সামনেই শীত আসছে, কম দামে কেনার জন্য অনেকেই এখন গিজার কিনছেন বা কেনার চিন্তাভাবনা করছেন। আর শীতের আমেজ শুরু হতেই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, পরিবারের জন্য ঠিক কত লিটারের গিজার কেনা উচিত এবং কীভাবে কমাবে বিদ্যুতের বিল। ৫ জনের পরিবারের ক্ষেত্রে ১৫ লিটার নাকি ২৫ লিটারের গিজার উপযুক্ত, তা নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। ভুল ক্ষমতার গিজার কিনলে যেমন প্রয়োজনের সময় গরম পানি ফুরিয়ে যেতে পারে, তেমনই বিদ্যুৎ বিলও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাই শীতের আগে সঠিক গিজার বেছে নেওয়ার কিছু সহজ হিসাব ও পরামর্শ জেনে নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন: শীত আসার আগেই গিজারের যত্ন
সাধারণত ৫ জনের পরিবারের জন্য ইনস্ট্যান্ট গিজারের পরিবর্তে স্টোরেজ ট্যাংকযুক্ত গিজার কেনাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে এর ধারণক্ষমতা নির্ভর করবে পরিবারের সদস্যরা কীভাবে গোসল করতে পছন্দ করেন তার ওপর। বাড়ির সবাই যদি বালতি ও মগ দিয়ে গোসল করেন, তবে একবার পানি গরম করে ঠান্ডা পানি মিশিয়ে ১৫ থেকে ২৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার দিয়ে অনায়াসে ৩ থেকে ৪ জন গোসল করতে পারেন। অন্যদিকে, বাথরুমে শাওয়ারের ব্যবহার বেশি থাকলে এবং সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকলে অন্তত ২৫ থেকে ৩৫ লিটারের গিজার কেনা ভালো, কারণ শাওয়ারে অল্প সময়েই ছোট ট্যাংকের পানি শেষ হয়ে যায়।

পরিবারের দৈনন্দিন রুটিন বুঝে গিজার নির্বাচন করা উচিত। সকালে অফিস ও স্কুলের তাড়াহুড়ায় যদি পাঁচজনকেই পরপর দ্রুত গোসল করতে হয়, তবে ২৫ লিটারের গিজার কেনাই ভালো, এতে বারবার পানি গরম হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। পক্ষান্তরে, পরিবারের দুইজন সকালে এবং বাকিরা কিছুটা পরে বা দুপুরে গোসল করলে ১৫ লিটারের গিজারেই কাজ চলে যায়, যার প্রাথমিক খরচ কম এবং পানিও তুলনামূলক দ্রুত গরম হয়। এছাড়া রান্নাঘরে থালা-বাসন ধোয়ার জন্য ৩ বা ৫ লিটারের ছোট ইনস্ট্যান্ট গিজার ব্যবহার করা সুবিধাজনক।
বিদ্যুতের বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিজার কেনার সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। শীতকালে বিল বাড়ার অন্যতম কারণ ভুল মডেলের ব্যবহার, তাই ৫-স্টার বিইই রেটিংযুক্ত গিজার কেনা উচিত। এই ধরনের গিজারে ভালো মানের ইনসুলেশন থাকে যা পানি অনেকক্ষণ গরম রাখে এবং বারবার গিজার চালানোর প্রয়োজন কমায়।
পাশাপাশি, এলাকায় খরা বা পানির সমস্যা থাকলে সাধারণ স্টিলের বদলে গ্লাস-লাইন্ড বা টাইটেনিয়াম কোটিংযুক্ত ট্যাঙ্কের গিজার বেছে নেওয়া ভালো, যা হিটিং এলিমেন্টকে দীর্ঘস্থায়ী করে। কেনার আগে ট্যাঙ্কের অন্তত ৫ থেকে ৭ বছরের ওয়ারেন্টি এবং থার্মাল কাট-অফের মতো সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
এজেড




