শীত কড়া নাড়ার আগেই শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। সকালে বা রাতে হালকা শীতে গরম পানির আরাম পেতে অনেকেই এখন গিজার ব্যবহার শুরু করছেন। তবে দীর্ঘ মাস বন্ধ থাকার পর হঠাৎ গিজার চালিয়ে দেওয়ার আগে এর সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললে গিজারের কার্যক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনই কোনো বড় ধরনের বিপদের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।
শীতের মৌসুমে বাড়িতে গিজার ব্যবহার এখন অত্যন্ত সাধারণ ও প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। নভেম্বর মাস শেষ হলেই জাঁকিয়ে শীত পড়তে শুরু করে। এই সময়ে ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই ঠান্ডা পানিতে গোসল করা কিংবা বাসন ধোয়া এড়িয়ে চলেন। তার বদলে গরম পানি ব্যবহার করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আর এর জন্যই বাড়িতে গিজার ব্যবহার করা হয়। তবে দীর্ঘ গরমের দিনগুলোতে গিজার বন্ধ থাকায় শীতের শুরুতে সেটি হঠাৎ চালু করার আগে কিছু বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শীতে গিজার চালু করতেই পানি গরম হচ্ছে না?
গিজার পরিষ্কার ও সার্ভিসিং করানো
দীর্ঘদিন গিজার বন্ধ থাকায় এর ট্যাংকের ভেতরে ময়লা বা খনিজ পদার্থের আস্তরণ জমতে পারে। তাই শীতের শুরুতেই কোনো দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে গিজারটি চেক করিয়ে নেওয়া ভালো। এর ফলে ট্যাংকের ভেতরের ময়লার পাশাপাশি হিটিং এলিমেন্টের অবস্থা কেমন আছে, তাও পরিষ্কার হয়ে যায়।
_20261026_104356736.jpeg)
তার ও প্লাগ পরীক্ষা করা
শীতকালে গিজার চালু করার আগে এর বৈদ্যুতিক তার, প্লাগ এবং সুইচ ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। অনেক সময় ইঁদুরে তার কেটে দিতে পারে বা শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি থাকে। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই গিজার ব্যবহার করা উচিত।
অপ্রয়োজনে গিজার চালু না রাখা
গিজার ব্যবহার করে বিদ্যুতের বিল কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সুইচ বন্ধ করে দেওয়া। অনেকেই পানি গরম করার জন্য গিজার চালু করে দীর্ঘক্ষণ তা বন্ধ করতে ভুলে যান। ফলে গিজার চলতেই থাকে এবং বিদ্যুতের খরচ বাড়ার পাশাপাশি যন্ত্রটির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। নতুন গিজারে অটো-কাটের সুবিধা থাকলেও অপ্রয়োজনে সুইচ অন করে না রাখাই শ্রেয়।

সঠিক ধারণক্ষমতা ও রেটিং বেছে নেওয়া
আপনার বাড়িতে যদি পুরোনো গিজার থাকে এবং সেটি যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ করে, তবে নতুন ৫-স্টার রেটিংযুক্ত এনার্জি এফিশিয়েন্ট গিজার কিনে নিতে পারেন। এছাড়া পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী সঠিক ধারণক্ষমতার গিজার ব্যবহার করলে বারবার পানি গরম করার ঝামেলা ও বিদ্যুৎ অপচয় দুটোই রোধ করা সম্ভব। এই সহজ বিষয়গুলো মাথায় রাখলে শীতের মরশুমে নিরাপদে ও সাশ্রয়ীভাবে গরম পানির আরাম উপভোগ করতে পারবেন।
এজেড




