তরুণ ২ উদ্ভাবক বন্ধুর বিশ্বজয়ের সংকল্প

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:২৭ পিএম
তরুণ ২ উদ্ভাবক বন্ধুর বিশ্বজয়ের সংকল্প

‘ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াকালে আমাদের পরিচয়। আমি ইলেকট্রোনিক্স টেকনোলজিতে এবং আরাফ কম্পিউটার টেকনোলজিতে পড়েছি। দুজনের পড়ার বিষয় ভিন্ন হলেও বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কেননা, দুজনেরই স্বপ্নে মিল ছিল। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা শুরুর প্রথম থেকে আমাদের আগ্রহ ছিল নতুন নতুন উদ্ভাবনে।’

রাহাত উদ্দিনের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ও তাদের উদ্ভাবক হয়ে ওঠার শুরুর গল্প এভাবেই বর্ণনা করছিলেন তরুণ উদ্ভাবক আব্দুল্লা আল আরাফ। এরা প্রকৌশল শিক্ষার্থী। যাদের ঝুলিতে আছে কয়েক ডজন চমকপ্রদ উদ্ভাবন। এসব উদ্ভাবনী প্রকল্পের কাহিনি দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে চাউর হয়েছে বিদেশেও। ফলে পেয়েছেন স্বীকৃতিও। 

innovationরাহাত ও আরাফের আলোচিত উদ্ভাবনের মধ্যে কয়েকটি হলো-মাটির গুণাগুণ শনাক্তকরণ যন্ত্র বা ডিজিটাল পোর্টেবল সয়েল টেস্টিং ডিভাইস, বিডি হাইওয়ে টারবাইন, এফ এম বেজড পোর্টেবল ডিজেস্টার এওয়ারনেস সিস্টেম এবং হিউম্যানইয়েড রোবট ‘টিভেট’, ‘ব্যাংরো’ ইত্যাদি। 

এই দুই তরুণ ঢাকা মেইলের পাঠকদের শুনিয়েছেন তাদের উদ্ভাবক হয়ে বিশ্বজয়ের কাহিন। চলুন তাদের বয়ানেই শোনা যাক-

rahatরাহাত উদ্দিন 

আমার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানার মানিকের কান্দি গ্রামে। মাধ্যমিক শেষ করেছি ইমামপুর পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। এরপর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ইলেকট্রোনিক্স টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করি ২০১৮ সালে। এই বছর প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রোনিক্স ডিপার্টমেন্ট থেকে বিএসসি-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছি। দেশের উদ্ভাবন বিদেশে পরিচিয় করাতে চাই। পাশাপাশি আরও শিখতে চাই। এজন্য এমএসসি-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। স্কলারশিপের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। 

আমার বাবার নাম মো. বোরহান উদ্দিন। মা রেহেনা আক্তার। আমি পরিবারের মেজো সন্তান। আমার বড় বোন ও ছোট ভাই আছে।

priceছোট বেলা থেকেই আমার একটা শখ ছিল ইলেকট্রোনিক্স যন্ত্র সংগ্রহের। টাকা  জমিয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রোনিক্স যন্ত্র যেমন- এফএম রেডিও, লাইট, ছোট ফ্যান, এম পি থ্রি ইত্যাদি কিনতাম। সেইগুলো নষ্ট হলে নিজে নিজেই খুলে ঠিক করার চেষ্টা করতাম। অনেক সময়ই ঠিকও হয়ে যেতো। তখন খুব আনন্দ পেতাম।

সে সময়ে বাবা-মা বলতেন, বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার যেনো আমি ইঞ্জিনিয়ার হই। সেজন্য মন দিয়ে পড়াশোনা করতে বলতেন। মূলত ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলাম । বাবা-মায়ের কথামত পড়াশুনায়ও খুব ভালোভাবে মনোনিবেশ করেছিলাম।  গ্রাম থেকে এসএসসি পাস করেই ঢাকায় চলে আসি। ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়তে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি পরীক্ষা দেই। ইলেকট্রোনিক্স টেকনোলজিতে সুযোগ পেলাম। 

rahatপলিটেকনিকে ভর্তি হওয়ার পরপরই কিছু ছোট ছোট প্রোজেক্ট করার চেষ্টা করা শুরু করলাম। প্রথমদিকে নিজের হাত খরচের টাকা দিয়ে টুকটাক যন্ত্রপাতি কিনে কাজ শুরু করি। যখন বড় প্রোজেক্ট করার চিন্তা করলাম তখন সে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারছিলাম না। তখন বাবা আমার আগ্রহ দেখে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার জন্য যে যে ইলেকট্রোনিক্স এবং ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি লাগে, তার মোটামুটি সবগুলোই কিনে দিয়েছিলেন। তাদের ঐ সাপোর্ট এবং উৎসাহগুলো আমার কাজের প্রতি আগ্রহ অনেক অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল। মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের স্বপ্নটা মনে গাঁথে এবং সেই স্বপ্নই বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। 

priceস্বীকৃতি ও পুরস্কার

এই পর্যন্ত এই তরুণ উদ্ভাবনদ্বয় জাতীয় পর্যায়ে আটটি এবং সাতটিসহ মোট ১৫ টি পুরস্কার পেয়েছেন। এগুলো হলো- 

