নভেম্বর মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শীতের আমেজ অনুভূত হতে শুরু করে। আবহাওয়া ঠান্ডা হতে থাকায় সকালে ঠান্ডা পানিতে গোসল করা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে বাড়িতে গিজারের প্রয়োজন হয়। অনেক বাড়িতেই মাত্র দুই জন সদস্য থাকেন। তাদের জন্য কোন ধরনের গিজার সবচেয়ে ভালো হতে পারে, যাতে বিদ্যুতের বিলও কম আসে এবং দুইজনের প্রয়োজনও মিটে যায়, তা জেনে নেওয়া দরকার।
অনেক সময় মানুষ বুঝতে পারেন না কত লিটারের গিজার কেনা উচিত এবং তাতে কী ধরনের প্রযুক্তি থাকা প্রয়োজন, যার প্রভাব পড়ে মাসের বিদ্যুতের বিলে। আপনিও যদি এই শীতে দুই জনের ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী কোনও ভালো গিজার কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে কেনার আগে কয়েকটি জরুরি বিষয় অবশ্যই জেনে নেওয়া উচিত।
গিজার কেনার সময় প্রথমেই ঠিক করে নিতে হবে ইনস্ট্যান্ট গিজার প্রয়োজন নাকি স্টোরেজ গিজার। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে গোসলের অভ্যাসের উপর। বাড়ির দুই জন সদস্য যদি বালতিতে পানি ভরে গোসল করেন, তাহলে ১০ থেকে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার সবচেয়ে ভালো বিকল্প হতে পারে।
অন্যদিকে, বাথরুমে শাওয়ার ব্যবহার করলে কমপক্ষে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার বেছে নেওয়া উচিত। আবার সকালে অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকলে এবং পানি গরম হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব না হলে ৩ লিটার বা ৬ লিটার ক্ষমতার ইনস্ট্যান্ট গিজার একটি ভালো বিকল্প হতে পারে, কারণ এই ধরনের গিজারে সুইচ অন করলেই দ্রুত গরম পানি পাওয়া যায়। তবে মাত্র দুইজনের ব্যবহারের জন্য ২৫ লিটারের বড় গিজার কিনলে প্রতিদিন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পানি গরম হবে এবং অকারণে বিদ্যুতের খরচ বাড়বে।

শীতকালে বাড়ির বিদ্যুতের বিল বেড়ে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হল গিজারের হিটিং সিস্টেম। অনেকেই সামান্য টাকা বাঁচানোর জন্য কম স্টার রেটিংযুক্ত স্থানীয় সংস্থার গিজার কিনে ফেলেন, কিন্তু পরে প্রতি মাসে বেশি বিদ্যুতের বিল দিতে হয়। তাই নতুন গিজার কেনার সময় সবসময় বিইই ফাইভ স্টার রেটিংযুক্ত মডেল বেছে নেওয়া উচিত।
পাশাপাশি গিজারের ট্যাংকে ব্যবহৃত পিইউএফ অর্থাৎ পলিউরেথেন ফোম ইনসুলেশন প্রযুক্তি রয়েছে কি না, সেটিও অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখা দরকার। ভালো মানের পুরু ইনসুলেশন স্তর থার্মসের মতো গিজারের ভিতরের পানিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গরম রাখতে সাহায্য করে, ফলে পরিবারের একজন সদস্য গোসল করার দুইঘণ্টা পর দ্বিতীয় ব্যক্তি গোসল করতে গেলেও গিজারকে প্রথম থেকে পানি গরম করতে হয় না এবং বিদ্যুতের খরচ কমে। এছাড়া গিজারে অটো থার্মোস্ট্যাট এবং অটো-কাট ফিচার থাকাও জরুরি, যা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পানি গরম হয়ে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করে দেয়।
আরও পড়ুন: ইন্ডাকশন ওভেন ব্যবহার করেন? এই তিনটি ভুল করলেই সর্বনাশ!
শুধু বিদ্যুতের বিল নয়, গিজার কত দ্রুত খারাপ হচ্ছে এবং তার রক্ষণাবেক্ষণে কত খরচ হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক এলাকায় লবণাক্ততা বা হার্ড ওয়াটারের সমস্যা থাকে, যার ফলে হিটিং রডের উপর সাদা আস্তরণ জমে যায় এবং সাধারণ গিজারের হিটিং এলিমেন্ট ও ট্যাংকে মরচে ধরতে পারে। রডের উপর এই আস্তরণ জমলে পানি গরম করতে দ্বিগুণ সময় এবং বেশি বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এই খরচ এড়াতে গিজার কেনার সময় গ্লাস লাইন্ড কোটিং অথবা টাইটানিয়াম এনামেল ট্যাংক প্রযুক্তি রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া দরকার।
এই ধরনের ট্যাংকে সহজে মরচে ধরে না এবং লবণাক্ততা জলের প্রভাবও তুলনামূলক কম পড়ে, ফলে পানি গরম করার ক্ষমতা দীর্ঘদিন একই রকম থাকে। আরও আধুনিক প্রযুক্তির গিজার চাইলে বর্তমানে ওয়াই-ফাই এবং ডিজিটাল টেম্পারেচার ডিসপ্লে-সহ স্মার্ট গিজারও পাওয়া যায়, যেগুলো মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গোসল ঠিক দশ মিনিট আগে গিজার চালু করা কিংবা প্রয়োজন মিটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে সঠিকভাবে বিদ্যুতের সাশ্রয় করা সম্ভব।
এজেড




