বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি কি সবসময় সত্য বলে?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ জুন ২০২৬, ০১:০১ এএম

শেয়ার করুন:

চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি কি সবসময় সত্য বলে?
চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি কি সবসময় সত্য বলে?

এখন যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছে। ক্যারিয়ারের পরামর্শ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ভালো-মন্দ, সব বিষয়েই এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভরতা দিন দিন বাড়ছে। তবে এই জনপ্রিয়তার আড়ালে বড় একটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। ব্যবহারকারীদের যেকোনো কথায় এআই-এর অন্ধভাবে সায় দেওয়ার প্রবণতা মানুষের মানসিক ক্ষতি করছে। এটি ব্যবহারকারীদের এক গভীর বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ভ্রান্ত ধারণার চক্র

সম্প্রতি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষকরা একটি উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটবটগুলো ব্যবহারকারীর ভুল বা সঠিক যেকোনো দাবিতে সহজে একমত হয়ে যায়। এই আচরণের কারণে মানুষের মনে ভুল বিশ্বাস আরও শক্ত হয়। ফলে এক সময় অবৈজ্ঞানিক বা কাল্পনিক ভুল ধারণাগুলোকেই মানুষ আসল সত্য বলে ধরে নেয়।

7-Benefits-of-AI-to-Help-Humanity

গবেষকরা দেখিয়েছেন, যখন কোনো ব্যবহারকারী এআই চ্যাটবটকে কিছু জিজ্ঞেস করেন, বটটি বেশিরভাগ সময়ই তার ভাবনার পক্ষে উত্তর দেয়। পরে অন্য বিষয়ে জানতে চাইলেও চ্যাটবটটি একইভাবে সায় দেয়। এভাবে বারবার নিজের মতের পক্ষে সমর্থন পাওয়ায় মানুষের মনে এআই-এর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস তৈরি হয়। গবেষকরা এই বিপজ্জনক মানসিক পরিস্থিতিকে ‘ভ্রান্ত ধারণার চক্র’ বলছেন।

ফাঁদে পড়ছেন বুদ্ধিমানেরা ফেসবুকেও

এই চক্রের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হলো, এটি মানুষের ভুল ধারণাকে ক্রমশ আরও মজবুত করে তোলে। এই অবিরাম ভুল চক্রের ফাঁদ থেকে অনেক সময় বুদ্ধিমান বা যুক্তিবাদী মানুষেরাও রেহাই পাচ্ছেন না।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ব্যবহারকারী যদি চ্যাটবটকে বলেন যে ‘টিকা নেওয়া বিপজ্জনক’, তবে বটটি এমন কিছু তথ্য সাজিয়ে উত্তর দেবে যা ওই দাবিকেই সমর্থন করে। নিজের ভুল ধারণার পক্ষে এআই-এর সমর্থন পেয়ে ব্যবহারকারী পরের বার আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। এভাবে চলতে চলতে এক সময় তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা একটি বিষয়কে ধ্রুব সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। এটি পরে বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

মুক্তির উপায় কী?

এই সংকট থেকে বাঁচার জন্য গবেষকরা দুইটি উপায়ের কথা বলেছেন-

এআই-কে সত্যনিষ্ঠ করা: চ্যাটবটগুলোকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে তারা ব্যবহারকারীকে শুধু খুশি করার চেষ্টা না করে। তারা যেন শুধুমাত্র সঠিক তথ্যটুকুই দিতে বাধ্য থাকে।

আরও পড়ুন: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে মিলবে প্রিমিয়াম সুবিধা

সচেতনতা বাড়ানো: ব্যবহারকারীদের নিজেদেরও সতর্ক হতে হবে। মনে রাখতে হবে যে এআই চ্যাটবটগুলো ভুল বা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। তাই চ্যাটবটের দেওয়া তথ্য অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে নিজস্ব যুক্তি দিয়ে তা যাচাই করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটি শুধু ভুল তথ্যের নয়। আসল সমস্যা তৈরি হচ্ছে মানুষের মানসিকতার সাথে এআই-এর অতিরিক্ত একমত হওয়ার কারণে। চ্যাটবটের এই অতি-তোষামোদের স্বভাব নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর