প্রতি মাসে আসা মোটা অংকের বিদ্যুতের বিল নিয়ে কি আপনি সমস্যায় পড়ছেন? যদি তাই হয়, তবে সামান্য কিছু কৌশল অবলম্বন করে এবং ঘরের কয়েকটি অতি পরিচিত যন্ত্রের সঠিক সেটিংস বদলে বিদ্যুতের বিল অনায়াসেই কমিয়ে আনা সম্ভব। গরম হোক বা শীত, সারা বছরই কমবেশি বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। তবে কিছু নির্দিষ্ট যন্ত্রের কারণে বিদ্যুতের খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষ করে গরমের দিনে যখন এসি, ফ্রিজ এবং ইনভার্টার দিন-রাত চলতে থাকে, তখন ইলেকট্রিক মিটারও খুব দ্রুত ঘুরতে থাকে। অনেকেই মনে করেন, বিদ্যুতের খরচ কমাতে গেলে হয়তো দামি ইলেকট্রনিক যন্ত্র বদলাতে হবে কিংবা নিজের আরামের সঙ্গে আপস করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো বড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। ঘরের কয়েকটি প্রয়োজনীয় যন্ত্রের সঠিক সেটিং বদলেই বিদ্যুতের বিল সরাসরি ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
ফ্রিজের তাপমাত্রা ও কুলিং কন্ট্রোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাড়িতে থাকা ফ্রিজ ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা এমন একটি যন্ত্র, যা তুলনামূলকভাবে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। বেশিরভাগ মানুষই হয় ফ্রিজের কুলিং সবসময় সর্বোচ্চ স্তরে রাখেন, অথবা মৌসুম বদলে গেলেও ফ্রিজের তাপমাত্রা পরিবর্তন করতে ভুলে যান।
গরমের সময়ে ফ্রিজের তাপমাত্রা মাঝারি অর্থাৎ ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা উপযুক্ত। শীতকালে এটি কিছুটা কমানো যেতে পারে। এছাড়া অনেকেই ফ্রিজ দেওয়ালের একেবারে গায়ে লাগিয়ে রাখেন। এর ফলে পিছনে থাকা কয়েলে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে না। এতে কম্প্রেসরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং বিদ্যুতের বিল দ্রুত বাড়তে পারে। ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা এবং ভেতরে গরম খাবার রেখে দেওয়ার কারণেও কম্প্রেসরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। তাই ফ্রিজ সবসময় দেওয়াল থেকে কিছুটা দূরে, বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখুন। প্রয়োজন ছাড়া ফ্রিজের দরজা খুলবেন না এবং থার্মোস্টেটের সঠিক সেটিংয়ের দিকেও বিশেষ নজর রাখুন।
আরও পড়ুন: শীত আসার আগেই এসিতে এই তিনটি কাজ করুন
বাড়ির ইনভার্টার এবং তার ব্যাটারিও বিদ্যুতের বিল বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। ইনভার্টারের ব্যাটারি পুরনো হয়ে গেলে এবং তাতে ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা কমে গেলে সেটি চার্জ হতে অনেক বেশি সময় নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে চার্জ হওয়ার অর্থ হলো মিটারও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ খরচ করছে, ফলে বিদ্যুতের অপচয় বাড়ে। এছাড়া অনেকেই বাড়ির মেইন ওয়্যারিং এবং ইনভার্টার ইনস্টল করার সময় লোডের সঠিক হিসাব করেন না। এর ফলে পাওয়ার লিকেজ এবং ব্যাটারি ওভারচার্জিংয়ের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সময় সময় ব্যাটারির জলের মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত এবং নিশ্চিত করতে হবে যে চার্জিং সম্পূর্ণ হওয়ার পর ইনভার্টার অটো-কাট মোডে চলে যাচ্ছে। ইনভার্টারের সঙ্গে যুক্ত এমন যন্ত্রগুলি বন্ধ রাখুন, যেগুলির সেই সময়ে প্রয়োজন নেই। কারণ ছোট কোনো লোডও সারা মাসে বিদ্যুতের ইউনিট বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফ্রিজ এবং ইনভার্টারের সঠিক সেটিংয়ের পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু ছোট অভ্যাসও বিদ্যুতের বিল কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক সময় বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় ঘরের পাখা, কুলার বা টিভির সুইচ অন রেখে দেওয়া হয়। আবার ফোন ও ল্যাপটপ পুরোপুরি চার্জ হয়ে যাওয়ার পরেও চার্জার বোর্ডে প্লাগ ইন করা থাকে, যাকে ‘ফ্যান্টম লোড’ বলা হয়। এছাড়া বাড়ির পুরনো এবং প্রচলিত বাল্বের পরিবর্তে এলইডি লাইট ব্যবহার করা শুরু করুন, কারণ এগুলি কম বিদ্যুৎ খরচ করে অনেক বেশি আলো দিতে পারে। এই ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে যদি দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ করে নিতে পারেন, তবে পরের মাসেই বিদ্যুতের বিল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনতে পারবেন।
এজেড




