আপনার ফোনের চার্জিং কেবল বা ইউএসবি পোর্টে কি বিশেষ কোনো চিহ্ন দেখেছেন? জানেন কি এর আসল অর্থ কী? মূলত এটিকে ইউএসবি ট্রাইডেন্ট সিম্বল বলা। এই চিহ্নটি দেখেই কেবল বা পোর্টের কার্যক্ষমতা, ডেটা স্থানান্তরের গতি এবং এটি কতটুকু চার্জিং পাওয়ার সমর্থন করে, তা খুব সহজেই বুঝে নেওয়া সম্ভব।
আমরা দৈনন্দিন জীবনে সবাই কমবেশি ইউএসবি চার্জিং কেবল ব্যবহার করে থাকি। কেবলের গায়ে থাকা তীরের ফলার মতো এই চিহ্নটি নিশ্চয়ই আপনার নজরে এসেছে? কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন এই চিহ্নের প্রকৃত অর্থ কী? অনেকেই হয়তো জানেন না যে একে বলা হয় ইউএসবি প্রতীক। এটি কেবল বা পোর্টের গতি, ক্ষমতা এবং চার্জিংয়ের সক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য দেয়।
আরও পড়ুন: সিম কার্ডেরও কি 'এক্সপায়ার ডেট' থাকে? কত দিন পর বদলাবেন
এই প্রতীকটি দেখে খুব সহজেই অনুমান করা যায় কোনো ইউএসবি পোর্ট বা কেবল কতটা দ্রুত কাজ করতে সক্ষম। ফলে আপনার ডিভাইসের জন্য সঠিক ক্যাবল বা পোর্ট নির্বাচন করাও অনেক সহজ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া অনেক ইউএসবি কেবল ও পোর্টে এই চিহ্নের পাশাপাশি কিছু সংখ্যা বা ইংরেজি বর্ণও যুক্ত থাকে। সেগুলোর অর্থ জানা থাকলে কেবল বা পোর্টের ক্ষমতা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।
ইউএসবি পোর্টে থাকা এই চিহ্নের অর্থ কী?
অনেক ইউএসবি কেবল এবং পোর্টে তীরের ফলার মতো যে চিহ্ন দেখা যায়, তাকে ইউএসবি ট্রাইডেন্ট সিম্বল বলা হয়।
সাধারণ চিহ্ন: যদি কেবল বা পোর্টে শুধু এই বিশেষ প্রতীকটি থাকে এবং এর সঙ্গে কোনো সংখ্যা বা লেখা না থাকে, তবে সেটি সাধারণত ইউএসবি ২.০ পোর্ট বা কেবল।
এসএস (SS) যুক্ত চিহ্ন: যদি তীরের ফলার সঙ্গে এসএস লেখা থাকে, তবে সেটি সুপারস্পিড ইউএসবি ৩.০ বা ইউএসবি ৩.১ নির্দেশ করে।
সংখ্যা যুক্ত চিহ্ন: যদি চিহ্নের পাশে ২০ বা ৪০ লেখা থাকে, তবে তার অর্থ দাঁড়ায় ওই পোর্ট বা কেবল যথাক্রমে সেকেন্ডে ২০ বা ৪০ গিগাবিট গতিতে ডেটা স্থানান্তর করতে সক্ষম।

প্রতীক দেখে বুঝবেন কেবল বা পোর্টের ক্ষমতা
এই প্রতীকটি ভালোভাবে লক্ষ্য করলে চার্জিং এবং অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
ব্যাটারি চিহ্ন: তীরের ফলার সঙ্গে যদি ব্যাটারির লোগো থাকে, তবে বুঝতে হবে সেটি পাওয়ার ডেলিভারি সমর্থন করে।
বিদ্যুৎ চমকানোর চিহ্ন: বিদ্যুতের বা বজ্রপাতের মতো চিহ্ন থাকলে সেটি দ্রুত চার্জিং বা ফাস্ট চার্জিং সমর্থন করে।
ডিপি (DP) লোগো: যদি ডিসপ্লেপোর্ট-এর লোগো থাকে, তবে সেই পোর্ট বা কেবল ভিডিও সংকেত স্থানান্তর বা ডিসপ্লেপোর্ট মোড সমর্থন করে।

ইউএসবি পোর্টের রংও অনেক কিছু প্রকাশ করে
তীরের ফলার চিহ্নের পাশাপাশি পোর্টের রং থেকেও তার সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
কালো রঙের পোর্ট: কালো রঙের ইউএসবি পোর্ট সাধারণত পুরনো ইউএসবি ২.০ প্রযুক্তি নির্দেশ করে।
নীল রঙের পোর্ট: নীল রঙের পোর্ট হলে সেটি সুপারস্পিড ইউএসবি ৩.০।
আরও পড়ুন: আপনার ফোন ‘ওয়াটার প্রুফ’ কিনা চেক করবেন যেভাবে
লাল বা হলুদ রঙের পোর্ট: লাল কিংবা হলুদ রঙের পোর্ট থাকলে সেটি অলওয়েজ-অন বা স্লিপ-অ্যান্ড-চার্জ সুবিধা সমর্থন করে। অর্থাৎ, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার বন্ধ থাকলেও ওই পোর্টের মাধ্যমে ফোন কিংবা অন্য ডিভাইস অনায়াসে চার্জ করা সম্ভব।

সঠিক কেবল বা পোর্ট ব্যবহার করা কেন জরুরি?
ভুল ইউএসবি কেবল বা পোর্ট ব্যবহার করলে ফোনের চার্জিং প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে এবং ডেটা স্থানান্তরের গতিও অনেকাংশে কমে যায়। আপনি যদি খুব অল্প সময়ে ফোন চার্জ করতে চান অথবা এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ থেকে বড় কোনো ফাইল দ্রুত স্থানান্তর করতে চান, তবে সবসময় সঠিক কেবল ও পোর্ট ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এতে কাজের গতি বাড়ে এবং আপনার মূল্যবান সময়ও সাশ্রয় হয়।
এজেড




