আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন, বিভিন্ন কেবল বা তারের একেবারে শেষ প্রান্তে বিশেষ ধরনের একটি নকশা বা খাঁজ থাকে? অনেকেই এটিকে নিছক ডিজাইন ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু আসলে এই নকশার সঙ্গে সৌন্দর্যের কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এটি কেবলের স্থায়ীত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অনেক তারের প্লাগের পেছনেও এই ধরনের নকশা দেখা যায়। আসলে এই নকশার কাজ হলো কেবল বা তারকে নমনীয়তা দেওয়া এবং বারবার বাঁকানোর ফলে যাতে তা সহজে ছিঁড়ে বা ভেঙে না যায়, তা নিশ্চিত করা। যে তারগুলোতে এই বিশেষ নকশা থাকে না, সেগুলো অনেক সময় সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, যে তারগুলোতে এই ডিজাইন থাকে না, সেগুলোর জন্য আলাদা করে এই সাপোর্ট সিস্টেম কিনতেও পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: ফোনের ক্যামেরার পাশে ছোট্ট ছিদ্রের আসল কাজ কী?
যে কোনো কেবল বা তারের শেষ প্রান্তে থাকা এই বিশেষ ধরনের খাঁজ আসলে সাপোর্ট সিস্টেম হিসেবে কাজ করে। যে তারগুলোতে এই খাঁজ থাকে না, সেগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রান্তের দিক থেকে ছিঁড়ে যেতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো, বারবার একই জায়গা থেকে তারটি বাঁকানো। আসলে যে কোনো কেবল বা তারের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে সেই জায়গায়, যেখানে কানেক্টরটি তারের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ ধরনের খাঁজযুক্ত নকশাটি সেই চাপকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কেন্দ্রীভূত হতে দেয় না। ফলে তার বা কেবলের আয়ু অনেকটাই বেড়ে যায়।

কেবলে এই বিশেষ ধরনের নকশা না থাকলে কানেক্টরের ঠিক পেছনের অংশ থেকেই তারটি সহজে ছিঁড়ে যেতে পারে। অনেক সস্তার কেবলে এই ধরনের ডিজাইন থাকে না। দ্রুত সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণও এটাই। কারণ, কানেক্টরের পেছনে বারবার বাঁকানোর ফলে যে চাপ তৈরি হয়, তা সামলানোর জন্য সেখানে কোনো অতিরিক্ত সাপোর্ট সিস্টেম থাকে না। কেবলে প্লাস্টিকের এই অতিরিক্ত অংশ না দিয়ে সংস্থাগুলো উৎপাদন খরচ কিছুটা কমায়। কিন্তু এর মাশুল গুনতে হয় গ্রাহকদের। কারণ, তাদের বারবার নতুন কেবল কিনতে হয়। তাই কোনো কেবল কেনার সময় সব সময় এমন কেবল বেছে নিন, যার কানেক্টরের পেছনে এই ধরনের বিশেষ নকশা বা খাঁজ রয়েছে।

আপনার কেবলের কানেক্টরের পেছনে যদি এই ধরনের গ্রুভ ডিজাইন না থাকে, তবে প্রোটেক্টর ব্যবহার করে তার আয়ু বাড়াতে পারেন। বাজারে ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যেই এই ধরনের প্রোটেক্টর পাওয়া যায়। এগুলো কেবল প্রোটেক্টর বা স্পাইরাল কর্ড সেভার নামে পরিচিত। এই প্রোটেক্টরগুলো সিলিকন বা শক্ত প্লাস্টিকের তৈরি ছোট ছোট স্পাইরাল স্লিভ। কেবলের দুইটি প্রান্তেই এগুলো সহজে পেঁচিয়ে লাগানো যায়। এ ছাড়াও হিট শ্রিংক টিউব একটি ভালো এবং সস্তার বিকল্প। লাইটারের হালকা তাপ প্রয়োগ করে এই টিউব তারের ওপর আটকে দেওয়া যায়। ফলে তারের দুর্বল অংশটি অতিরিক্ত সুরক্ষা পায় এবং অনেকটা কারখানায় তৈরি কেবলের মতো মজবুত হয়ে ওঠে।
এজেড




