অনেকেই ইন্টারনেটের ধীরগতি নিয়ে অভিযোগ করেন এবং মনে করেন আইএসপি কোম্পানিগুলো তাদের প্রতিশ্রুত গতির চেয়ে কম ইন্টারনেট দিচ্ছে। সম্প্রতি প্রযুক্ত বিষয়ক লেখক কনিকা গগিয়া তার অভিজ্ঞতার আলোকে জানিয়েছেন, অনেক সময় আইএসপি নয়, বরং রাউটারের কিছু 'স্মার্ট' সেটিংসই ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়। তিনি তার রাউটারে দুটি সেটিংস পরিবর্তন করে ইন্টারনেটের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে নিয়েছেন।
যে দুটি সেটিংস গতিরোধক হিসেবে কাজ করে-
১. ব্যান্ড স্টিয়ারিং (Band Steering) বন্ধ করা
সাধারণত আধুনিক রাউটারে ২.৪ গিগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড মিলিয়ে একটিই ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক থাকে। রাউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় কোন ডিভাইস কোন ব্যান্ডে চলবে। কিন্তু অনেক সময় এটি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুতগতির ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড থেকে ডিভাইসকে ধীরগতির ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডে পাঠিয়ে দেয়। লেখক এটি বন্ধ করে দুটি আলাদা নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন এবং তার প্রধান ডিভাইসগুলোকে ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে যুক্ত করেছেন, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে গতির উন্নতি হয়েছে।

২. কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিওএস) নিষ্ক্রিয় করা
বিজ্ঞাপন
কিওএসমূলত বিভিন্ন অ্যাপের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে অগ্রাধিকার দেওয়ার কাজ করে। তবে এটি রাউটারের প্রসেসরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে, কারণ প্রতিটি ডেটা প্যাকেটকে এটি পরীক্ষা করে পাঠাতে হয়। লেখক জানিয়েছেন, কিউওএস বন্ধ করার ফলে তার রাউটারের নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স অনেকটা খুলে গেছে এবং ডাউনলোড গতি আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাউটার কেনার আগে এই ৫টি বিষয়ে জানা জরুরি
পরামর্শ
সব রাউটারের ক্ষেত্রে এই সেটিংসগুলো খারাপ নয়। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বা আধুনিক রাউটারে (Wi-Fi 6E বা Wi-Fi 7) এই ফিচারগুলো কার্যকর হতে পারে। তবে আপনার রাউটারে যদি ইন্টারনেটের গতি সবসময় পরিকল্পনার চেয়ে কম পাওয়া যায়, তবে এই দুটি সেটিংস পরিবর্তন করে পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। এছাড়া রাউটারের ফার্মওয়্যার আপডেট রাখা এবং কম জনাকীর্ণ ওয়াইফাই চ্যানেল নির্বাচন করাও গতি বাড়াতে সহায়ক।
এজেড




