নিয়মিত সেচ, পানি নিকাশ এবং পামরী পোকার আক্রমণ রোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাট ও তুলার চাষাবাদ
পাটের জমিতে আগাছা পরিষ্কার ও ঘন চারা পাতলা করার কাজগুলো এ মাসেই সেরে ফেলতে হবে। বিছাপোকা বা ঘোড়াপোকার আক্রমণ দেখা দিলে হাত দিয়ে পোকা সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে অথবা অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া যারা তুলা চাষে আগ্রহী, তাদের আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বীজ বপনের জন্য এখনই তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
শাকসবজি ও ফলন বৃদ্ধি
গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির ক্ষেত্রে গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া এবং লতাজাতীয় সবজির জন্য মাচার ব্যবস্থা করা জরুরি। কুমড়াজাতীয় সবজিতে অধিক ফলনের জন্য 'হাত পরাগায়ন' বা কৃত্রিম পরাগায়ন পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাছি পোকা ও জাবপোকা দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ বা বিষটোপ ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন কৃষিবিদরা।
গাছ লাগানো ও অন্যান্য
আদা, হলুদ, কচু বা গ্রীষ্মকালীন মুগডাল চাষের জন্য জ্যৈষ্ঠ মাস অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া আগামী মাসে যারা নতুন গাছ লাগাতে চান, তাদের এখনই জায়গা নির্বাচন, গর্ত তৈরি এবং চারা সংগ্রহের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘সব তলায়া গেছে, কিছুই পাই নাই’
কৃষিবিদ ফেরদৌসী বেগম জানান, কৃষকদের যেকোনো সমস্যায় নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অথবা কৃষি কল সেন্টারের ১৬১২৩ নম্বরে যোগাযোগ করে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপই নিশ্চিত করতে পারে সমৃদ্ধ কৃষি ও কাঙ্ক্ষিত ফলন।
এজেড