শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

এআই-এর হাতেই ছেড়ে দেবেন নিয়ন্ত্রণ?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

শেয়ার করুন:

এআই-এর হাতেই ছেড়ে দেবেন নিয়ন্ত্রণ?

নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? আপনার নিজের হাতে, না কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর ছেড়ে দেবেন নিজেকে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সর্বব্যাপী জগতে এটি কিন্তু লাখ টাকার প্রশ্ন। দুনিয়া যে ভাবে এগোচ্ছে, তাতে নিয়ন্ত্রণ একটু ছাড়লেই, সবটাই নিয়ে নিতে পারে এআই। তাই প্রযুক্তির স্টিয়ারিং নিজের হাতেই রাখতে হবে। আজ আলোচনা করব এমন কয়েকটা বিষয় নিয়ে, যা আমাদের নিত্যদিনের যাপনের সঙ্গে খুব জড়িত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও স্মার্টভাবে ব্যবহার করতে হবে। এখন সব কিছুই চোখের নিমেষে করে ফেলছে চ্যাটজিপিটি। সে ইমেল লেখাই হোক বা চিঠিপত্র। এখানেই শেষ নয়, পিডিএফ, ভিডিও লিংক যা ইচ্ছে দিন, সেখান থেকে বিষয়ের সারসংক্ষেপ বা বিস্তার সবটাই নিমেষে করে ফেলবে এই প্রযুক্তি। সেটা অনেকেই অবলীলায় ব্যবহারও করছেন। কিন্তু সেটা আপনি ব্যবহার করবেন কি না, সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক হন আপনি।

আরেকটি বড় বিষয় হলো অ্যালগরিদম বোঝা। মনে হতেই পারে এটি জটিল কোনো বিষয়। যদি একটু ভেবে দেখেন, বুঝবেন এটি খুব সহজ। আমরা অনেকেই যে কোনো ওটিটিতে সিনেমা দেখি, অ্যাপ বেছে গান শুনি। 

খেয়াল করে দেখেছেন কি, যে সিনেমা বা গান আপনি দেখেন, তার কাছাকাছি ঘরানার কনটেন্ট আপনার সামনে চলে আসে? এটাই অ্যালগরিদম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার পছন্দ বুঝে নিচ্ছে। আর আপনার মনে হচ্ছে, বেশ ভালোই তো, মনের মতো গান বা সিনেমা পরপর চলে আসছে, আমার আর ভাবার দরকার কী! এই ভাবনাটাই ভুল। ঠিক পদ্ধতি হলো, শোনার বা দেখার হিস্ট্রি মাঝে মাঝে ডিলিট করা। নিজে নতুন করে ঠিক করুন কী শুনবেন, কোনটাই বা দেখবেন। আগে ঠিক যেমনটা করতেন। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক ফের সেই আপনিই।

1721176717551

এর পরে যে বিষয়টি আসে, সেটা হলো এআই জেনারেটেড ভিডিও থেকে সচেতন থাকা। ডিপ ফেক এখন পুরোনো বিষয়। ওপেন এআই-এর সোরা কিংবা মেটার মুভি জেন এখন উন্নত মানের ভিডিও বানাচ্ছে। সেগুলোর কারিকুরি বুঝতে হবে। এটি বোঝার সহজতম উপায় হলো ওই ভিডিওর কোথাও না কোথাও ওয়াটারমার্ক আছে কি না তা খেয়াল করা। সেটি খোঁজার চেষ্টা করলেই আসল আর কৃত্রিম ভিডিওর মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এখানেও মূল কথা হলো, ঠিকভুল বিচার করার দায়িত্ব আপনার নিজের হাতেই রাখা উচিত।

আরও পড়ুন: গুগল ফটোসের ৫ নতুন ম্যাজিক ফিচার!

ফোনের ব্যাক-আপ অবশ্যই রাখুন। এখন ফোন হারিয়ে যাওয়া নিত্যদিনের ব্যাপার। এটি হলে নানা আইনি ঝামেলার চেয়েও বড় সমস্যা হলো ডেটা লস বা তথ্য হারিয়ে যাওয়া। আর এর জন্যই ডেটা ব্যাক-আপ খুবই জরুরি। তাই ডেটা হারানোর পর পেরেশান না হয়ে ব্যাক-আপ করায় জোর দিতে হবে। এখন এই কাজটা করা মোটেই তেমন কঠিন নয়। বেশ কিছু মোবাইল সংস্থা এই ব্যাক-আপের সুযোগ দেয়, যার অনেক ক্ষেত্রেই বিনা খরচায় করা সম্ভব। এছাড়াও গুগল ব্যাকআপ তো আছেই। বিনা খরচে নিজের ডেটা কিংবা কন্ট্যাক্ট ব্যাক-আপের জন্য এটাকে বেছে নিতে পারেন।

সব মিলিয়ে যেটা দাঁড়াল, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার হোক বা ডেটা ব্যাক-আপ, নিয়ন্ত্রণটা নিজের হাতেই রাখুন। পুরোনো সেই দিনের মতো নিজে সচেতন থাকলে অনেক ঝঞ্ঝাট নিজে থেকেই মিটে যাবে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর