জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৯ পিএম
বোটানিক্যাল গার্ডেনে অযৌক্তিক ফি বাড়ানো, সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন রানিং কমিউনিটি। শুক্রবার (৫ জুলাই) সকালে তারা এ মানববন্ধন করেন।
মিরপুর রানার্স, ইউনাইটেড সোসাইটি ও ফিটনেস ক্যাম্পেইন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা এ মানববন্ধনে অংশ নেয়। তাদের প্রত্যেকের হাতে প্লাকার্ড ও ব্যানার ছিল।
এ সময় তারা বলেন, গার্ডেনে প্রবেশের সময়সীমা বেধে দেওয়া যাবে না। এ সময় তারা বাড়তি ফি প্রত্যাহার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, আগে আমরা সকালে ও বিকেলে এসে ব্যায়াম করতাম। ফি ছিল মাত্র ২০ টাকা। ফলে তা সবার সাধ্যের মধ্যে ছিল। কিন্তু এখন যা ধরা হয়েছে তা আগের থেকে পাঁচগুন। এটা দিয়ে প্রতিদিন সবার পক্ষে প্রবেশ সম্ভব নয়। তাই আমরা এ বাড়তি ফি ও গার্ডেনে প্রবেশের বেধে দেওয়া সময়সীমা প্রত্যাহার চাই।
তারা আরও বলেন, আগে প্রতি সপ্তাহে গার্ডেনে ঢুকতে খরচ হতো ১৪০ টাকা আর এখন তা ৭০০ টাকা! যা অনেকের জন্যই কষ্টকর। এমন ফি অব্যাহত থাকলে গার্ডেনে প্রবেশের সংখ্যা কমে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
রাজধানীর মিরপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ওয়ারীর বলধা গার্ডেনের প্রবেশ ফি ৪ জুলাই থেকে ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। এই ফি আগের থেকে পাঁচগুন বলছেন পরিবেশবাদীরা।
গত ২১ এপ্রিল পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এর বন অধিশাখা -১ থেকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ওয়ারীর বলধা গার্ডেনের প্রবেশ ফি বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয় ১২ বছরের বেশি বয়সীদের বোটানিক্যাল ও বলধা গার্ডেনের প্রবেশ ফি ১০০ টাকা ও ১২ বছরের কম বয়সীদের গুনতে হবে ৫০ টাকা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা সফরে ১০০ শিক্ষার্থীকে ১ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নিয়মিত যারা এই দুটি গার্ডেনে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রাতভ্রমণ করেন তাদের জন্য ৫০০ টাকা দিয়ে বাৎসরিক কার্ড দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রাতভ্রমণকারীদর জন্য এক ঘণ্টা সময় নির্দিষ্ট করে দিলেও সেই নির্দিষ্ট সময়ে ঢোকা এবং বের হওয়া তাদের জন্য যথেষ্ট নয় বলে তারা মনে করেন। বাগানের অনেক স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণকারীদেরকে তাদের বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যেতে হয় এবং মহিলাদের সকালে নানা ধরনের কাজ থাকে। তাই কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ে ঢোকা এবং বের হওয়া তাদের জন্য যথেষ্ট নয় বলে তারা সময় বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
বোটানিক্যাল গার্ডেনে শত শত প্রজাতির বৃক্ষ দেখতে শিক্ষার্থীসহ প্রকৃতিপ্রেমী লোকজন নিয়মিত আসা যাওয়া করে। এছাড়াও সিনিয়র সিটিজেনসহ নানা স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণকারীগণ নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এবং প্রকৃতির মাঝে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। তাই স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণকারীদের জন্য সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া অযৌক্তিক দাবি করে অনেকেই সময় বাড়ানোর দাবি জানান।
হঠাৎ এমন বাড়তি প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ। একটা সময়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনে কোনো প্রবেশ ফি ছিল না। বিনামূল্যে প্রবেশ করে যখন যার ইচ্ছা মতো ব্যায়াম করতেন।
এমআইকে/এমএইচএম