স্মার্টফোন খারাপ হলে অনেকেই দ্রুত কাছের কোনো মোবাইল সারানোর দোকানে চলে যান। কিন্তু ফোন মেরামত করাতে গিয়ে অসাবধান হলে আর্থিক ক্ষতি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। কখনও অরিজিনাল যন্ত্রাংশের বদলে নিম্নমানের পার্টস লাগানো হয়, আবার কখনও প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত মেরামতির খরচ চাপানো হতে পারে। তাই ফোন মেরামতের সময় শুধু কম দাম দেখেই দোকান নির্বাচন করবেন না। নিজের ডেটা সুরক্ষিত রাখা, পরিষ্কার হিসাব নেওয়া এবং মেরামতের পরে ফোন পরীক্ষা করাই সম্ভাব্য প্রতারণা এড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
ফোন জমা দেওয়ার আগে ছবি, ভিডিও, কনট্যাক্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ নথির ব্যাকআপ রাখুন। সম্ভব হলে ফোনে থাকা সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত করুন। ব্যাংকিং অ্যাপ, ই-মেইল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বজায় রাখুন। ফোনের স্ক্রিন বা ব্যাটারি বদলানোর মতো কাজের জন্য সব সময় আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কোনো টেকনিশিয়ান ফোনের লক খুলতে বললে কেন তা দরকার, তা জেনে নিন। সম্ভব হলে আপনার উপস্থিতিতে ফোন পরীক্ষা করান।

ফোন খোলার আগেই সমস্যাটি কী এবং মেরামত করতে কত টাকা লাগবে, তা স্পষ্টভাবে জেনে নিন। সম্ভাব্য খরচ লিখিতভাবে নিতে পারলে আরও ভালো। ফোন খোলার পর অতিরিক্ত সমস্যা পাওয়া গেলে আপনার অনুমতি ছাড়া নতুন কাজ শুরু করতে দেবেন না। ডিসপ্লে, ব্যাটারি বা চার্জিং পোর্ট বদলানোর সময় কোন ধরনের পার্টস ব্যবহার করা হবে, তা জেনে নিন। অরিজিনাল পার্টসের দাম নেওয়া হলেও অন্য ধরনের যন্ত্রাংশ লাগানো হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সম্ভব হলে পুরনো যন্ত্রাংশ ফেরত নিন।
মেরামতের কাজ শেষ হলে রসিদ সংগ্রহ করুন। কোন যন্ত্রাংশ বদলানো হয়েছে, কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং মেরামতির উপর কত দিনের ওয়ারেন্টি রয়েছে, তা রসিদে উল্লেখ করানো ভালো। মোবাইল ঠিক করার নামে কেউ অজানা লিক থেকে অ্যাপ ইনস্টল করতে বললে সতর্ক থাকুন। অপরিচিত এপিকে ফাইল বা সন্দেহজনক অ্যাপ ফোনে ইনস্টল করলে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। প্রয়োজন ছাড়া কোনো অ্যাপকে বিশেষ অনুমতি দেবেন না।
আরও পড়ুন: ফোন চার্জ দেওয়ার সময় কি কভার খুলে রাখা জরুরি?
মেরামতের পর ফোনের ডিসপ্লে, ক্যামেরা, স্পিকার, মাইক্রোফোন, চার্জিং পোর্ট এবং নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ করছে কি না দেখে নিন। ব্যাটারি বা ডিসপ্লে বদলানো হলে সংশ্লিষ্ট অংশও পরীক্ষা করুন। ফোনে কোনো অচেনা অ্যাপ বা পরিবর্তন দেখা গেলে দোকানের সঙ্গে কথা বলুন।
এজেড