১. চ্যাম্পিয়ন, বেসিস ইয়ুথ ফেস্ট-২০১৮
২. বেস্ট ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড, ইন্টারন্যশনাল কনফারেন্স অন এনআরবি ইঞ্জিনিয়ারস-২০১৯ 
৩. ১ম রানার-আপ, ইন্টারন্যশনাল কনফারেন্স অন রোবটিক্স অ্যান্ড সিগনাল প্রোসেসিং টেকনিক-২০১৯
৪. ২য় রানার-আপ, ৪র্থ ইন্টারন্যশনাল কনফারেন্স অন ভোকেশনাল স্টুডেন্ট ইনোভেশন প্রোজেক্ট-২০১৯
৫. চ্যাম্পিয়ন, বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ 
৬. রানার-আপ, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ-২০২০
৭. মনোনয়ন প্রাপ্তি, আইডিয়াথন অ্যাওয়ার্ড-২০২০ 
৮. চ্যাম্পিয়ন, বেসিস ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড-২০২০-২০২১
৯. মেরিট, এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যাওয়ার্ড (এপিকটা অ্যাওয়ার্ড) ২০২০-২০২১ 
১০. ১ম রানার-আপ, ৬ষ্ট ইন্টারন্যশনাল কনফারেন্স অন ভোকেশনাল স্টুডেন্ট ইনোভেশন প্রোজেক্ট- ২০২১ 
১১. চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশ ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড-২০২১ 
১২. মনোনয়ন প্রাপ্তি, জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২১ 
১৩. চ্যাম্পিয়ন, ইথিকাল স্কিলস অ্যাওয়ার্ড-২০২১
১৪. মনোনয়ন প্রাপ্তি, মুজিব শতবর্ষ আইডিয়া প্রতিযোগিতা-২০২১ 
১৫. ১ম রানার-আপ, ৭ম ইন্টারন্যশনাল কনফারেন্স অন ভোকেশনাল স্টুডেন্ট ইনোভেশন প্রোজেক্ট- ২০২২ 

abdullahআব্দুল্লা আল আরাফ

আমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদীতে। মাধ্যমিক শেষ করেছি মাইজদী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে। এরপর ঢাকা পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এ কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগে ভর্তি হই। সেখান থেকে ৪ বছরের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করি ২০১৮ সালে। এখন বর্তমানে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে সিএসসি ডিপার্টমেন্ট থেকে গ্রাজুয়েশন করছি। আমার বাবার নাম জহিরুল হক এবং মায়ের নাম আয়েশা বেগম। আমি পরিবারের বড় সন্তান আমার একটি ছোট ভাই আছে।

আমি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি তখন আমাদের স্কুলে বিজ্ঞান মেলা হয়। মেলায় একটি প্রজেক্টের মাধ্যমে গাছ কীভাবে পানি শোষণ করে তা দেখানো হয়। সেখান থেকেই আমার মধ্যে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সামাজিক এবং পরিবেশকে ঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন ইনোভেশনের চিন্তা মাথায় আসে।

price

তখন থেকে আমি আমাদের আশে পাশের বিভিন্ন সমস্যা গুলোকে সমাধানের জন্য কাজ শুরু করি। মাধ্যমিক শেষ করার আগ পর্যন্ত বেশ কিছু ছোট ছোট প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছিলাম। কিন্তু তখন আমার কাছে পর্যাপ্ত রিসোর্স না থাকায় আমি সেগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে গিয়ে আর করতে পারতাম না।

যখন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হই আস্তে আস্তে করে প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আরো ভালো ধারণা তৈরি হতে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ইনোভেশনগুলো সম্পর্কে জানতে পারি। তখন আমি দেশের জন্য কিছু একটা উদ্ভাবন নিয়ে আসার জন্য অনেক আইডিয়া নিয়ে পরিকল্পনা করতে থাকি। 

