বাড়িতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চিন্তা বাড়ে মাসের শেষে আসা বিদ্যুৎ বিল নিয়ে। বাড়ির অন্যান্য যন্ত্র নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ থাকলেও ফ্রিজ এমন একটি প্রয়োজনীয় যন্ত্র, যা বছরের ৩৬৫ দিন, চব্বিশ ঘণ্টাই একটানা সচল থাকে। ফলস্বরূপ, বিদ্যুৎ বিলের একটি বড় অংশ খরচ হয় এর পেছনেই।
আপনার বাড়িতে যদি পুরোনো বা সাধারণ প্রযুক্তির ফ্রিজ থেকে থাকে, তবে এটি খরচের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বর্তমান যুগে বাজেট ও সাশ্রয় নিয়ে সচেতন মানুষ ঝুঁকছেন ইনভার্টার ফ্রিজের দিকে। কিন্তু সাধারণ ও ইনভার্টার ফ্রিজের আসল পার্থক্য কোথায় এবং ইনভার্টার ফ্রিজে শিফট করলে ঠিক কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক এর পুরো হিসাব।
সাধারণ ফ্রিজ বনাম ইনভার্টার ফ্রিজ: কাজের পদ্ধতির পার্থক্য
এই দুই ধরনের ফ্রিজের কার্যপদ্ধতিতে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত:
সাধারণ ফ্রিজ: এই ধরনের ফ্রিজে থাকা কম্প্রেসর মূলত দুইটি মোডে কাজ করে—হয় এটি পূর্ণ শক্তিতে চালু থাকে, অথবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা ঠান্ডা হয়ে নির্ধারিত স্তরে পৌঁছালে কম্প্রেসর বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেই কম্প্রেসর আবার হঠাৎ করে পূর্ণ শক্তিতে চালু হয়। কম্প্রেসরের বারবার অন-অফ হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ অপচয় হয়।

ইনভার্টার ফ্রিজ: এর প্রযুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও আধুনিক। ইনভার্টার ফ্রিজের কম্প্রেসর পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের গতি কম বা বেশি করে। ভেতরের খাবারের পরিমাণ এবং বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতি সামঞ্জস্য করে। যখন ভেতরে ঠান্ডার চাহিদা কম থাকে, তখন এটি অত্যন্ত ধীর গতিতে ও সর্বনিম্ন বিদ্যুৎ খরচে চলতে থাকে।
বিদ্যুতের বিল কতটা কমবে?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, একটি সাধারণ বা পুরোনো ফ্রিজ প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ ইউনিট বা তার বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে। মাস শেষে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯০ ইউনিট বা তার বেশি।
এর বিপরীতে, আধুনিক প্রযুক্তির একটি সমক্ষমতার ইনভার্টার ফ্রিজ প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম বিদ্যুৎ খরচ করে। ফলে যেখানে সাধারণ ফ্রিজে মাসে ৯০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়, সেখানে ইনভার্টার ফ্রিজে তা নেমে আসে মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ ইউনিটে। অর্থাৎ, বিদ্যুৎ বিল প্রায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় ছাড়াও ইনভার্টার ফ্রিজের অন্যান্য সুবিধা
দীর্ঘস্থায়ী কম্প্রেসর: ইনভার্টার ফ্রিজের কম্প্রেসর বারবার ঝটকা দিয়ে অন-অফ হয় না। ফলে এর যন্ত্রাংশ সহজে ক্ষয় বা নষ্ট হয় না।
দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি: বর্তমানে অধিকাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনভার্টার ফ্রিজের কম্প্রেসরের ওপর ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদের ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: এসির চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে যে বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলো
ইন-বিল্ট স্ট্যাবিলাইজার: বেশিরভাগ আধুনিক ইনভার্টার ফ্রিজেই ইন-বিল্ট স্ট্যাবিলাইজার বা ভোল্টেজ সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকে। ফলে বিদ্যুৎ ও ভোল্টেজের তীব্র ওঠানামার মধ্যেও ফ্রিজটি সুরক্ষিত থাকে।
এজেড



