পুরনো স্মার্টফোন অন্যের কাছে বিক্রি করার বা বদল করার আগে আমরা সকলেই ফোনটি ফ্যাক্টরি রিসেট করে একেবারে নিশ্চিন্ত হয়ে যাই। অধিকাংশ মানুষেরই এমন ধারণা থাকে যে, একবার রিসেট করলেই ফোনের সমস্ত ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও এবং চ্যাট চিরতরে মুছে যায়। কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ফ্যাক্টরি রিসেট করার পরেও আপনার পুরনো ফোন থেকে খুব সহজেই ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব, যা শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।
সাধারণত ফোন থেকে কোনো ফাইল মুছে ফেলা এবং তা মেমোরি থেকে চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। আপনি যখন কোনো ছবি ডিলিট করেন বা ফোন রিসেট করেন, তখন ডিভাইসটি সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য মুছে ফেলে না। সময় ও ব্যাটারি বাঁচানোর জন্য স্মার্টফোন একটি শর্টকাট পদ্ধতি ব্যবহার করে, যার ফলে পুরনো ডেটা ফোনের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে। বিষয়টি সহজ ভাষায় বললে, ফোনের স্টোরেজ হলো একটি বড় বইয়ের মতো। আপনি যখন কোনো ছবি বা ভিডিও ডিলিট করেন, তখন ফোন বইয়ের ভেতর থেকে সেই পাতাটি ছিঁড়ে ফেলে না; বরং বইয়ের প্রথমে থাকা সূচিপত্র বা ইনডেক্স থেকে শুধু সেই ফাইলের নাম ও ঠিকানা মুছে দেয়। ফোনের সিস্টেম মনে করে জায়গাটি ফাঁকা, অথচ আসল ছবিটি মেমোরির কোনো এক কোণে আগের মতোই পড়ে থাকে।

প্রযুক্তির ভাষায় এই ফাঁকা জায়গাকে বলা হয় আনঅ্যালকেটেড স্পেস। ফোনের মেমোরি থেকে পুরনো ফাইল সম্পূর্ণভাবে তখনই মুছে যায়, যখন ঠিক সেই জায়গায় নতুন কোনো ছবি বা ফাইল সেভ করা হয়, যাকে বলা হয় ডেটা ওভাররাইট। বর্তমানে ইন্টারনেটে এমন অসংখ্য রিকভারি সফটওয়্যার রয়েছে, যা ব্যবহার করে সামান্য প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকা ব্যক্তিও ফোনের মেমোরি স্ক্যান করতে পারেন। এই সফটওয়্যারগুলো সরাসরি ফ্ল্যাশ মেমোরি পরীক্ষা করে ইনডেক্স থেকে মুছে যাওয়া ফাইল খুব সহজেই আবার স্ক্রিনে ফিরিয়ে আনতে পারে। অনেক সময় সাইবার প্রতারকরা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পুরনো ফোন কিনে আগের মালিকের ব্যক্তিগত ছবি, ব্যাংকের তথ্য বা গোপন ভিডিও উদ্ধার করে ব্ল্যাকমেলিংয়ের মতো অপরাধ ঘটিয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: চার্জিং কেবলের মাথায় এই খাঁজগুলো কেন থাকে?
এই ধরনের বড় বিপদ থেকে বাঁচতে ফোন বিক্রির আগে কিছু সুনির্দিষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফোনের এনক্রিপশন নিশ্চিত করা। বর্তমানের প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং আইফোন ডিফল্টভাবেই এনক্রিপ্টেড থাকে, যা ডেটাকে একটি বিশেষ সাংকেতিক কোডে পরিণত করে। আপনার ফোনটি তুলনামূলক পুরনো হলে রিসেট করার আগে স্টোরেজ এনক্রিপ্ট করার বিকল্প আছে কি না তা দেখে নেওয়া উচিত। এ ছাড়া আরেকটি কার্যকর উপায় হলো ডামি ডেটা দিয়ে ফোনের স্টোরেজ সম্পূর্ণ ভরে দেওয়া। প্রথমে সাধারণ নিয়মে একবার ফোন রিসেট করার পর কোনো অ্যাকাউন্টে লগইন না করে ফোনের ক্যামেরা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ভিডিও রেকর্ড করে কিংবা বড় আকারের ফাইল ডাউনলোড করে মেমোরি একশ শতাংশ পূর্ণ করে দিতে হবে। এর ফলে নতুন অপ্রয়োজনীয় ডেটা পুরনো ফাইলের ওপর ওভাররাইট হয়ে যাবে। এরপর আরও একবার ফোনটি ফ্যাক্টরি রিসেট করে নিলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
এজেড




