নতুন স্মার্টফোন কেনা মানেই এক আনন্দদায়ক অনুভূতি। পুরনো ফোনটি পাশে রেখে সামান্য কিছু নির্দেশ মেনে চললেই প্রযুক্তি যেন জাদুর মতো কাজ শুরু করে। কন্টাক্ট লিস্ট সিঙ্ক হয়ে যায়, ছবিগুলো ফিরে আসে, ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপ ডাউনলোড হতে থাকে এবং আপনার পছন্দের ওয়ালপেপারটিও হুবহু চলে আসে নতুন স্ক্রিনে। প্রথম পলকে মনে হতে পারে, কাজ একেবারে শেষ! কিন্তু আসল ঝক্কি শুরু হয় এর পরেই।
ব্যাংকিং অ্যাপ খুলতেই ভেসে ওঠে 'এই ডিভাইসটি রেজিস্টার করুন' বার্তা। অন্য কোনো অ্যাপ খুললে আবার সাইন ইন করতে বলে, আর পাসওয়ার্ড ম্যানেজার নিজেই তখন আপনার পরিচয় যাচাই করতে চায়। এরপর একে একে ইউপিআই অ্যাপ, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেল অ্যাকাউন্ট, ই-সিম, টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেটর অ্যাপ এবং ডিজিটাল জীবনের বাকি সবকিছুর হিসাব মেলানোর পালা আসে। নতুন ফোনটিকে আমরা যতই বিশ্বাস করি না কেন, নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার খাতিরে অ্যাপগুলো তো আর নতুন ডিভাইসটিকে সহজে বিশ্বাস করতে চায় না।
এই পুরো প্রক্রিয়ার কোনো এক পর্যায়ে গিয়ে পুরনো ফোনে একটি ওটিপি (OTP) চলে আসে, অথচ ততক্ষণে হয়তো পুরনো ফোনটি বন্ধ করে একপাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তখন হঠাৎ করেই বাতিল করতে চাওয়া সেই পুরনো ফোনটিই ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রে পরিণত হয়! মজার ব্যাপার হলো, বর্তমানের আধুনিক অ্যানড্রয়েড বা আইফোন দিয়ে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে অবিশ্বাস্য পরিমাণ তথ্য নিমিষেই স্থানান্তর করা যায়। কিন্তু আমাদের জীবন এখন কেবল ছবি বা কন্টাক্টে সীমাবদ্ধ নেই; ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, লেনদেন, ডিজিটাল পরিচয়, অফিশিয়াল কাজ এবং গোপনীয়তার শতটি সুরক্ষাবলয় এর সঙ্গে জড়িত। তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রতিটি অ্যাপ বারবার আমাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে চায়।
_20261012_153122110.jpeg)
তাছাড়া শুধু অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করেই ঝামেলা চুকে যায় না। গাড়িতে ওঠার পর দেখা যায় ব্লুটুথ কানেক্ট হচ্ছে না, স্মার্টওয়াচটি নতুন করে পেয়ারিং চাচ্ছে কিংবা মাসে হয়তো মোটে একবার ব্যবহার করেন এমন কোনো অ্যাপ আপনাকে পুরোপুরি ভুলেই গেছে। কোনো অ্যাপ হয়তো হঠাৎ করেই আবার লোকেশন পারমিশন চাচ্ছে। দেখা যায়, তিন দিন পর হুট করে মনে পড়ল যে জরুরি কাজের অ্যাপটিই আসলে সেটআপ করা হয়নি! তবে একটা জিনিস একদম নিখুঁতভাবে নতুন ফোনে চলে আসে—যেমন ২০২১ সালের সেই অপ্রয়োজনীয় সতেরোটি স্ক্রিনশট!
আরও পড়ুন: ফোনে বারবার আসছে পপ-আপ বিজ্ঞাপন? জেনে নিন বন্ধ করার সহজ উপায়
আসলে সমস্যাটি ফোন বদলানোর প্রক্রিয়ায় নয়, বরং আমাদের পুরো জীবনটাই এখন এই ছোট্ট ডিভাইসের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এক সময় ফোন বদলানোর অর্থ ছিল কেবল কিছু নম্বর আর ছবি স্থানান্তর করা। আর এখন আমরা স্থানান্তর করছি ব্যাংক হিসাব, লেনদেনের মাধ্যম, পাসওয়ার্ড, হেলথ ডাটা, অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট এবং স্মার্ট হোম কন্ট্রোলারের মতো সংবেদনশীল সব পরিষেবা। প্রতিটি পরিষেবাই নিশ্চিত হতে চায় যে নতুন ডিভাইসটি সঠিক মানুষের হাতেই রয়েছে। এই দিক থেকে বিচার করলে, পুরো সিস্টেমটি যেভাবে কাজ করে সেটাই বরং এক বিস্ময়। তবুও প্রতিবার নতুন ফোন কেনার সময় আমরা একই ভুল ধারণার শিকার হই—সব সেট হয়ে গেছে ভেবে ভাবি, কাজ বুঝি শেষ!
এজেড




