বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

স্মার্টওয়াচ কি শরীরের রোগ ধরতে পারে? এই প্রযুক্তি কতটা ভরসাযোগ্য

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩০ এএম

শেয়ার করুন:

স্মার্টওয়াচ কি শরীরের রোগ ধরতে পারে? এই প্রযুক্তি কতটা ভরসাযোগ্য
হাতের স্মার্টওয়াচ কি শরীরের রোগ ধরতে পারে? এই প্রযুক্তির ওপর কতটা ভরসা করা যায়

স্মার্টওয়াচ এখন আর শুধু হাঁটার সংখ্যা গোনা বা ঘুমের হিসাব রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনেক যন্ত্রই এখন নিয়মিত হৃদস্পন্দন বা পালস পর্যবেক্ষণ করতে পারে। কিছু স্মার্টওয়াচে আবার একক-তার বা সিঙ্গল-লিড হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ বা ইসিজি রেকর্ড করার সুবিধাও রয়েছে। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনে হৃদযন্ত্র কীভাবে কাজ করছে, তার কিছুটা ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে স্মার্টওয়াচের দেওয়া তথ্য সব সময় একেবারে নির্ভুল নাও হতে পারে, তাই শরীরে কোনো রকম সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

আরও পড়ুন: প্রতি বছর কি সত্যিই নতুন স্মার্টফোন কেনার প্রয়োজন?

স্মার্টওয়াচ কি সত্যিই অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা হার্ট রিদম শনাক্ত করতে পারে? উত্তর হলো, হ্যা, পারে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে স্মার্টওয়াচ এমন একটি প্যাটার্ন শনাক্ত করতে পারে, যা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ইঙ্গিত দিতে পারে, বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন বা এএফ-এর ক্ষেত্রে। কিন্তু এই ধরনের সতর্কবার্তা কোনোভাবেই চিকিৎসকের দেওয়া রোগ নির্ণয়ের সমান নয়। এর মূল সুবিধা হলো, এমন কোনো সমস্যা সম্পর্কে সতর্ক হওয়া, যা অন্যথায় হয়তো ধরা পড়ত না। বেশিরভাগ স্মার্টওয়াচে কব্জির রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন মাপার জন্য আলো-ভিত্তিক সেন্সর ব্যবহার করা হয়, যা হৃদস্পন্দনের সময়ের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে এবং স্পন্দনের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক প্যাটার্ন রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার চেষ্টা করে। কিছু স্মার্টওয়াচে আবার আঙুল দিয়ে যন্ত্রটি স্পর্শ করে ইসিজি নেওয়া যায়, যার মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের একটি সংক্ষিপ্ত রেকর্ড তৈরি হয়।

heart-rate-update

তবে স্মার্টওয়াচের অ্যালার্ট মানেই নিশ্চিত রোগ নয়। স্মার্টওয়াচে অস্বাভাবিক রিডিং এলেই যে হৃদযন্ত্রের কোনো রোগ রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। শরীরের নড়াচড়া, ঘড়ির ফিতা ঢিলে থাকা, রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন কিংবা মাঝে মাঝে হওয়া অতিরিক্ত হৃদস্পন্দনও সেন্সরের সিগন্যালকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই স্মার্টওয়াচের সতর্কবার্তাকে রোগের নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে না দেখে, বরং আরও পরীক্ষা করানোর একটি সংকেত হিসেবে দেখা উচিত। উদাহরণস্বরূপ, রাতের বেলা কারও স্মার্টওয়াচ অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সংকেত দিল, কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অনুভব করছেন এবং চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর পর সাধারণ ইসিজিতেও কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ল না। এই পরিস্থিতিতে স্মার্টওয়াচে রেকর্ড হওয়া তথ্য চিকিৎসককে বুঝতে সাহায্য করতে পারে যে চিকিৎসালয়ের বাইরে ঠিক কী ঘটেছিল।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর