ইনস্টাগ্রামে দ্রুত রিচ পাওয়া বা ভাইরাল হওয়ার কোনো অলৌকিক চাবিকাঠি নেই, তবে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় এবং কার্যকর শর্টকাটটি লুকিয়ে আছে আপনার নিজের ভাষার মধ্যে। আজকাল বেশিরভাগ নতুন ক্রিয়েটর ইংরেজিতে কনটেন্ট তৈরি করে ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামছেন। কিন্তু মাসের পর মাস হাড়ভাঙা খাটুনির পরও অনেকের ভাগ্যে জুটছে কেবলই হতাশা। অপরদিকে, যারা জোর করে ইংরেজি না বলে বাংলা, হিন্দি বা অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় রিলস বানাচ্ছেন, তারা খুব সহজেই বাজিমাত করছেন। নিজের ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলে কীভাবে ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার এবং আয় দুটাই বাড়িয়ে নেওয়া যায়, তার সহজ কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো।
স্থানীয় ভাষার জাদুকরী ক্ষমতা
বিজ্ঞাপন
মানুষ যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মাতৃভাষায় কোনো ভিডিও দেখে, তখন সেটির সঙ্গে খুব দ্রুত মানসিক সংযোগ বা ইমোশনাল কানেকশন তৈরি হয়। ইংরেজি রিলস অনেক সময় সাধারণ দর্শকের কাছে কিছুটা দূরের বা কৃত্রিম মনে হতে পারে। কিন্তু নিজের ভাষায় তৈরি কনটেন্ট দর্শককে বেশি টানে, যার ফলে তারা ভিডিওতে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার এবং সেভ করতে দুবার ভাবেন না।
কম্পিটিশন বা প্রতিযোগিতা অনেক কম
ইংরেজি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি, ফলে সেখানে টিকে থাকা বেশ কঠিন। সেই তুলনায় বাংলা বা অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় মানসম্মত, বাস্তবসম্মত এবং বিনোদনমূলক কনটেন্ট তৈরির মানুষের সংখ্যা এখনও অনেক কম। বাজারে যেখানে প্রতিযোগিতা কম, সেখানে একটু ভালো কাজ করলেই অ্যালগরিদম সেই ভিডিওকে দ্রুত লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়।
তৈরি হয় বিশ্বস্ত ফলোয়ার বেস
বিজ্ঞাপন
নিজের ভাষায় কথা বলা ক্রিয়েটরদের দর্শক খুব দ্রুত ‘নিজের মানুষ’ হিসেবে গ্রহণ করে। এই লয়্যাল বা বিশ্বস্ত অডিয়েন্সরা শুধু একবার ভিডিও দেখেই চলে যান না, তারা নিয়মিত আপনার অ্যাকাউন্টে চোখ রাখেন। ভবিষ্যতে ব্র্যান্ড প্রমোশন বা যেকোনো উপায়ে আয়ের ক্ষেত্রে এই বিশ্বস্ত ফলোয়াররাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন।

সফল হওয়ার কিছু দরকারি টিপস
কথ্য ভাষার ব্যবহার: আপনি প্রতিদিন যেভাবে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন ঠিক সেভাবেই ভিডিওতে কথা বলুন। জোর করে বুকিশ ইংরেজি বা কৃত্রিম উচ্চারণ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
আঞ্চলিক ও চেনা বিষয়: আপনার চারপাশের চেনা শহর, গ্রাম, ঐতিহ্যবাহী খাবার, উৎসব কিংবা প্রতিদিনের জীবনের ছোটখাটো মজার ঘটনা ও সমস্যা নিয়ে রিলস তৈরি করুন।
সহজ উপস্থাপনা: রিলস ভাইরাল করার জন্য দামি ক্যামেরা বা জটিল এডিটিংয়ের কোনো দরকার নেই। পর্যাপ্ত আলো, পরিষ্কার সাউন্ড এবং আপনার আন্তরিক উপস্থাপনা থাকলেই দর্শক সেটি লুফে নেবে।
আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপে আসছে বড় পরিবর্তন, এক নজরেই দেখা যাবে কে কখন অনলাইন
ট্রেন্ডের সঙ্গে লোকাল টুইস্ট: ইনস্টাগ্রামের ট্রেন্ডিং অডিও বা মিউজিকগুলো অবশ্যই ব্যবহার করবেন, তবে তার সাথে নিজের ভাষা এবং নিজস্ব স্টাইলের একটা মিশ্রণ ফুটিয়ে তুলুন।
নিয়মিত পোস্ট করা: কনটেন্ট তৈরিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। চেষ্টা করুন সপ্তাহে অন্তত ৫ থেকে ৭টি রিলস আপলোড করতে।
বাস্তব ফলাফল
অনেক ক্রিয়েটরের ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, আগে যেখানে ইংরেজি কনটেন্ট বানিয়ে তারা মাত্র ১ থেকে ২ হাজার ভিউ পেতেন, সেখানে মাতৃভাষায় ভিডিও করা শুরু করার পর ভিউয়ের সংখ্যা প্রতিদিন ১ থেকে ১০ লাখে গিয়ে ঠেকেছে। এর একমাত্র কারণ হলো, মানুষ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘নিজেদের মতো’ সাধারণ ও বাস্তব মানুষকে বেশি দেখতে পছন্দ করে। তাই ইংরেজির পেছনে অন্ধের মতো না ছুটে নিজের ভাষাকেই আপনার শক্তির জায়গা বানিয়ে নিন।
এজেড