আমি ডিপ্লোমার শেষের দিকে আমাদের গ্রামে যাই এবং আমদের এলাকার যারা কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের সঙ্গে অনেকটা সময় কাটাই। তাদের সঙ্গে বলে সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করি। শেষে দেখতে পাই, তারা বেশির ভাগ সময় শুধুমাত্র ধারনার উপর ভিত্তি করে জমি চাষ, পানি দেওয়া, সার দেওয়া এসব কাজ করে। যার ফলে আশানুরূপ ফলন পান না। তাদের কাছ থেকে এসব কথা শুনে তথ্যগুলো দিয়ে ডাটা অ্যানালাইসিস করে বুঝতে পারি কৃষির সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় মাটি পরীক্ষা করে এরপর চাষের সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু আমাদের দেশের বেশির ভাগ কৃষকরা অল্প শিক্ষিত, যাদের বাস গ্রামে। বছরের পর বছর ধরে তারা তাদের গতানুগতিকভাবে ফসল চাষ করে যাচ্ছে। আমি দেখতে পাই, আমাদের বেশির ভাগ কৃষক মাটি পরীক্ষার বিষয়ে আগ্রহী না, এর কারণ হচ্ছে বর্তমানে ফসলের মাঠের মাটি পরীক্ষার জন্য যে পদ্ধতি মানা হয় তাতে রয়েছে অনেক ঝুঁকি ও ঝামেলা। কৃষককে মাঠ হতে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে নিয়ে যেতে হয়, এরপর একটি নির্দিষ্ট ফি এর বিনিময়ে তার নমুনা মাটিটুকু দিয়ে আসেন পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষার ফলাফল আসতে সময় লাগে ২৫-৩০ দিন। আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার জন্য কৃষককে অনেক দিন অপেক্ষা করতে হয়। ফলে তার ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। বাড়ে উৎপাদন ব্যয়ও। এই মাটি পরীক্ষার সহজ উপায় যদি কৃষকের হাতের কাছে পোঁছানো যায় তাহলে কৃষক এই মাটি পরীক্ষার প্রতি আগ্রহী হবেন। সেজন্য আমি ও রাহাত কাজ করছি।   

দুই বন্ধুর যত উদ্ভাবন

১. পোর্টেবল সিএনসি মিশিন
২. ওয়েদার অ্যাপ্লিকেশন 
৩.  ব্যাংরো (হিউম্যানইয়েড রোবট) 
৪. মি. টিভেট (হিউম্যানইয়েড রোবট) 
৫. এফ এম বেজড পোর্টেবল ডিজেস্টার অ্যাওয়ারনেস সিস্টেম 
৬. মাটির প্রাণ (ডিজিটাল পোর্টেবল সয়েল টেস্টিং ডিভাইস)
৭. বিডি হাইওয়ে টারবাইন (স্মার্ট ভারটিকাল এক্সিস উইন্ড টারবাইন) 

priceউদ্ভাবনে দুজনের যোগসূত্র

রাহাত বলেন, সকল সফলতার পিছনে একটা ভালো টিম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দুজনই ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডের। তার থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে আমি ইলেকট্রোনিক্স অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টে এবং আরাফ কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা করার কারণে আমাদের প্রজেক্টগুলো করতে বেশিরভাগ সময় অন্য কারো সহযোগিতার প্রয়োজন হয়নি। কারণ আমাদের প্রজেক্টগুলো এই দুই ডিপার্টমেন্টের সমন্বয়ই হয়ে থাকে। আমরা যেকোনো বিষয় সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দুজন আলোচনা করে সঠিক সিদ্দান্ত নেয়ার চেস্টা করি। এতে করে নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বিধা থাকে না। একটা ভালো টিমই পারে সকল কাজে সফলতা এনে দিতে। আমাদের দুজনেরই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য এক, তাই আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।

চলমান প্রকল্প

আরাফ বলেন, আমাদের দেশের হাইওয়ে রাস্তা গুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার দ্রুত গতির যানবাহন চলাচল করে। যার ফলে সেখানে একধরনের বায়ুর চাপ উৎপন্ন হয়। সেই বায়ুর চাপকে কাজে লাগানোর জন্য আমরা একটি টারবাইন ডিজাইন করি। এই টারবাইন বড় ট্রাক এবং বাসের মতো রাস্তায় দ্রুতগামী যানবাহন দ্বারা উৎপন্ন বায়ুচাপ এর সাহায্যে ঘুরবে এবং বিদ্যুৎ উৎপন্ন করবে। এছাড়াও এই টারবাইনের সঙ্গে কিছু আইওটি সেন্সর যুক্ত আছে যার সাহায্যে পরিবেশের তাপমাত্রা, বাতাসের আদ্রতা ও কার্বনডাইঅক্সাইডের পরিমান পরিমাপ করা যাবে। 

priceএই সেন্সরের ডাটাগুলোর মাধ্যমে ঐ অঞ্চলের বাতাসের অবস্থা ও পরিবেশের তথ্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি, কারণ এখানে কিছু সমস্যা বিদ্যমান। প্রথমত আমাদের দেশে যে টারবাইনগুলো ব্যবহার হচ্ছে এইগুলো আকারে অনেক বড় এবং এইগুলোর রক্ষনাবেক্ষণ খরচও অনেক বেশি। তাছাড়া এই টারবাইনগুলোর ব্লেড বিভিন্ন পাখির জন্য বিপদজনক। 

