মাল্টি-পোর্ট চার্জার কেনার আগে এর প্রযুক্তি এবং নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। বাক্সে ৬৫ ওয়াট বা তার বেশি পাওয়ার লেখা থাকলেও সব সময় নির্দিষ্ট গতিতে ফোন চার্জ নাও হতে পারে। তাই কেনার আগে পোর্টের আউটপুট এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
বর্তমানে অনেকের কাছেই একাধিক ডিভাইস রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত চার্জ করার প্রয়োজন হয়। তাই অনেকেই এমন একটি চার্জার কিনতে চান, যাতে একসঙ্গে একাধিক ডিভাইস চার্জ করা সম্ভব হয়। এই ধরনের চার্জারকে মাল্টি-পোর্ট চার্জার বলা হয়। তবে সাধারণ একক পোর্টযুক্ত চার্জারের তুলনায় এগুলির দাম কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। মাল্টি-পোর্ট চার্জার কেনার সময় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, আদৌ কি তাঁদের এই ধরনের চার্জার প্রয়োজন কি না এবং কতগুলি পোর্ট রয়েছে, এমন চার্জার কেনা উচিত। সেক্ষেত্রে নিজের প্রয়োজন এবং এই বিশেষ চার্জারের প্রযুক্তিগত দিকগুলো বিস্তারিত জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
যাদের একসঙ্গে একাধিক গ্যাজেট চার্জ করতে হয় কিংবা ভ্রমণের সময় একাধিক চার্জার সঙ্গে বহন করতে ঝামেলা মনে হয়, তারা অনায়াসেই মাল্টি-পোর্ট চার্জার কিনতে পারেন। শুধু তাই নয়, যাদের ঘরে বা কর্মক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক সকেটের সংখ্যা কম, তাদের জন্যও এই চার্জার দারুণ কাজে আসতে পারে। একটিমাত্র চার্জারেই একাধিক কেবল যুক্ত করে কম সকেটের সমস্যা অনেকটাই দূর করা সম্ভব। তবে আপনার কাছে যদি স্মার্টফোন বা ইয়ারবাডসের মতো মাত্র এক বা দুইটি ডিভাইস থাকে, তবে মাল্টি-পোর্ট চার্জারের পেছনে বাড়তি টাকা খরচ করার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি যদি আপনার এক বা দুইটি ডিভাইস আলাদা আলাদা সময়ে চার্জ করে নিতে পারেন, তবে সাধারণ চার্জার দিয়েই কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়।

আপনি যদি অপো, ভিভো, ওয়ানপ্লাস বা শাওমির মতো ব্র্যান্ডের ফোন ব্যবহার করে থাকেন, তবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বক্সের সঙ্গে দেওয়া মূল চার্জারটিই আপনার ফোনের জন্য সবচেয়ে বেশি উপযোগী। এই ফোনগুলোতে বিশেষ দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার ফলে কোম্পানির নিজস্ব চার্জার দিয়েই ফোন সবচেয়ে দ্রুত চার্জ করা সম্ভব হয়। এ ক্ষেত্রে থার্ড-পার্টি মাল্টি-পোর্ট চার্জার ব্যবহার করলে অনেক সময় প্রত্যাশামতো ফাস্ট চার্জিংয়ের সুবিধা পাওয়া নাও যেতে পারে।
মাল্টি-পোর্ট চার্জার কেনার সময় বাক্সে লেখা মোট ওয়াটের ক্ষমতার ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা একদমই ঠিক নয়। আপনার চার্জারে বা তার প্যাকেটের গায়ে যদি ৬৫ ওয়াট পাওয়ারের কথা বড় করে লেখা থাকে, তার মানে এই নয় যে আপনার ডিভাইসটি একাই সেই পুরো ৬৫ ওয়াট গতিতে চার্জ হবে। মূলত অনেক প্রস্তুতকারী কোম্পানি মাল্টি-পোর্ট চার্জারের প্রতিটি পোর্টের আলাদা আলাদা আউটপুট যোগ করে সামগ্রিক ক্ষমতাকে ৬৫ ওয়াট বা ১০০ ওয়াট হিসেবে প্রচার করে। তাই কেনার সময় প্রতিটি পোর্টের আলাদা পাওয়ার আউটপুট কত, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া দরকার। সাধারণত চার্জারের পোর্টের পাশেই এই তথ্যগুলো লেখা থাকে।
আরও পড়ুন: ফোন সারাতে দোকানে দিলে ভুলেও এই কাজগুলো করবেন না
পাশাপাশি, একসঙ্গে একাধিক পোর্ট ব্যবহার করলে প্রতিটি পোর্ট থেকে ঠিক কতখানি পাওয়ার আউটপুট পাওয়া যাবে, সেটিও যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। মাল্টি-পোর্ট চার্জার কেনার সময় এটি নিশ্চিত করা জরুরি যে সেটি যেন গ্যাং বা গ্যালিয়াম নাইট্রাইড প্রযুক্তির চার্জার হয়। এই আধুনিক প্রযুক্তির চার্জারগুলো আকারে ছোট হওয়ার পাশাপাশি তাপও তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো ও নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ ছাড়া, চার্জারটি পাওয়ার ডেলিভারি বা পিপিএস-এর মতো সার্বজনীন ফাস্ট চার্জিং স্ট্যান্ডার্ডগুলো সমর্থন করে কি না, তা দেখে নেওয়া দরকার। তা না হলে মাল্টি-পোর্ট চার্জার ব্যবহার করেও আপনার শখের ফোনটি আশানুরূপ দ্রুতগতিতে চার্জ হবে না।
এজেড




