পানি গরম করা কিংবা চা-কফি বানানোর জন্য ইলেকট্রিক কেটলির বিকল্প নেই। তাই প্রায় প্রতিটি বাসা-বাড়ি ও অফিসে ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহার করা হয়। আমরা শুধু কেটলিতে পানি ভরি, বোতাম চাপি এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই পানি ফুটে যায়। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, পানি ফুটতে শুরু করলেই কেটলির বোতাম খট করে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, কোনো কম্পিউটার বা সেন্সরের স্ক্রিন ছাড়াই এই দেখতে সাধারণ কেটলি কীভাবে বুঝতে পারে যে পানি গরম হয়ে গিয়েছে? এর পেছনে আসলে কী বিজ্ঞান কাজ করে?

বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, কেটলির ভিতরে এমন কোনো থার্মোমিটার রয়েছে, যা পানি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পৌঁছলেই কেটলিকে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু আসলে তা নয়। কেটলি পানির তাপমাত্রা নয়, বরং ফুটন্ত পানি থেকে বেরিয়ে আসা ভাপ শনাক্ত করে। আপনি যখন কেটলির বোতাম চালু করেন, তখন এর নিচে থাকা গরম করার উপাদান বা হিটিং এলিমেন্ট উত্তপ্ত হতে শুরু করে। এর ফলে পানিও গরম হতে থাকে। পানি পুরোপুরি ফুটতে শুরু করলে কেটলির ভেতরে দ্রুত ভাপ তৈরি হয়। কেটলির ঢাকনা বন্ধ থাকায় সেই ভাপ সহজে বাইরে বের হতে পারে না এবং ভেতরে চাপ তৈরি হয়।
একই সঙ্গে কেটলির হাতলের মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের বোতাম বা সুইচের ব্যবস্থা থাকে। পানি ফুটলে প্রচুর পরিমাণে গরম ভাপ হাতলের ভেতরের নল দিয়ে নিচের দিকে যায়। সেই ভাপ সরাসরি ওই বোতামের সঙ্গে যুক্ত অংশে পৌঁছায়, যা পুরো কেটলির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার কাজ করে।

এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি হলো হাতলের একেবারে নিচে থাকা একটি ছোট ধাতব পাত। বিজ্ঞানের ভাষায় একে দ্বি-ধাতব পাত বলা হয়। এই পাতটি দুটি আলাদা ধাতু একসঙ্গে জুড়ে তৈরি করা হয়। ফুটন্ত পানির গরম ভাপ নলের মধ্য দিয়ে এই পাতের ওপর পড়লে সেটি গরম হয়ে একদিকে বেঁকে যায়। ফলে পাতটি বাঁকতেই কেটলির বৈদ্যুতিক সার্কিটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে কেটলির বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ইনডাকশনে শুধু পাত্র গরম হয়, ওভেন কেন হয় না?
তবে এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার, আর তা হলো কেটলির ঢাকনা সবসময় বন্ধ রাখা। আসলে ঢাকনা খোলা থাকলে ভাপ ওপর দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায় এবং হাতলের ভেতরে থাকা নলের মধ্যে ঢুকতে পারে না। ফলে ভাপ নিচে থাকা সুইচ পর্যন্ত পৌঁছতে না পারায় পাতটি গরম হয়ে বাঁকবে না এবং কেটলি চলতেই থাকবে। এমনটা হলে কেটলি অতিরিক্ত গরম হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া বা শর্ট সার্কিটের মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এজেড