এই সব কিছু বিবেচনা করে আমরা একটি ভার্টিক্যাল টারবাইনের ডিজাইন করি। যা আমাদের হাইওয়ে এবং নৌপথে জাহাজ গুলোর মধ্যে স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। আমাদের এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিকে আরো সহজ করা, যাতে করে দেশে সোলারের পাশাপাশি বায়ু বিদ্যুৎ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। তাছাড়া এই প্রকল্পের আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্-ছে সেন্সরের মাধ্যমে বাতসে কার্বনের পরিমান ও বায়ু দূষণের পরিমাণ সম্পর্কে মানুষকে জানানো। আমাদের এই প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধরনের জ্বালানির প্রয়োজন নেই বলে এটি অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব। যার ফলে আমাদের দেশের হাইওয়ে গুলোতে পর্যাপ্ত বায়ুসম্পদ থাকায় বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন আমাদের এনার্জি খাতের জন্য নতুন একটি মাত্রা যোগ করবে।

priceআমাদের এই টারবাইন প্রকল্প থেকে আমাদের দেশের জনগণ সরাসরি উপকৃত হবেন। আমাদের তৈরি করা এই ভার্টিক্যাল টারবাইন যদি আমাদের দেশের হাইওয়ে গুলোতে স্থাপন করা হয় তাহলে এখান থেকে প্রচুর বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা ঐএলাকার চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করতে সক্ষম হবে। এই প্রকল্পে আমাদের মেন্টর হিসেবে আছেন প্রফেসর ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউআইইউ ইউনিভার্সিটি। 

যেসব দেশে তাদের উদ্ভাবন প্রদর্শিত হয়েছে

১. ভারত
২. থাইল্যান্ড
৩. ভিয়েতনাম
৪. সিঙ্গাপুর

priceআগামীর পরিকল্পনা  

আগামীর পরিকল্পনা জানতে চাইলে রাহাত ও আরাফ বলেন, দেশের জন্য কল্যাণকর ও উপযোগী কাজ করে যাব সবসময় এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তাই ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে আমরা নতুন নতুন বিষয় নিয়ে ইনোভেশন করার চেস্টা করব। 

আমাদের ইনোভেশনগুলোকে কীভাবে মার্কেটে আনা যায় এবং কীভাবে প্রোডাক্টে পরিণত করা যায় এইটা আমাদের আর একটি লক্ষ্য। কারণ, আমরা যতই ইনোভেশন করি না কেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের কাছে না পৌঁছানো যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত ইনোভেশনের সুফল আসবে না। তাই আমাদের ইচ্ছা যেন প্রতিটা ইনোভেশন ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছানো, কিন্তু তার জন্য দরকার পর্যাপ্ত আর্থিক আনুদান (ফান্ড)। বাংলাদেশে অনেক উদ্ভাবন একমাত্র আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে অচিরেই বন্ধ হয়ে যায়। তাই এই বিষয়ে সরকার এবং প্রাইবেট কিছু কোম্পানিদের নজর দেয়ার বা সহযোগিতা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরুধ জানাচ্ছি। 
 
বাংলাদেশকে কী কী দিতে চান? 

রাহাত বলেন, আমরা জানি যে বর্তমানে আমাদের দেশে বিশেষ করে শহরগুলোতে অনেক অনেক সমস্যা রয়েছে। যেমন, ট্রাফিক, ইলেকট্রিসিটি, পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা ইত্যাদি অনেক বিষয় রয়েছে। আমাদের ইচ্ছা আছে এবং আমরা আলরেডি কাজ করতেছি ইলেকট্রিসিটি নিয়ে। বাংলাদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০% বিদ্যুৎ আসতে হবে রিনিউয়েবল এনার্জি থেকে। তাই আমরা এই রিনিউয়েবল এনার্জির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছি এবং আমাদের “স্মার্ট ভারটিকাল এক্সিস উইন্ড টারবাইন” প্রজেক্টের মাধ্যমে দেশের রিনিউয়েবল এনার্জি খাতে কিছুটা হলেও সহযোগিতা করতে পারব। 

arsbআরাফ বলেন, আমরা কাজ করছি এগ্রিকালচার নিয়ে। আমরা জানি বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ, কৃষিতে আমরা যত বেশি উদ্ভাবন নিয়ে আশা যাবে দেশের অর্থনীতি তত বেশি সমৃদ্ধ হবে। তাই কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে আমরা উদ্ভাবন করেছি (ডিজিটাল পোর্টেবল সয়েল টেস্টিং ডিভাইস) এবং আরও নতুন উদ্ভাবন করার চেস্টা করছি।  

এজেড