বাড়ির বিদ্যুতের বিল কমাতে বা ফ্রিজকে একটু বিশ্রাম দেওয়ার জন্য অনেকেই রাতে ফ্রিজের সুইচ বন্ধ করে দেন। আবার কেউ কেউ সপ্তাহে একদিন ফ্রিজ বন্ধ রাখেন। কিন্তু বারবার ফ্রিজ বন্ধ করা কি আদৌ লাভজনক, নাকি এর পেছনে রয়েছে বড় কোনো ক্ষতি? আসুন জেনে নেওয়া যাক এর আসল সত্য ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো।
রাতে ফ্রিজ বন্ধ করলে কি আসলেই বিল কমে?
অনেকেই মনে করেন, প্রতিদিন রাতে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজ বন্ধ রাখলে বিদ্যুতের বড়সড় সাশ্রয় হবে। কিন্তু এটি একেবারেই ভুল ধারণা। ফ্রিজ বন্ধ করার পর ভিতরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং পুনরায় চালু করার পর সেই তাপমাত্রা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কম্প্রেসরকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ফলে উল্টে বিদ্যুতের খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে।
কম্প্রেসরের স্থায়ী ক্ষতি ও বড় বিপদের শঙ্কা
রেফ্রিজারেটর মূলত ২৪ ঘণ্টা একটানা চলার জন্যই ডিজাইন করা হয়। বারবার ফ্রিজের সুইচ অন-অফ করলে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ অর্থাৎ কম্প্রেসরের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই অভ্যাসের কারণে কম্প্রেসর দ্রুত গরম হয়ে যেতে পারে এবং কয়েক মাসের মধ্যেই তা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গিয়ে হাজার হাজার টাকার বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
খাবারে ব্যাকটেরিয়া ও ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকি
ফ্রিজ বন্ধ থাকলে এর ভিতরের ঠান্ডা ভাব পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ফ্রিজে রাখা দুধ, রান্না করা সবজি, ফল এবং শাকসবজিতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে। এর ফলে খাবার টক হয়ে যাওয়া, নষ্ট হওয়া বা দুর্গন্ধ ছড়ানোর মতো সমস্যা দেখা দেয়, যা থেকে মারাত্মক ফুড পয়জনিংয়ের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: ফ্রিজ ও ফ্রিজারের মধ্যে পার্থক্য জানেন না অনেকেই
আধুনিক প্রযুক্তির অটোমেটিক কাট-অফ ফিচার
বর্তমানে বাজারে যেসব আধুনিক ফ্রিজ পাওয়া যায়, সেগুলো অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি। এগুলিতে ‘অটোমেটিক কাট-অফ’ (Auto Cut-off) ফিচার থাকে। ফ্রিজের ভিতরে প্রয়োজনীয় ঠান্ডা তৈরি হয়ে গেলে ভিতরের কম্প্রেসর নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এবং তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলে তা আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়। তাই আলাদাভাবে হাত দিয়ে ফ্রিজ বন্ধ করার কোনো প্রয়োজনই নেই।
ফ্রিজ ঠিক কখন বন্ধ রাখা উচিত?
বছরজুড়ে নিয়ম করে বা নির্দিষ্ট সময়ে ফ্রিজ বন্ধ করার একেবারেই কোনো প্রয়োজন নেই। তবে কেবল নিচের তিনটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আপনি নিরাপদে ফ্রিজ বন্ধ রাখতে পারেন-
পরিষ্কার করার জন্য: ফ্রিজের ভিতরের অংশ সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং ডিফ্রস্ট করার জন্য বছরে ১ থেকে ২ বার মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য ফ্রিজ বন্ধ করতে পারেন।
দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকলে: আপনি যদি ২ থেকে ৩ সপ্তাহ বা এক মাসের জন্য বাড়ির বাইরে কোথাও যান, তবে ভিতরের খাবারদাবার বের করে ফ্রিজ বন্ধ করে রাখা উচিত।
প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে: ফ্রিজে কোনো ধরনের টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিলে মেরামতের স্বার্থে সেটি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে।
এজেড




