মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

‘বিএসসিপিএলসি’র একচেটিয়া আধিপত্যে বাধাগ্রস্ত ইন্টারনেটের সাশ্রয়ী দাম’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

শেয়ার করুন:

‘বিএসসিপিএলসি’র একচেটিয়া আধিপত্যে বাধাগ্রস্ত ইন্টারনেটের সাশ্রয়ী দাম’
মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে টিআরএনবির সেমিনার

আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ অবকাঠামোয় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির (বিএসসিপিএলসি) একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে দেশে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সংযোগে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল বিনিয়োগ সহজ করা এবং ল্যান্ডিং স্টেশনে উন্মুক্ত ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা গেলে ব্যান্ডউইথের দাম আরও কমানো সম্ভব।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন হলে ‘সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও টেক জায়ান্টদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ: বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। সেমিনারটি আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)।

সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, বিএসসিপিএলসি দুটি সাবমেরিন ক্যাবল—সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫-এ মোট ৮১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং এ সময়ে নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকার বেশি।

আলোচনায় বলা হয়, ২০০৬ সালে বিটিসিএল এক এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করত। বিএসসিপিএলসি ব্যান্ডউইথ বিক্রি শুরুর ১০ বছর পর ২০১৬ সালে একই পরিমাণ ব্যান্ডউইথের দাম নেমে আসে ৫০০ টাকায়। বর্তমানে তা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চালু হলে প্রতিযোগিতা বাড়ার মাধ্যমে ২০২৭ সালে একই পরিমাণ ব্যান্ডউইথের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকায় নামতে পারে।

সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ জিবিপিএস আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক সংযোগের ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল, মেটা, আকামাই ও ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ আকর্ষণে উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং স্থিতিশীল নীতিমালার প্রয়োজন রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক সংযোগের সীমাবদ্ধতা ও একচেটিয়া নির্ভরতার পাশাপাশি এসব বিষয়ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও হাইপারস্কেলারদের বিনিয়োগে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সেমিনারে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক সংযোগে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের প্রক্রিয়া সহজ করা, ল্যান্ডিং স্টেশনে ক্যারিয়ার-নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং একাধিক সাবমেরিন ক্যাবল ও ল্যান্ডিং স্টেশনের সুযোগ তৈরি করা।

এ ছাড়া দেশীয় ফাইবার শেয়ারিং, আইএক্সপি ও স্থানীয় পিয়ারিং সম্প্রসারণ এবং ব্রডব্যান্ড অবকাঠামো ও সরঞ্জামের ওপর কর যৌক্তিকীকরণের সুপারিশ করা হয়।

মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল হাকিম বলেন, বিএসসিপিএলসির একচেটিয়া ব্যবস্থা অব্যাহত রেখে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট নিশ্চিত করা কঠিন। আন্তর্জাতিক সংযোগ অবকাঠামোয় প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা গেলে ব্যান্ডউইথের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং এর সুফল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রকল্প প্রধান মাহমুদ শাহেদ এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির কোষাধ্যক্ষ মইন উদ্দিন আহমেদ। তারা দেশের আন্তর্জাতিক সংযোগ, সাবমেরিন ক্যাবল খাত ও ইন্টারনেট অবকাঠামোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

টিআরএনবির সাবেক সভাপতি সমীর কুমার দের সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিন। অনুষ্ঠানে সিডিনেট কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান এবং বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমানও বক্তব্য দেন।

সেমিনারের আলোচনায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ আকর্ষণে স্থিতিশীল, পূর্বাভাসযোগ্য ও প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ নীতিমালা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অবকাঠামোয় প্রতিযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো গেলে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ডিজিটাল অবকাঠামো হাবে পরিণত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

টিএই/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর