ফিচার ডেস্ক
০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ হলেও জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হয় মৌসুমী বায়ুর মাধ্যমে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হলেও শীতকালে প্রকৃতি হয়ে ওঠে শুষ্ক ও ধূসর। মূলত ভৌগোলিক অবস্থান, হিমালয়ের প্রভাব এবং বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনের কারণে শীতের মাসগুলোতে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে। নিচে এর মূল কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
১. উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাব: শীতকালে বায়ুপ্রবাহের দিক গ্রীষ্মকালের ঠিক বিপরীত হয়। এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে অর্থাৎ এশিয়ার বিশাল স্থলভাগ ও হিমালয় অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত হয়। যেহেতু এই বাতাস বিশাল কোনো জলভাগের ওপর দিয়ে আসে না, তাই এতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ থাকে অত্যন্ত নগণ্য। শুষ্ক বাতাসের কারণে মেঘ তৈরি হতে পারে না, ফলে বৃষ্টিও হয় না।

২. উচ্চচাপ বলয় ও বাতাসের নিম্নগমন: শীতকালে তিব্বত মালভূমি এবং সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে বাতাসের ঘনত্ব বেড়ে যায় এবং একটি শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয় তৈরি হয়। এই উচ্চচাপের কারণে বাতাস নিচের দিকে নেমে আসে। নিম্নগামী বাতাস সাধারণত সংকুচিত ও উষ্ণ হতে থাকে, যা মেঘ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। স্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলের কারণে আকাশ পরিষ্কার থাকে।
আরও পড়ুন: বিশ্বের শীতলতম ৭ দেশ
৩. বঙ্গোপসাগর থেকে বিচ্ছন্নতা: গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সরাসরি বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্রতা বয়ে আনে। কিন্তু শীতকালে বায়ুপ্রবাহের দিক দক্ষিণমুখী হওয়ায় বঙ্গোপসাগরের আর্দ্রতা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারে না। আর্দ্রতাহীন বাতাস বৃষ্টি ঘটানোর ক্ষমতা রাখে না।

৪. আপেক্ষিক আর্দ্রতার হ্রাস: শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে বাতাসের জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা কমে যায়। যদিও কুয়াশা দেখা যায়, তবে তা বৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত ঘনীভবন তৈরি করতে পারে না। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকায় জলকণাগুলো বৃষ্টির ফোঁটায় পরিণত হওয়ার আগেই বাষ্পীভূত হয়ে যায়।
ব্যতিক্রম:
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbances): মাঝে মাঝে শীতকালেও বাংলাদেশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। এটি মূলত ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু বা 'পশ্চিমী ঝঞ্ঝা'র কারণে ঘটে। এই বায়ু যখন হিমালয়ে বাধা পেয়ে উত্তর ভারতে বৃষ্টি ঘটায়, তার একটি অংশ বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলে।

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের শীতকালীন শুষ্কতা মূলত একটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য। স্থলভাগ থেকে আসা শুষ্ক বায়ু এবং আর্দ্রতার অভাবই এই ঋতুতে বৃষ্টি না হওয়ার প্রধান কারণ। তবে বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাঝে মাঝে ঋতুচক্রের এই স্বাভাবিক ধারায় বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এজেড