এই ডিজিটাল যুগে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, রিমোট কন্ট্রোল এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন যন্ত্রের সার্কিট বোর্ড সাধারণত আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু এই ধরনের ইলেকট্রনিক বর্জ্যের মধ্যে খুব সামান্য পরিমাণে সোনা এবং বিভিন্ন বিরল ধাতু লুকিয়ে থাকে, যা অনেকেই জানেন না। সম্প্রতি এই ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে খুব সহজে এবং কম খরচে সোনা ও প্যালাডিয়াম পৃথক করার একটি নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।
চীনা অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের অধীনে থাকা গুয়াংঝৌ ইনস্টিটিউট অব এনার্জি কনভার্সন এবং সাউথ চায়না ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষকরা যৌথভাবে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছেন।

গবেষণা অনুযায়ী, ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যে ইলেকট্রনিক বর্জ্য থেকে সোনা পৃথক করা সম্ভব। বর্তমানে ব্যবহৃত অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় এই পদ্ধতিতে খরচ মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।
সাধারণত সোনা পৃথক করার পুরনো পদ্ধতিতে মানুষের জীবন, পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে সেলফ-ক্যাটালিটিক লিচিং মেকানিজম বা নিজে নিজে অনুঘটক হিসেবে কাজ করার কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে পটাশিয়াম পারঅক্সিমোনোসালফেট এবং পটাশিয়াম ক্লোরাইড মিশ্রিত একটি সাধারণ তরল ব্যবহার করা হয়।

এই তরল সোনা বা প্যালাডিয়াম ধাতুর পৃষ্ঠে পড়লে ওই ধাতুগুলোই রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং নিজেদের তরলের মধ্যে দ্রবীভূত করে। এর ফলে খুব সহজেই সোনা পৃথক করা সম্ভব হয়। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, মোবাইল ফোনের সিপিইউ এবং গৃহস্থালির বিভিন্ন বৈদ্যুতিন সামগ্রীর সার্কিট বোর্ড থেকে আটান্ন দশমিক দুই শতাংশ সোনা এবং তিরানব্বই দশমিক চার শতাংশ প্যালাডিয়াম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: পুরনোটা বদলে নতুন ফোন কিনবেন? তার আগে এই ৭টি কাজ করুন
আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, দশ কেজি পুরনো সার্কিট বোর্ড থেকে প্রায় এক দশমিক চার গ্রাম সোনা পাওয়া যেতে পারে। এই আবিষ্কার শুধু পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
এজেড




