আপনার পুরনো স্মার্টফোনটি কি ঘন ঘন হ্যাং করছে? অথবা সাধের ফোনটির ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে? এর ওপর যদি কাঙ্ক্ষিত পঞ্চম প্রজন্ম বা ফাইভজি (5G) ইন্টারনেটের গতি ঠিকঠাক না পাওয়া যায়, তবে তা সত্যিই বিরক্তিকর। বাজারে এমন কিছু চমৎকার ফাইভজি স্মার্টফোন পাওয়া যাচ্ছে, যা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং শক্তিশালী ক্যামেরার দারুণ সমন্বয়। এই বাজেটে পোকো, রেডমি, রিয়েলমি, মোটো এবং আইকিউওও এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো তাদের শক্তিশালী প্রসেসর সমৃদ্ধ ফোন বাজারে নিয়ে এসেছে।
পোকো এক্স৭ ফাইভজি
বিজ্ঞাপন
গেমার এবং দৈনন্দিন ভারী কাজ করার জন্য এই ফোনটি অন্যতম সেরা একটি পছন্দ হতে পারে। এই মডেলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৭৩০০ আল্ট্রা প্রসেসর এবং ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেটের অ্যামোলেড ডিসপ্লে। ফোনটির অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এর শক্তিশালী ৬০০০ এমএএইচ ব্যাটারি। এ ছাড়া নিখুঁত ছবি তোলার জন্য এতে রয়েছে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা ওআইএস সুবিধাসহ ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা।
রিয়েলমি নারজো ৭০ টার্বো ফাইভজি
খুব দ্রুত ও স্মুথ পারফরম্যান্স দেওয়ার জন্য এই ফোনে একটি বিশেষ টার্বো চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য রিলস বা ভিডিও তৈরি করা থেকে শুরু করে পড়াশোনা সব কাজের জন্যই এটি দারুণ কার্যকরী। ফোনটিতে রয়েছে একটি ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ছবি তোলার জন্য ৫০ মেগাপিক্সেলের সনি ক্যামেরা। এর ১২০ হার্টজ ডিসপ্লে স্ক্রিন স্ক্রলিংয়ের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করে তোলে।
রেডমি নোট ১৪ ফাইভজি
বিজ্ঞাপন
স্বল্প বাজেটের মধ্যে যারা একটি ব্যালেন্সড বা সবদিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্মার্টফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত। এতে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরের পাশাপাশি রয়েছে ৫৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি এবং ১০৮ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা। অফিসিয়াল কাজ, অনলাইন ক্লাস কিংবা শখের ফটোগ্রাফির জন্য এই ফোনটি বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেয়।

মোটো জি৮৫ ফাইভজি
কোনো ধরনের বাড়তি অ্যাপের ঝামেলা ছাড়া একদম ক্লিন সফটওয়্যার এবং চমৎকার কার্ভড ডিসপ্লের জন্য এই ফোনটি প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এর পি-অ্যামোলেড (pOLED) ডিসপ্লে, স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর এবং ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপের কারণে ফোনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলেও ল্যাগ বা হ্যাং ছাড়াই স্মুথ পারফরম্যান্স বজায় রাখে।
আইকিউওও জেড১০ ফাইভজি
গতিশীল কার্যক্ষমতা এবং দ্রুত চার্জিং প্রযুক্তির জন্য এই ব্র্যান্ডটি বেশ পরিচিত। এই মডেলে রয়েছে ৭৩০০ এমএএইচ এর এক বিশাল ব্যাটারি এবং একটি উন্নত কুলিং সিস্টেম বা ঠান্ডা রাখার প্রক্রিয়া। ফলে একটানা গেমিং কিংবা একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার বা মাল্টিটাস্কিং করলেও ফোনটি সহজে গরম হয় না।
আরও পড়ুন: ঈদুল আজহায় নতুন ভেরিয়েন্টে এলো অপো এ৬কে
নতুন ফোন কেনার আগে যা খেয়াল রাখবেন
অভিজ্ঞ প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে একটি ভালো ফোন কিনতে গেলে অন্তত ৮ জিবি র্যাম (RAM) এবং ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ বা মেমোরি থাকা ভ্যারিয়েন্ট বেছে নেওয়া উচিত। সেই সাথে ডিসপ্লেতে যেন ন্যূনতম ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট এবং ব্যাটারির সক্ষমতা ৫০০০ এমএএইচ বা তার বেশি থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। সর্বোপরি, ডিভাইসটি যেন অবশ্যই ফাইভজি নেটওয়ার্ক সমর্থন করে এবং আপনার এলাকায় ব্র্যান্ডটির ভালো সার্ভিস সেন্টার ও ওয়ারেন্টি সুবিধা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে।
এজেড




